সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী

ছোটবেলায় বাবা-মায়ের মুখে গান শুনেই গানের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। আর সেই আকর্ষণের বলেই আজ তিনি পুরোদস্তুর সংগীতশিল্পী। কণ্ঠে যেমন সুরেলা আওয়াজ তেমনি কীবোর্ডে মসৃণ হস্তচালনা। মাথায় যা আসে কীবোর্ডে তাই ভাসে। যার কথা বলা হচ্ছে তিনি সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বালাম। আমাদের এবারের লুকব্যাক বিভাগে তার সাথে কথা বলেছেন সাবেরা সাথী

আপনার প্রথম গাওয়া গান কোনটি?

এই মুহূর্তে যতদূর মনে পড়ে গানটি ছিল ‘ইস্টিশনের রেলগাড়িটা’।

নিজের প্রথম গাওয়া গান কোনটি?

নিজের প্রথম গানটির শিরোনাম ছিল ‘কৈশোর’। গানটি আমার খুব প্রিয়। যেহেতু প্রথম গান তাই বলা যায় সন্তানতুল্য। পরবর্তীতে এই গানটি ওয়ারফেজ নিয়েছিল।

আপনার সেরা পাঁচটি গান যদি বাছাই করতে বলা হয়, তবে কোন পাঁচটি গানের কথা বলবেন?

আসলে অনেক গানই প্রিয়। সেখান থেকে পাঁচটি গানকে সেরা বলা আমার জন্য খুবই কষ্টকর। তারপরও যদি বলতে হয় তাহলে প্রথম বলবো, ‘পৃথিবীর সব আনন্দ’ দ্বিতীয় গানটি হলো ‘যতদূরে’, এর পরের তিন গান বলবো ‘বালাম’ অ্যালবাম থেকে। বালাম অ্যালবামের ‘এক মুঠো রোদ্দুর’, ‘তোমার জন্য’ ও ‘বিরহের সাম্পান’।

গান করার অনুপ্রেরণা কোত্থেকে পান?

প্রথমত পরিবার থেকে। আমার বাবা-মা দু’জনই গান করতেন। তাই ছোটকাল থেকেই গান শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। বলা যায়, সে কারণেই গানের পোকা আমার মাথায় বাসা বেঁধেছিল। আর অনুপ্রেরণাটাও মূলত পরিবার থেকেই পাই। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, ছোটবেলা থেকেই যেহেতু টুকটাক গান করতাম তাই মাঝে মাঝে টুকটাক অ্যাপ্রিসিয়েশনও কপালে জুটতো। এটাও অনুপ্রেরণায় অন্যতম উৎস ছিল।

আপনার কাছে গানের সংজ্ঞা কী?

এটার উত্তর আমার কাছে খুব সাদামাটা। কানে শুনতে যেটা ভালোলাগে সেটাই আমার কাছে গান। একটি গান শোনার পরে যদি তা এক কান দিয়ে প্রবেশ করে অন্যকান দিয়ে বেরিয়ে যায় তবে সেটাকে গান বলা উচিত হবে না। গান হচ্ছে সেই জিনিস যেটা শুনলে শ্রোতার মধ্যে অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

গানের ক্ষেত্রে আপনার আইডল কে?

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার জন্য অসম্ভব। কারণ কখনোই কোন একজনের গান অন্ধভাবে ভালো লাগেনি বা ফলো করিনি। হয়তো একজন অ্যালবামের একটি গান ভালো লেগেছে বাকী গানগুলো ভালো লাগেনি। আবার এমনও হয়েছে কোনো শিল্পীর অ্যালবামের অধিকাংশ গানই ভালো লেগেছে। আমার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে। তাই এককভাবে কাউকে আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করা খুব কষ্টকর।

গায়ক না হলে কী হতেন?

এখন যেটা মনে হয়, যদি গায়ক না হতাম হয়তো নাইন টু ফাইভ কোন চাকরিতে জড়িয়ে পড়তাম। কিন্তু আমার দ্বারা আসলে হয়তো সেটা সম্ভব হতো না। কারণ, আমি খুব চিন্তা-ভাবনা করেই মিউজিককে পেশা হিসেবে নিইনি। ছোটবেলা থেকে গান করতে করতে কীভাবে যেন আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছি নিজেও টের পাইনি। তবে একটা সময় মনে হয়েছে আমার দ্বারা গান ছাড়া আর কিছু সম্ভব নয়। তখন থেকেই মূলত পেশা-নেশা হিসেবে গানকেই বেঁছে নিয়েছি।

আগামীতে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

আমার ধ্যান-জ্ঞান এখন সম্পূর্ণ মিউজিককে ঘিরে। তাই ভবিষ্যতেও নিজেকে মিউজিক সংশ্লিষ্ট একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। তবে অবশ্যই সে জায়গাটা হতে হবে আমার বর্তমান অবস্থান থেকে অনেক উঁচুতে। মিউজিক নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। সংগীতের ভেলায় ভেসে যতদূর যেতে পারবো ততদূর যাবো, এটাই আমার দৃঢ় প্রত্যয়।

গান নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

আমি আসলে পরিকল্পনা করে কিছু করতে পারি না। সাধারণত খুব অগোছালো টাইপের একজন মানুষ। তবে যেভাবে চলছে সেভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তবে স্বপ্ন দেখি একদিন আমার গান গোটা বিশ্বের মানুষ শুনবে। মিউজিক নিয়ে থাকতে চাই, এমন কিছু সৃষ্টি করতে চাই যা আমার অনুপুস্থিতিতেও আমাকে মনে করিয়ে দেবে।

[ad#co-1]