‘অ্যালবামটি ভাষা আন্দোলনের স্মারক’

গল্প অন্তরাল
চলচ্চিত্র, গান কিংবা নাটক তৈরির অন্তরালেও তৈরি হয় আরো এক নাটক, নতুন কোনো গল্প। না-বলা সেই সব ঘটনা কিংবা গল্প নিয়ে এ আয়োজনএকুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে একুশের গান নিয়ে লেজার ভিশন থেকে প্রকাশ পেল শিমুল ইউসুফের অ্যালবাম ‘একুশের গান’। অ্যালবাম তৈরির অনুভূতি ও নানা ঘটনা নিয়ে আজকের
গল্প অন্তরাল বিভাগে কথা বলেছেন শিমুল ইউসুফ

‘একুশের গান’ অ্যালবামটি ভাষা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তির একমাত্র স্মারক। অ্যালবামটি সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগেই প্রথম প্রকাশ করেছিলাম ২০০২ সালে। ২১ ফেব্রুয়ারির ৫০ বছর পূর্তিতে সরকারিভাবে যখন বাংলা ভাষার চেতনানির্ভর কোনো উদ্যোগই নেওয়া হলো না, তখন এ অ্যালবামটি তার কিছুটা অভাব পূরণ করেছিল।
২০০০ সাল থেকেই অ্যালবামটি তৈরির পরিকল্পনা শুরু। উৎসাহ এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন আমার স্বামী নাসির উদ্দীন ইউসুফ। আমার মনে হচ্ছিল, একুশের গানগুলো কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু একটা করার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। আমি গান বাছাই করতে শুরু করলাম। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’, ‘হে মহাক্ষুধা’, ‘রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা’ এবং ‘কুমড়ো ফুলে ফুলে’সহ ১১টি গান বাছাই করি, গানগুলো একুশে ফেব্রুয়ারিকে সত্যিকারভাবে ধারণ করে আছে। গানগুলোর সংগীতায়োজনের দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের তবলাবাদক মো. শাহনেওয়াজ। তিনি সুরকার আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে বাজাতেন, গানগুলো সম্পর্কে তার ধারণা ছিল স্বচ্ছ। আমি নিজেও শহীদ আলতাফ মাহমুদ ও শেখ লুৎফর রহমানের কাছে দীর্ঘদিন গণসংগীত ও নজরুলসংগীত শিখেছি। এ গানগুলোও তাঁদের কাছ থেকেই শিখেছি। চেষ্টা করেছি গানের কথা সুর যেন কোনোভাবেই বিকৃত না হয়। কাজ শেষ করতে আমাদের সময় লেগেছে ছয় মাস। রেকর্ডিং শেষে অ্যালবাম প্রকাশ নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়া পেলাম না। তাই নিজ খরচেই অ্যালবামটি প্রকাশ করলাম। অ্যালবামটির কপি বাজারে শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন দুটি গানসহ দ্বিতীয়বারের মতো লেজার ভিশন থেকে প্রকাশ করি।

[ad#co-1]