মুন্সীগঞ্জ হাইস্কুলের মিলন মেলা ভাঙ্গলো

জীবন সায়াহ্নে অনেকেই একত্রিত হয়েছিলেন শুক্র ও শনিবার। হারিয়ে গিয়েছিলেন ভিন্ন জগতে। সেই পুরনো বন্ধুদের ছাড়তে কার ভালো লাগে? ’৬৭ ব্যাচের ছাত্র ভারতের বাসিন্দা ড. সমীর কুমার মুখার্জী উড়ে এসেছিলেন আমেরিকা থেকে। এই দুইদিনের ভালো লাগার পর বিদায় নেয়ার কষ্ট এভাবেই বলেন, জীবনের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, শ্রেষ্ঠ মাটি আর শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্টঃ আমি বুঝাতে পারবো না।

মুন্সীগঞ্জ হাইস্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি উৎসবের দ্বিতীয় দিনও ছিল সরগরম। দীর্ঘদিন পরে সহপাঠীদের পেয়ে নিজের অজান্তেই হারিয়ে যান স্কুল জীবনের স্মৃতিতে।

সকালে স্কুল মাঠের মঞ্চে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ড. মিজানুর রহমান “শিক্ষার অবক্ষয়- গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়াই কী শিক্ষা?” প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে এই প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, প্রাক্তন ছাত্র আলাউদ্দিন আহম্মেদ, এজেএম ইনামুল ইসলাম বাবুল, গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এম আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মজিদ, মোয়াজ্জেম হোসেন ও গোলাম মাওলা তপন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অধ্যাপক এ ওয়াই এম মহসিন। সিডিএমএ মোবাইল সিস্টেম আবিষ্কারকদের একজন এবং অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিগেশন সিস্টেমের বিশ্বের অন্যতম বিশেষজ্ঞ স্কুলের ছাত্র ড. আব্দুল আউয়াল তাঁর নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বাঙালিরা অনেক বেশী মেধাসম্পন্ন এবং ভালো মানুষ। সঠিকভাবে তাদের গড়ে তোলার অভাব রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উল্লেখ করে দেশ ও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নেও নানা প্রস্তাব দেন বক্তারা।

পরে বিকালের পর্বে প্রাক্তন ছাত্র ও তাদের পরিবারবর্গদের নিয়ে বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম ফখরুল আলম আরমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সভাপতি মাহফুজুর রশিদ নিলু সমাপনী ভাষণ দেন। পরে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই মিলনমেলা ভেঙ্গে যায়।

পুরো অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন মাসুম চৌধুরী, আলমাস শিমুল, নাফিজা হাদী লিপা ও পান্না ঘোষাল গীতিকা।
ইত্তেফাক
————————————————————

হাসি-কান্নায় সম্পন্ন মুন্সীগঞ্জ হাইস্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি উৎসব

জীবন সায়াহ্নে অনেকেই একত্রিত হয়েছিলেন শুক্র ও শনিবার। হারিয়ে গিয়েছিলেন ভিন্ন জগতে। সেই পুরনো বন্ধুদের ছাড়তে কার ভাল লাগে? ‘৬৭ ব্যাচের ছাত্র ভারতের বাসিন্দা ড. সমীর কুমার মুখাজর্ী উড়ে এসেছিলেন আমেরিকা থেকে। এ দু’দিনের ভাল লাগার পর বিদায় নেয়ার কষ্টে এভাবেই বলেন, জীবনের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, শ্রেষ্ঠ মাটি আর শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট… আমি বুঝাতে পারব না।

মুন্সীগঞ্জ হাইস্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি উৎসবের দ্বিতীয় দিনও ছিল সরগরম। দীর্ঘদিন পরে সহপাঠীদের পেয়ে নিজের অজানত্মেই হারিয়ে যান স্কুলজীবনের স্মৃতিতে।

সকালের স্কুল মাঠের মঞ্চে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ড. মিজানুর রহমান ‘শিার অবয়_ গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়াই কী শিা?’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে এ প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, প্রাক্তন ছাত্র আলাউদ্দিন আহম্মেদ, এজেএম ইনামুল ইসলাম বাবুল, গ্রম্নপ ক্যাপ্টেন (অব) এম আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মজিদ, মোয়াজ্জেম হোসেন ও গোলাম মাওলা তপন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অধ্যাপক এওয়াইএম মহসিন। সিডিএমএ মোবাইল সিস্টেম আবিষ্কারকদের একজন এবং অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিকেশন সিস্টেমের বিশ্বের অন্যতম বিশেষজ্ঞ স্কুলের ছাত্র ড. আব্দুল আউয়াল তাঁর নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বাঙালীরা অনেক বেশি মেধাসম্পন্ন এবং ভাল মানুষ। সঠিকভাবে তাদের গড়ে তোলার অভাব রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উলেস্নখ করে দেশ ও এ বিদ্যালয়ের শিার মান উন্নয়নেও নানা প্রসত্মাব দেন বক্তারা।

মধ্যাহ্ন ভোজের আগ পর্যনত্ম চলে এ প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা। পরে বিকেলের পর্বে প্রাক্তন ছাত্র ও তাদের পরিবারবর্গকে নিয়ে বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস। এতে আনন্দের বিশেষ এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম ফখরম্নল আলম আরমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সভাপতি মাহফুজুর রশিদ নিলু সমাপনী ভাষণ দেন। পরে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে। তখনই যেন বাজতে থাকে আবার জমবে মেলা হাটতলা বটতলা…। কান্নার রোল পড়ে যায়। এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন দু’ছাত্র ভারত-বিক্রমপুর ফ্রেন্ডশিপ ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানরঞ্জন দাস ও বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর ফ্রেন্ডশিপ ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি সভাপতি জাহাঙ্গীর সরকার মন্টু যৌথভাবে ঘোষণা দেন দু’বাংলার বন্ধুত্ব সমুন্নত রাখার।
পুরো অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন মাসুম চৌধুরী, আলমাস শিমুল, নাফিজা হাদী লিপা ও পান্না ঘোষাল গীতিকা।

জনকন্ঠ
————————————————————–

মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি
দীর্ঘদিন পর দেখা কোলাকুলি…
তানভীর হাসান, মুন্সিগঞ্জ
সমীর কুমার মুখোপাধ্যায় ও এ কে এম ফখরুল আলম। দুজনই ১৯৬৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পরপরই সমীর কুমার ভারতে চলে যান। গতকাল শনিবার সেই বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণেই দুজনের দেখা। কোলাকুলি। আনন্দ আর আবেগে একপর্যায়ে তাঁদের যেন কেঁদে ফেলার উপক্রম।

মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমীর কুমার ও ফখরুল আলমের মতো অনেকেরই মধ্যে দেখা গেছে এমন আবেগের প্রকাশ। স্মৃতিচারণায় তাঁরা ফিরে গেছেন সেই কৈশোরে।

দীর্ঘ ৪২ বছর পর সহপাঠীর সঙ্গে দেখার অনুভূতি কেমন জানতে চাইলে সমীর কুমার বলেন, ‘যেটুকু দেখলেন তা বাইরের। ভেতরে যে কী আবেগ কাজ করছে বলে বোঝাতে পারব না।’ সমীর কুমার বর্তমানে কলকাতার মাল্টিপ্লেস গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা। আর ফখরুল আলম মালয়েশিয়া পাম অয়েল কোম্পানির নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক।

মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, ‘সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে, ভালো লাগছে। পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ছে।’ অনুষ্ঠানে ভারত থেকে ১১ জন প্রাক্তন ছাত্র এসেছেন।
’৬০ সালের ব্যাচের ছাত্র কৌতুক অভিনেতা টেলিসামাদ ক্লাসে শিক্ষকদের নানা স্মৃতি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘স্যারকে আমি বলেছিলাম “ত্রিকোণমুখী” হব। আর তাই হতে পেরেছি স্যারদের দোয়ায়। গায়ক, নায়ক ও চিত্রশিল্পী।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যেমন দুষ্টু ছিলাম, তেমনি ছিলাম খেলাধুলায় পারদর্শী।’

একসময়ে সাঁতারে বিদ্যালয়ের জ্ঞানরঞ্জন দাস বেশি খ্যাতি পেয়েছিলেন। ভারত থেকে এসে তিনিও যোগ দিয়েছেন অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে আজ কেমন যে লাগছে তা ভাষায় ঠিক প্রকাশ করা যাবে না। মাতৃভূমির টানে চলে এলাম।’

১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করেছেন মোশারফ হোসেন চৌধুরী। বর্তমানে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে পুরোনো মুখগুলো দেখতে পারছি। সেই সময়ের নানা ঘটনার কথা মনে করে নতুন করে হাসছি।’

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে গতকাল মিলনমেলা মঞ্চে স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। স্মৃতিচারণা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, অধ্যাপক এ ওয়াই এম মহসীন, মাহফুজুর রশীদ, মুজিবুর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। প্রাক্তন ছাত্ররা অনেকে নিজেদের কবিতা আবৃত্তি করেন, কেউ গান গেয়ে আনন্দ দেন। তাঁদের ছেলেমেয়েরাও গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

১৯৮৫ সালে শহরের পুরাতন কাচারীতে মুন্সিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও দি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার সম্পাদক মাহবুবুল আলমসহ খ্যাতিমান অনেকেই এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

প্রথম আলো

[ad#co-1]