পদ্মায় জেগে উঠা চরে নৌচলাচল ব্যাহত

আল আমিন শাওন, শরীয়তপুর: পদ্মার বুকে জেগে উঠা বড় বড় চরে নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় মঙ্গলমাঝি ঘাট- মাওয়া নৌপথ বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। এ রুটে নদীর দীর্ঘ নৌপথজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে জাগছে ডুবো চর। এতে নদীর নৌপথে নৌযান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে এবং জনসাধারণের দুর্ভোগের অন্ত নেই। পদ্মা নদীতে শরীয়তপুর জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি খেয়াঘাট ও ফেরিঘাট রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা জন্য। দক্ষিণাঞ্চলের ছোট-বড় শিল্প কারখানার উৎপাদনী দ্রব্য এবং উৎপাদিত পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবহনের অন্যতম প্রধান ব্যবস্থা এই নদী। কিন্তু নদীর বুকে ব্যাপকহারে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খেয়াঘাটগুলো নদীর এপার থেকে ওপারের পথ পাড়ি দিতে আগের চেয়ে ৬/৭ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘুরে যেতে হয়।

ফেরি, যাত্রীবাহী লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও বিভিন্ন পণ্যবাহী বোট ও ট্রলার গন্তব্যের পথে ছেড়ে যেতে ডুবো চরে আটকা পড়ছে। এতে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য বিঘিœত হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীসাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। মঙ্গল মাঝি ঘাট এলাকার এক ব্যবসায়ী জানায়, নৌযান চলাচলে জনদুর্ভোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতি ছাড়াও নদীর মাঝপথে চর জাগার কারণে স্রোতের গতি পরিবর্তন হয়ে নদীর তীরের দিকে ভাঙনের প্রবণতা প্রকট হয়ে উঠছে। তাছাড়া, দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারী বিভিন্ন যানবাহন পারাপারে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনিক যোগাযোগেও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। কালের আবর্তে সৃষ্ট নতুন নতুন সমস্যা জনজীবনের সার্বিক ব্যবস্থায় চরম সংকটপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারের অভাবে নদীতে বড় বড় আকারে চর জেগে উঠে নাব্যতা হ্রাস পেয়ে নদীর পরিবেশ নানা প্রতিকূলতার শিকার হচ্ছে। ব্যাপক হারে চর জেগে ওঠার কারণে বিভিন্নস্থানে বোরো চাষাবাদে পানি সেচের সংকট দেখা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ প্রকাশ। অভিজ্ঞ মহলের মতে, পদ্মা নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিতে আনতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ব্যবস্থা করা জরুরি।

[ad#co-1]