মুন্সীগঞ্জে সরকারি সম্পত্তি দখল ও আত্মসাতের প্রতিবাদকারী এখন ৩০ মামলার আসামি!

কাজী দীপু, মুন্সীগঞ্জ থেকে: সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের প্রতিবাদবারী মুন্সীগঞ্জে টঙ্গিবাড়ির পাইকপাড়া গ্রামের মো. আলী মৃধা বর্তমানে ৩০ মামলার আসামি। এসব মামলা তার দুই ছেলেকেই আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখলকারী হাবিব গং গত ১৪ বছরে তার নামে এসব মামলাগুলো করেন। বর্তমানে মো. আলী মৃধা ২২টি মামলায় জামিনে রয়েছে। এরইমধ্যে একাধিক মামলায় তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা অবগত হলেও এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারধীন থাকায় তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এই অবস্থায় মো. আলী মৃধা এখন তার পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আব্দুল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, হাবিব গং একাধিকবার প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও লাঞ্ছিত করেছেন। মুন্সীগঞ্জ আদালতে হেরে গিয়ে এখন হাইকোর্টের মাধ্যমে মামলা স্ট্রে করে রেখেছেন। এ জন্য প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

জানা গেছে, উপজেলার আব্দুল্লাপুর ইউনিয়েনের পাইকপাড়া গ্রামের অজিত কুমার গুহ নামের এক ব্যক্তি ৬.৮০ একর সম্পত্তি রেখে যুদ্ধের সময় ভারত চলে যান। পরে তারা ফিরে না আসায় ওই সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এসময় এলাকার শেখ হাবিবুর রহমান খালেক গং ওই সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে দুইটি ভুয়া দলিল তৈরি করে মালিক সেজে ভোগ দখল শুরু করেন।

পরে ব্রড বারলাভ ইন্ডাস্ট্রিজের লেবার অফিসার গ্রামবাসীর পক্ষে ৯৪ সালে মুন্সীগঞ্জ দুর্নীতি ব্যুরোতে জালিয়াতির অভিযোগ করলে তারা তদন্তে গিয়ে সত্যতা পেয়ে হাবিব গংয়ের বিরুদ্ধে ২টি মামলা রুজু করেন। মামলাটি দায়ের করেন তৎকালীন ডিএসবির পরিদর্শক যোগেশ চন্দ্র বর্মন। পরে ওই মামলায় মো. আলী মৃধা আদালতে সাক্ষী দিলে বিচারক হাবিব গংয়ের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৪৭৬ ধারায় মামলা রুজুর আদেশ দেন।

এরপর থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে হাবিব গং ওই প্রতিবাদকারী মো. আলী মৃধার নামে একের পর এক সাজানো মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী মো. আলী মৃধা জানান, তার নামে দায়েরকৃত মামলাগুলো যে সাজানো তার একাধিক প্রমাণ রয়েছে তার কাছে। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের প্রতিবাদ করে ১৪ বছরে ৩০ মামলার আসামি হয়ে এখন মহাবিপদে পড়েছি।

[ad#co-1]