আলুর বাম্পার ফলন

হৈমন্তী শাহনাজ চৌধুরী: দেশে আলুর বাম্পার ফলন হবার পরও আলু চাষীদের মুখে হাসি নেই। চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে অঢেল ভারতীয় আলু চলে আসছে। এছাড়া সরকার প্রথম বারের মত ভারত থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেয়ায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু চলে এসেছে দেশে।

মুন্সিগঞ্জ জেলার মীর কাদিম থানার আলিু চাষীরা বলছেন ’ভারত থেকে আলু আমদানি বন্ধ না করলে আমরা মরে যাব’।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খাদ্যও শস্য উইাং এর উপ-পরিচালক ফজল-ই-এলাহী আমাদের অর্থনীতিকে বলেন গত বছরের চেয়ে আলু চাষের জমির পরিমান কম হলেও আবহাওয়া অনুকূল , সারের দাম কম এবং মোড়ক না হওয়ায় এবছর আলুর ফলন অনেক বেশী হয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টর জমিতে আলু গড় উৎপাদন ছিল ১৪দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন। চলতি বছর প্রতি হেক্টর জমিতে আলুর গড় উৎপাদন হবে ১৬ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। সারের দাম কম হওয়ায় প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ২ মেট্রিক টন করে বেশি ফলন হয়েছে।

তিনি বলেন চলতি বছরে আলু চাষে জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ ল্যাখ ২৫ হাজার হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৭০ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন। ৬ জানুয়ারি ২০১০ পর্যন্ত সার্ভের হিসেব মতে আলু উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার মেট্যিক টন।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রত্যাশা আলুর ফলন আরো বেশি হবে।

গত বছর আলু চাষে জমির পরিমান ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টর। ।আলু উৎপাদন হয়েছিল ৬৭ নলাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। গতবারে আলুরদাম পড়ে যাওয়ায় এ ভচর আলু উৎপাদনের জমির পরিমাল কমে গিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্র হতে জানা গেল মুন্সিগঞ্জে মোট ৩৬হাজার ৬শ ৭০ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরে সেখানে মোট আলু ঋৎপাদন হবে ১১ লাখ মেট্রিক টনের ওপরে।

সারা দেশে ৩০০ টি মিমাগার রয়েছে। এ হিমাগারগুলোতে ২৪থেকে ২৫ লাখ আলু সংরক্ষণ করা যায়। মুন্সিগঞ্জে মোট ৭১ টি হিমাগার রয়েছে। গত বছর চালু ছিল ৫৯ টি হিমাগার । কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায় তারা এ বছরে ৭১ টি হিমাগার চালুর ব্যবস্থা করবে। তাহলে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। বাকি আলু চাষীদের কাছে থেকে যাবে।

সূত্রমতে জানা গেল সারের দাম কম হলেও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ যেমন লেবার কষ্ট, ট্রাক্টর খরচ ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ায় আলুর দাম একবারে কম হবে না। মুন্সিগঞ্জে ১ কেজি আলু উৎপাদনে কমবেশি ৮ টাকা খরচ পড়েছে। হিমাগারে সংরক্ষণ করতে প্রতি কেজি আলুর জন্য খরচ পড়বে ৮ টাকা । সেক্ষেত্রে প্রতি কেজি আলুর দাম হতে পারে ১৬ টাকা থেকে ১৮ টাকা। বর্তমানে আলুর খুচরা বাজার মূল্য প্রতি কেজি ১০ টাকা। ফেব্র“যারী মাসের শেষ দিকে আলু তোলা ষুরু হবে । আলু তেলার পরই আলুে দাম কি হবে তখন বোঝা যাবে। আলুর দাম বাড়বে না কমবে এমুহূর্তে সঠিক কিছু বলতে পারেনি তারা। মীর কাদিম ও টঙ্গিপাড়া থানার চাষঅনা বলেন তাদের ১মণ আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ৫০০ টাকার ওপরে। প্রতি মণ আলুর জন্য ৬০০টাকা দাম পেণেই তাদের পুষিয়ে যাবে।

[ad#co-1]