মুন্সীগঞ্জে রুমা আত্মহননের মূলে ভুয়া কাবিননামা

যে কাবিননামা প্রদর্শন করে কুৎসা রটনায় সামাজিকভাবে হেয় হয়ে আত্ম হননের পথ বেছে নেয় রুমা। সে কাবিনটি ছিল ভুয়া। ঘটনার নায়ক রাজিব গ্রাম্য মোড়ল মোস্তফা বেপারী ও আমিনুল ইসলাম বেপারীসহ ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেটের তৈরি ভুয়া কাবিননামা তৈরির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, ভুয়া কাবিননামাটিতে ঢাকা মিরপুরের কাজী মাওলানা আশরাফ হোসেন সিদ্দিকীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এ কাবিননামাটি ইসু্য করে রাজিবের মা হালিমা বেগমেরুমাকে পুত্রবধূ দাবি করে গত ২৬ জানুয়ারি অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।

এদিকে গত শনিবার কাবিননামায় উল্লিখিত ঠিকানা অনুযায়ী মিরপুর কাজী অফিসে খোঁজ নিয়ে জান গেছে, উলিস্নখিত তারিখ ও ঠিকানায় ঐ দিন রম্নমা ও রাজিবের কোন নিকাহ্ রেজিস্ট্রি হয়নি। এ ব্যাপারে কাজী অফিস সূত্রে জানা যায়, কাবিননামায় উলিস্নখিত নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা আশরাফ হোসেন সিদ্দিকীর স্বার ও সিলমোহরটি তাদের নয়। সত্যতা প্রমাণের জন্য মিরপুর কাজী অফিস কতর্ৃপ অন্যান্য নিকাহ্নামা সাংবাদিকদের খুলে দেখান, তাতে দেখা যায় তাদের স্বার ও সিলমোহরে হোল্ডিং নম্বর রয়েছে, যার নং- ১২/ডি ১৫-২০/১, পলস্নবী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬। অথচ ভুয়া কাবিননামায় ব্যবহৃত সিলমোহরটির মধ্যে কোন হোল্ডিং নম্বর নেই। কেবলমাত্র মিরপুর, ঢাকা-১২২১ এভাবে লেখা রয়েছে। তাছাড়া মাওলানা আশরাফ হোসেন সিদ্দিকীর স্বারটিও নকল করা হয়েছে।

এতে ধারণা করা হচ্ছে হত্যা মামলায় ব্যবহৃত কাবিননামাটি সম্পূর্ণ জাল-জালিয়াতিভাবে তৈরি করা হয়েছে। এদিকে টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশ কাবিননামাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট রিকুইউজিশন পত্র পাঠিয়েছেন। পত্রটি মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট গত ১৩ই ফেব্রম্নয়ারি হসত্মানত্মর করা হয়েছে। মিরপুর থানা পুলিশ তদনত্ম সাপে েটঙ্গীবাড়ী থানায় প্রতিবেদন পাঠাবে বলে জানান তদনত্মকারী কর্মকর্তা এস.আই মাসুদ। এদিকে রম্নমা আত্মহনন ঘটনায় ময়নাতদনত্মের রিপোর্ট টঙ্গীবাড়ী থানায় এসে পেঁৗছেছে। ময়নাতদনত্মের রিপোর্টে রম্নমা আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। বখাটে যুবক উত্ত্যক্তকারী রাজিবের প্রচারণায় ও গ্রাম্য মোড়ল মোসত্মফা বেপারী আমিনুল ইসলামসহ ৮/১০ জন সাঙ্গোপাঙ্গের সামাজিক কুৎসা রটনায় সইতে না পেরে কলেজ ছাত্রী রম্নমা ২৫ জানুয়ারি আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

[ad#co-1]