মুন্সীগঞ্জ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনিশ্চিত

প্রার্থীদের লবিং-গ্রুপিং
১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারপরও প্রার্থীদের কর্মতৎপরতা থেমে নেই। লবিং-গ্রুপিং অব্যাহত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে গত ২ ফেব্রুয়ারি সদর থানাসহ বিভিন্ন ইউনিটের চারটি সম্মেলন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে বাতিল করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জেলা সম্মেলনের আগে ছাত্রলীগের সবকটি ইউনিটের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।

অনুষ্ঠিতব্য জেলা ছাত্রলীগ কমিটি সভাপতি প্রার্থীসহ সাধারণ কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রলীগ সম্মেলন হওয়ার আগে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হোক। তা না হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতারা সমন্বিভাবে কাজ করতে পারবে না। বিঘিœত হবে ছাত্রলীগের কর্মকা- অথবা স্থবির হয়ে পড়বে ছাত্রলীগ। আগে জেলা আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্বে এলে তার সঙ্গে নতুন জেলা ছাত্রলীগের কাজ করতে সুবিধা হবে। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর হয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।

দীর্ঘ সাত বছর পর সম্মেলন হওয়ার খবরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু এর সঙ্গে আছে চাপা ক্ষোভ, কারণ অতীতে কাউন্সিলরদের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না কমিটি গঠনে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানিয়েছেন, এবার কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচন করতে চান। চাপিয়ে দেয়া কোনো পকেট কমিটি এবার তারা মেনে নেবেন না।

আসন্ন জেলা ছাত্রলীগ সম্মেলন অনিশ্চিত হলেও সভাপতি পদ নিয়ে ব্যাপক গ্রুপিং-লবিং হচ্ছে। সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন আরিফুর রহমান খোকন, মনির হোসেন সাগর, আসাদুজ্জামান সুমন, আবুবক্কর সিদ্দিক মিথুন, শেখ মিজান এবং সুমন দেওয়ান। জেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমান খোকন সকল নেতার সমর্থন কামনা করে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনির হোসেন সাগর শহর ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের যুবলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ বিপ্লবের সমর্থিত প্রার্থী। জেলা ছাত্রলীগের স্কুল ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আবুবক্কর সিদ্দিক মিথুন চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থন আদায় করার। শেখ মিজান এবং সুমন দেওয়ান স্থানীয় এমপি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এম. ইদ্রিস আলীর সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত রয়েছেন। আসাদুজ্জামান সুমন চাচ্ছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুজ্জামানের সমর্থন। এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে শ্রীনগর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়াহিদুল হক জিঠু ছাড়া এখনো কারো নাম শোনা যায়নি। জিঠু শ্রীনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের সমর্থিত এবং মনোনীত প্রার্থী বলে জানা গেছে।

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম মাওলা তপন জানান, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা। সদর থানার বিভিন্ন ইউনিটের অনুষ্ঠিতব্য চারটি সম্মেলন স্থগিত হওয়ার কারণে জেলা সম্মেলনও স্থগিত হয়ে গেছে। কবে নাগাদ জেলা সম্মেলন হবে তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি এখন অনিশ্চিত বলা যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে। এই সম্মেলনে গোলাম মাওলা তপন সভাপতি এবং তোফাজ্জল হোসেন তপন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটি গঠনে বরাবরই জেলা আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব থাকে এবং তাদের চাপিয়ে দেয়া কমিটিই মেনে নিতে হয় ছাত্রলীগকে। দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একক কর্তৃত্ব করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন। তার নির্দেশে এবং পছন্দেই অতীতে গঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি। অতীতে তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারীদের তিনি দল থেকে বের করে দিয়েছেন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ আপন ভাই ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনিসুজ্জামানকে জেলা কমিটি থেকে বাদ দেয়া। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জি এম মনসুরও ভিন্নমত পোষণ করায় তিনি একাধিকবার লাঞ্ছিত হয়েছেন এবং মুন্সীগঞ্জের রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মো. মহিউদ্দিনের অবস্থান খুব নড়বড়ে।

[ad#co-1]