মুন্সীগঞ্জে শিক্ষিকা বদলি নিয়ে ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব

কিংকর্তব্যবিমূঢ় থানা শিক্ষা কর্মকর্তা
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বদলি নিয়ে মুন্সীগঞ্জে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। বিধিবর্হিভূতভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতার স্ত্রীকে শহরের দুটি স্কুলে শূন্যপদে বদলি করে আনার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি পৃথকভাবে সুপারিশ করেন। এদিকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে। এতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন থানা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত প্রভা দেবী। এ কারণে সোমবার পর্যন্ত কোনো শিক্ষিকাকে বদলির আদেশপত্র দেননি তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ইদ্রাকপুর ১ নাম্বার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কোর্টগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য ১৮টি আবেদন জমা পড়ে। ৭ ফেব্রুয়ারি সরকারি বিধি মোতাবেক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মীরকাদিমের কাগজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদে সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারকে কোর্টগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ। একইদিন সহকারী শিক্ষিকা লীনা নন্দিকে ইদ্রাকপুর ১ নাম্বার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ায় বদলির সিদ্ধান্ত হয়। সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম ও লীনা নন্দির নিয়োগ একই দিন হওয়ায় লটারির সিদ্ধান্ত হয়। পরে আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম সংগ্রামের স্ত্রী ও সহকারী শিক্ষিকা ফারহানা চৌধুরী রিম্পির পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সুপারিশ করেন কোর্টগাঁও স্কুলে বদলি করে আনার জন্য। ইদ্রাকপুর স্কুলে বদলি করে আনার জন্য সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল কবির মাস্টারের স্ত্রী সামছুন্নাহারের পক্ষে জাতীয় সংসদের তৈরি করা প্যাডে স্থানীয় এমপির স্বাক্ষরকৃত তারিখ বিহীন একটি ডিও লেটার সদর শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়। এতে প্রশাসন বিপাকে পড়লে বদলি কার্যক্রম ঝুলে পড়ে।

সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী শূন্যপদে দুজন সহকারী শিক্ষিকাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারো হস্তক্ষেপ এখানে সমীচীন নয়। আমি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরকারি নিয়ম কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। কোনো অন্যায় এবং অবিচার যাতে না হয় সেদিকে তাকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীর এপিএস বাবুল সরদার বলেন, এক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর জন্য ডিও লেটার প্রেরণের বিষয়টি তারা অবগত। তবে ভুলক্রমে ডিও লেটারে তারিখ দেয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত প্রভা দেবী জানান, শিক্ষিকা বদলি কার্যক্রম নিয়ে অনেক চাপে রয়েছি।

[ad#co-1]