আবারো পিছিয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর টেন্ডার

দাতাদের সিদ্ধান্তহীনতায় আবারো পিছিয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর টেন্ডার। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি এ সেতুর প্রি-কোয়ালিফিকেশন টেন্ডার আহ্বানের কথা ছিলো। কিন্তু দাতাদের সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি বারবার নকশা পরিবর্তনজনিত ব্যয় বৃদ্ধি ও সেতুর রেললাইনের অর্থসংস্থানে বিশ্ব ব্যাংকের অনীহায় টেন্ডার পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

টেন্ডার পিছিয়ে গেলে স্বভাবতই এর প্রভাব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান সরকারের আমলে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও যথাসময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও সংশয় রয়েছে তাদের। যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সোমবার শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, চলতি মাসে দাতাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক হবার কথা। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই প্রি-কোয়ালিফিকেশন টেন্ডার আহ্বান করা হবে। কিন্তু বৈঠকটি চলতি মাসে না হয়ে পরবর্তী মাসে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে যোগাযোগ মন্ত্রীসহ কয়েক মন্ত্রী চলতি মাসের ১১ তারিখে পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রি-কোয়ালিফিকেশন টেন্ডার আহ্বানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দাতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও অর্থ ঘাটতির কারণে শুরু থেকেই এ ঘোষণা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। তার ওপর সেতুর মূল নকশায় বারবার পরিবর্তন ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সংশয় আরো ঘনীভূত হয়। সব যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে ঠিক সেই সময় বিশ্ব ব্যাংক সেতুর ওপর রেললাইন তৈরিতে অর্থসংস্থানে অনীহা প্রকাশ করলে টেন্ডার পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এ নিয়ে দাতাদের সাথে সেতু কর্তৃপক্ষের দফায় দফায় বৈঠক হয়। সবশেষে গত রোববার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় দাতাদের নির্দেশের আলোকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন ডকুমেন্ট দেয়।

যোগাযোগ মন্ত্রী জানান, রোববারের বৈঠকে দাতাদের কাছে প্রি-কোয়ালিফিকেশন ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে। এখন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা বসে এ ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি, পরামর্শ কিংবা সংশোধনী থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাবে। পাশাপাশি দাতাদের কে কোন অংশে অর্থ সহায়তা দেবে তা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয়কে জানাবে। মন্ত্রী বলেন, সেতুটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হলে এ মুহূর্তে টেন্ডার আহ্বানে কোনো বাধা ছিল না।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কথা ছিল ২০০৮ সালে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। কিন্তু পরবর্তী সরকার আমলে প্রকল্পটির স্থান নির্বাচনসহ নানা কারণে জটিলতা দেখা দেয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তাদের মেয়াদের শেষ দিকে প্রকল্পটি ২০০৮ সালে শুরু করে ২০১২ সালে যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমান সরকার পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

শীর্ষ নিউজ ডটকম

[ad#co-1]