মুন্সীগঞ্জে অন্তসত্ত্বা মলি হত্যা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

গৃহবধূ অন্তসত্ত্বা মলি আক্তারকে (২২) হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ঘাতক স্বামী হুমায়ুন কবির খোকা (৩২)। এ অভিযোগ করে লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়ার বাসিন্দা মলির পরিবারের লোকজন জানান, হত্যাকারীদের টাকার জোরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়। এ নিয়ে কেউ যেন মুখ না খোলে তা বন্ধ রাখার জন্য অনবরত হুমকি দিয়ে চলেছে ঘাতক স্বামী হুমায়ুন কবির খোকা। এদিকে মলির তিন বছরে কন্যা সারহা মায়ের অনুপস্থিতিতে এখন নির্বাক।

গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার ওয়ারীর এফএন টাওয়ারে স্বামীর ভাড়া বাসায় প্রাণ হারায় মলি। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর বদচরিত্রের প্রতিবাদ করায় মারপিটের এক পর্যায়ে মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়ে মলি। পরে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু লাশ টানানোর রশি ছিঁড়ে পড়ে নাটক ফাঁস হয়ে যায়। তারপরও রাজধানী ঢাকার এ ঘটনায় কৌশলে লাশ লৌহজং উপজেলার মসদগাঁও কবরস্থানে দাফন করা হয় ময়নাতদনত্ম ছা্ড়াই। লৌহজং থানার ওসি হেলালউদ্দিন জানিয়েছেন, অপরাধটি ঢাকা ওয়ারী থানার। তবে যেহেতু লৌহজংয়ে দাফন করেছে তারপরও বিষয়টির খোঁজখবর করব। তবে এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। ৪ বছর আগে বিয়ে হওয়া মলির বাবার ঘরে সৎমা থাকায় এবং ঘাতক স্বামীর অনবরত হুমকির কারণে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না মলির বাবা সিদ্দিকুর রহমান। তবে মেয়ের এমন মৃতু্যতে শোকে পাথর সিদ্দিকুর রহমান। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঢাকার তাঁতিবাজারে স্বর্ণের কারখানার মালিক হুমায়ুন কবির খোকার উত্থান আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার মতো। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও তার বিরম্নদ্ধে রয়েছে। লৌহজংয়ের কনকসারের বিদপুরের আমজাদ হোসেনের পুত্র খোকা অঢেল অর্থের মালিক হয়ে বেপরোয়া জীবনযাপন শুরম্ন করেন। এ ব্যাপারে হুমায়ুন কবির খোকার সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

[ad#co-1]