প্রতিদিনই বইমেলাকে নতুন মনে হয়

ইমদাদুল হক মিলন
বইমেলার জন্য আমি সারাবছর মুখিয়ে থাকি। মেলা এলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। আমি নিয়মিতই বইমেলায় যাই। এবারো যাচ্ছি। মেলায় পাঠক-ক্রেতারা যে উৎসাহ নিয়ে আমায় ঘিরে ধরে, ছবি তোলে, অটোগ্রাফ নেয়, আমার বই কেনে এটা আমার ভেতরে অন্যরকম অনুরণন সৃষ্টি করে। বইমেলার সঙ্গে আমার এমনই হৃদয়ের বন্ধন যে, একদিন মেলায় না গেলে বিরহকাতর হয়ে পড়ি। ভেতরে ভেতরে দারুণ এক শূন্যতা অনুভব করি। প্রতিদিনই বইমেলাকে আমার কাছে নতুন মনে হয়। এ এক অদ্ভুত অনুভূতি।

এবারের মেলা আমার কাছে আরো নতুন হয়ে ধরা দিয়েছে। এবার ভারমুক্ত, দায়মুক্ত মেলা করতে পারছি। মেলা শুরুর আগেই জাতির জনকের খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার পাশাপাশি বর্ধমান হাউসে ডাকা আন্দোলন জাদুঘরেরও উদ্বোধন করেছেন। একজন সাহিত্যপ্রেমী এবং সাহিত্যিক বলেই ভাষা আন্দোলন জাদুঘর চালুর মধ্যে দিয়ে তিনি আমাদের দায়মুক্ত করলেন। এবার মেলায় প্রধানমন্ত্রীর বইও প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নিজে সবাইকে বই কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে এবার বইমেলা এক বিশাল জায়গায় চলে গেছে।

বইমেলা সম্প্রসারণ কিংবা স্থানান্তরের একটা তর্ক চালু হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি বলবো, বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ ছাড়া বইমেলা তার শ্রী হারাবে। বাংলা একাডেমী, গ্রন্থমেলা এবং অমর একুশে একসূত্রে গাথা। এসব বিতর্ক বাদ দিয়ে আণবিক শক্তি কমিশনের জায়গাটাকে বাংলা একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
প্রতি বছরই আমার নতুন বই প্রকাশ হয়। এবার বেশ কয়টি নতুন বই এসেছে। অনন্য থেকে এসেছে উপন্যাস ‘বন্ধু-বান্ধব’, ‘লিলিয়ান উপাখ্যান’, ‘চাই’, ‘প্রিয় পাঁচ উপন্যাস’, ‘কিশোর উপন্যাস সমগ্র’, ‘কিশোর গল্প সমগ্র’, ‘নায়ক আসেনি’, ছোটদের বই ‘ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে’, প্রথমা থেকে এসেছে উপন্যাস ‘সেই বিদেশি মেয়ে’, নান্দনিক থেকে এসেছে উপন্যাস ‘সেই প্রিয় মুখ’ ও অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে উপন্যাস ‘শ্রাবন সন্ধ্যাটুকু’।

[ad#co-1]