লেখক ভাবনা ও তাদের যত বই

স্বকৃত নোমান
একজন লেখক তখনই লেখক যখন তার লেখা পাঠকের কাছে পৌঁছায়। সারা জীবন কেউ লিখে গেল আর পাণ্ডুলিপিগুলো ঘরে সিন্দুকাবদ্ধ করে রাখল, তবে সেই লেখালেখির মধ্যে কোনো স্বার্থকতা নেই। লেখালেখি একটা যৌথ প্রয়াস। লেখক-প্রকাশক ও পাঠকের যৌথ উদ্যোগে পাঠচর্চার ক্ষেত্র তৈরি হয়। লেখকের সঙ্গে পাঠকের যে যোগসূত্র, সেটা তৈরি করে একুশে বইমেলা। অন্তত বাংলাদেশে এ রকম একটি ধারা ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে। মুক্তধারার চিত্ত বাবুর বইয়ের পসরা এখন জাতীয় উৎসব, জাতীয় গৌরব। ফেব্রুয়ারি এলে সারাদেশের পাঠ-সচেতন মানুষরা একবার হলেও বইমেলায় ঘুরে যান। সাধ্যমতো কিনে নেন প্রিয় লেখকের প্রিয় বইটি। তাই এগারোটি মাস অপেক্ষায় থাকা। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল থেকে শুরু হলো বাঙালির চৈতন্যের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১০। যথারীতি মেলা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলার প্রথম দিনে অনেক বই মেলায় এসেছে। জানুয়ারি থেকে মূলত প্রকাশকদের তৎপরতা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি পুরো মাসেই চলে বই প্রকাশ। প্রতিদিনই আসবে নতুন নতুন বই। বইমেলায় প্রকাশকরা সাধারণত দেশের পরিচিত লেখকদের বই প্রকাশে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এবারও যথারীতি তাই হয়েছে। সবারই কম-বেশি বই বেরিয়েছে, কিছু আছে যন্ত্রস্থ, তবে অবশ্যই ফেব্রুয়ারি নাগাদ মেলায় চলে আসবে। এবারের মেলায় কোন লেখকের কী বই বেরিয়েছে বা বেরুচ্ছে জানা যাক সেই বিষয়ে।

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের চারটি বই প্রকাশিত হচ্ছে। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে বেরিয়েছে আত্মজীবনীগ্রন্থ ‘প্রণীত জীবন’। গতানুগতিক আত্মজীবনীর চাইতে এটি কিছুটা ব্যতিক্রম। গদ্যে কাব্যের স্বাদ। বাল্যস্মৃতির সঙ্গে যোগ হয়েছে বিস্তারিত জীবন-দর্শন। বইটি আলোচিত হবে বলে প্রকাশকের আশাবাদ। কবিতার বই ‘বাল্য প্রেমকথা’ বের করছে পাঠক সমাবেশ, প্রথমা থেকে বেরিয়েছে কবিতার বই ‘নিনাদ’ এবং সময় প্রকাশন থেকে বেরুচ্ছে একটি উপন্যাস।

সোনালি কাবিনের কবি আল মাহমুদের গল্পসমগ্র বেরুচ্ছে অনন্যা থেকে। ‘তোমার রক্তে তোমার গন্ধে’ কবিতার বইটি প্রকাশিত হয়েছে প্রথমা থেকে। বেরুচ্ছে একটি উপন্যাসও।

শক্তিমান কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের নতুন কোনো বই মেলায় বের হচ্ছে না। তবে পূর্বের লেখা তিনটি উপন্যাসিকা ‘শিউলি’, ‘বৃত্তায়ন’ এবং ‘বিধবাদের কথা’ নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।
শিক্ষাবিদ ও লেখক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বই ‘আমার বোকা শৈশব’ বের করেছে সময় প্রকাশন। একই প্রকাশনী থেকে বেরুচ্ছে ‘ওড়াওড়ির দিন’ ও আমার আশাবাদ’।

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের তিনটি উপন্যাস ‘ডিজিটাল হিমু’, ‘শুভ্র গেছে বনে’ ও ‘মাতাল হাওয়া’ বেরুচ্ছে অন্য প্রকাশ থেকে। অšে¦ষা থেকে বেরিয়েছে কিশোর উপন্যাস ‘রাক্ষস ক্ষোক্কস ভোক্কস’ এবং ‘রূপা’।
জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ৬টি বই বেরুচ্ছে এবার। পার্ল পাবলিকেশন থেকে ‘সবুজ ভেলভেট’ তাম্রলিপি থেকে ‘রাশা’, শিখা প্রকাশনী থেকে ‘রবোনিশি’, কাকলী থেকে ‘আরো একটুখানি বিজ্ঞান’ বেরিয়েছে। এছাড়া অনুপম থেকে ‘ভূত সমগ্র’, প্রথমা থেকে ‘ঢাকা নামের শহর’, অনন্যা থেকে ‘কলাম সমগ্র’ বেরুবে।
কবি রফিক আজাদের ‘প্রেমের কবিতা সমগ্র’ বের করছে রোদেলা প্রকাশনী। এটি একটি ভালো কাজ। রফিক আজাদের প্রেমের কবিতার মধ্যে নারীপ্রেমের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। তাঁর নারীপ্রেম শুরু থেকেই দেহজ, কিন্তু সেটা এসেছে নিষ্কলুষ আর ভনিতাহীনভাবে। তাঁর নারীপ্রেম আপাদমস্তকই দেহ-মন সংশ্লিষ্টতার এক অভিন্ন রূপায়ণ। অপরদিকে কবিতার বই ‘সশস্ত্র সুন্দর’-এর নতুন সংস্করণ বের করছে বিভাস প্রকাশনী। ‘প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা’ বের করেছে অšে¦ষা।

প্রতি বইমেলায় বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের একাধিক বই প্রকাশিত হয়। এবারও বেরুচ্ছে। ‘তত্ত্ববাবধায়ক সরকারের দায়ভার’ প্রকাশিত হচ্ছে প্রথমা থেকে। কবিতার বই ‘কবিতা কখনো কখনো রাজনীতির কথা কয়’, প্রবন্ধগ্রন্থ ‘ইতিহাস বিষয়ক’ বেরুচ্ছে সময় থেকে। অনুপম প্রকাশনী থেকে ‘রবীন্দ্রভাবনা ও রবীন্দ্রনাথের চীন সফর ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’, প্রবন্ধগ্রন্থ ‘অধিকার ও প্রতিকার’ প্রকাশিত হবে নালন্দা থেকে। অনন্যা থেকে বেরুচ্ছে ‘মিত্রাক্ষর’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। এ ছাড়া বাংলা একাডেমী থেকে ‘মহাচীনের কথা’ বেরুচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও লেখক আনিসুজ্জামানের নতুন কোনো বই বেরুচ্ছে না। তবে বাংলা একাডেমী থেকে তার সম্পাদনায় ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-২য় খ-’ প্রকাশিত হচ্ছে।

কবির চৌধুরীর অনুবাদ গ্রন্থ ‘যৌবনের গল্প’ বেরুচ্ছে সময় থেকে।
কবি মোহাম্মদ রফিকের কবিতার বই ‘দোমাটির মুখ’ বেরিয়েছে শুদ্ধস্বর থেকে। শৈলী প্রকাশনী বের করেছে ‘গল্প সংগ্রহ’। ‘কাব্য সংগ্রহ’ বেরুচ্ছে ইত্যাদি থেকে।

ষাটের দশকের শক্তিমান কবি আবদুল মান্নান সৈয়দের উপন্যাস ‘ক্ষুধা প্রেম ও আগুন’ এবং ‘ইছামতির এপার-ওপার’ বের করেছে সূচীপত্র প্রকাশনী। একই প্রকাশনী থেকে ‘বাংলা সনেট সংগ্রহ’ ও ‘রবীন্দ্রনাথ থেকে শহীদুল জহির- কথাসাহিত্য প্রসঙ্গ’ বেরুচ্ছে। অনন্যা থেকে ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ এবং পাঠক সমাবেশ থেকে বেরুচ্ছে ‘শুদ্ধতম কবি’ এবং ‘সত্যের মতো বদমাশ’-এর তৃতীয় এবং চতুর্থ সংস্করণ।
ফরহাদ মযহারের প্রায় ৮টি বই বেরুচ্ছে। ঐতিহ্য থেকে ‘গোষ্ঠগান’ ও ‘এবাদতনামা’এর বর্ধিত সংস্করণ। ‘তিমির জন্য লজিক বিদ্যা’, ‘পরিবেশ প্রাণ ও প্রকৃতি’, ‘প্রস্তাব’, ‘বাণিজ্য ও বাংলাদেশের জনগণ’, ‘ক্যামেরাগিরি’, ‘শেষ্ঠ কবিতা’ বের করছে আগামি।

বদরুদ্দীন উমরের বই ‘শিক্ষা ও সংস্কৃতি’ এবং ‘পরিবেশ’ বেরুচ্ছে শ্রাবণ থেকে।
প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদের গবেষণাগ্রন্থ ‘ঢাকার বুদ্ধদেব বসু’ বেরুচ্ছে প্রথমা থেকে। একই প্রকাশনী থেকে বেরোবে প্রবন্ধের বই ‘নির্বাচিত কড়চা’। ইউরোপের ২০ জন বিশিষ্ট লেখক-দার্শনিক নিয়ে লেখা ‘প্রতীচ্য প্রতিভা’ বের করছে লেখালেখি। নবযুগ থেকে বের হয়েছে জীবনীগ্রন্থ ‘হরিশচন্দ্র মিত্র’।

প্রবাসী কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের গল্পগ্রন্থ ‘জীবনে গল্প আছে’ বেরুবে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে। সময় থেকে বেরিয়েছে ‘ছড়ানো জীবনের নানা লেখা’ শীর্ষক প্রবন্ধগ্রন্থ।

গবেষক ও লেখক মুনতাসির মামুনের প্রায় ১৪টি বই প্রকাশিত হচ্ছে। সময় থেকে বেরুচ্ছে ‘পাকিস্তানি জেনারেলদের মন’, অনন্যা থেকে ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ’, ‘ঢাকা সমগ্র-৫’, ‘হান্স আন্ডেরসেনের খোঁজে’, ‘দ্বীপ দ্বীপান্তর’, ‘ইতিহাসের খেরোখাতা-৬’। মাওলা ব্রাদার্স থেকে বেরুচ্ছে ‘দুঃসময়ের দিনগুলো’, ‘ঢাকার স্মৃতি-৯-১০’। সুবর্ণ থেকে বেরুচ্ছে ‘কিশোর সমগ্র-৪’, ‘মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র-১’।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের নতুন উপন্যাস ‘ভূমি ও কুসুম’ প্রকাশিত হচ্ছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে ‘কালি ও কলম’-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এ উপন্যাসের চূড়ান্ত পরিমার্জনাসাপেক্ষে বইটি প্রকাশিত হচ্ছে। ‘নির্বাচিত গল্প’ বের করেছে রোদেলা প্রকাশনী। জনতা প্রকাশ থেকে ছোটদের উপন্যাস ‘পুটুস পুটুসের জন্মদিন’, অন্য প্রকাশ থেকে ‘উপন্যাস সমগ্র-৪র্থ খ-’, সময় থেকে ‘গল্প সমগ্র’, অনন্যা থেকে ‘১০টি উপন্যাস’, বিজয় প্রকাশ থেকে শিশুতোষ গ্রন্থ ‘নীলটুনির বন্ধু’ এবং কথা প্রকাশ থেকে বেরিয়েছে ‘দীপান্বিতা’।

মূলধারার কথাকার আবদুশ শাকুরের বই বেরুচ্ছে প্রায় দশটি। ‘নির্বাচিত গল্প’ বের করেছে রোদেলা প্রকাশনী। সম্পাদিত গ্রন্থ ‘হাস্যশিল্পী সুকুমার রায়’, ‘শিবরামের মজার গল্প’ এবং ‘বাংলা সাহিত্যের সেরা রম্যরচনা’ প্রকাশ করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ঐতিহ্য থেকে বেরোচ্ছে ‘রচনাবলির দ্বিতীয় খ-’, উপন্যাস ‘উত্তর দক্ষিণ সংলাপ’, প্রবন্ধগ্রন্থ ‘নির্বাচিত কড়চা। মাওলা ব্রাদার্স থেকে বেরুচ্ছে ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ ও ‘নির্বাচিত রম্যরচনা’।

কবি মহাদেব সাহার সর্বমোট ৫টি বই প্রকাশিত হচ্ছে এবার। একুশে বাংলা থেকে ‘ও বর্ষা ও বসন্ত’, অনন্যা থেকে ‘প্রেমের কবিতাসমগ্র’ বেরুচ্ছে। প্রথম ৫টি কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধ ‘স্মরণাঞ্জলি বের করছে বিজয়। বিভাস থেকে বেরিয়েছে ‘নির্বাচিত দুশো কবিতা’।
শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের বই ‘হংকং-এর হক্কানী সাহেব’ বের করছে

অন্য প্রকাশ। একই প্রকাশনী থেকে বেরুচ্ছে ‘এক ডজন ছোটকাকু’, কিশোর উপন্যাস ‘দুবাইয়ের দুবে সাহেব’ এবং ‘ভ্রমণ নয়’। অনন্যা থেকে বেরিয়েছে ‘যশোরের সরোবরে’, ‘লাল সবুজের সুর’, ‘মাগুড়া গুঁড়া গুঁড়া’, ‘এক লাফে টেকনাফে’ এবং সময় থেকে ‘কিশোর সমগ্র-৫’ বেরুচ্ছে। বাংলা প্রকাশ থেকে বেরুচ্ছে ‘ছোটদের নাটক’। অšে¦ষা থেকে ‘আমি ও আইসক্রিমঅলা’। পাঞ্জেরি থেকে ‘অন্যরকম পরীক্ষা। তাম্রলিপি থেকে ‘সাইন্স ফিকশন গল্প’।

লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরীর ‘কবির অন্তরমহল : ত্রিশের কবিদের পত্রাবলী’ বের করছে পাঠক সমাবেশ, ‘অবিদ্যার অন্তপুরে’ (নিষিদ্ধপল্লীর অন্তরঙ্গ কথা) বেরুচ্ছে শোভা প্রকাশ থেকে। অšে¦ষা থেকে বেরুচ্ছে ‘ভাষা আন্দোলনের দলিল’ এবং মনন প্রকাশ থেকে বেরুচ্ছে ‘লোক সংস্কৃতির চালচিত্র’।
ঔপন্যাসিক হাসনাত আবদুল হাই-এর ‘উপন্যাস সমগ্র-৩’ বের করছে মাওলা ব্রাদার্স। অনন্যা থেকে ‘গল্প সমগ্র-২’, আগামি থেকে ভ্রমণ কাহিনী ‘সাত দিনের আমেরিকা’, অন্য প্রকাশ থেকে উপন্যাস ‘পানেচার বানুর নকশি কাঁথা’ বেরুচ্ছে।

বিপ্রদাশ বড়–য়ার বই ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও শব্দ সৈনিক’ ও ‘আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বি’ বেরুচ্ছে পার্ল থেকে।
রকীব হাসানের এগারোটি বই বেরুচ্ছে এবার। সাহিত্য বিকাশ থেকে ‘ভিন গ্রহের কিশোর’, ক্যাথার্সিস থেকে ‘কমান্ডো’ এবং ‘হান্টিং লজের রহস্য’, কথামালা থেকে ‘সাইন্স ফিকশন সংকলন’ এবং ‘গোয়েন্দা ভলিউম’।
রশীদ হায়দারের তিনটি বই রিপ্রিন্ট হচ্ছে আর নতুন বই ‘চিম্বুকের নিচে আলোর আভা’ বেরুচ্ছে অনুপম থেকে।
ঔপন্যাসিক আনিসুল হকের প্রতি বছরই একাধিক বই থাকে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। চারটি বই বেরুচ্ছে। সময় থেকে ‘জননী সাহসিনী-১৯৭১’, প্রথমা থেকে ‘সুদূরতমা’, অনন্যা থেকে ‘এই গল্পটা হাসির’, পার্ল থেকে ‘পাই বা নাহি পাই’, ‘রম্য কলাম’, অনুপম থেকে ‘আপা তোমার আব্বুকে একটু আব্বু বলে ডাকিও এবং অন্যান্য’।
চিকিৎসক ও লেখক বরেণ চক্রবর্তীর বই ‘মানসিক অবসাদ ও মুক্তির উপায়’ বের করছে মুক্তধারা।
কথাসাহিত্যিক হরিপদ দত্তের ‘চিম্বুক পাহাড়ের জাতক- ৩য় খ-’ বেরুচ্ছে নালন্দা থেকে। উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ ঠিকানা’ বের করছে রোদেলা প্রকাশনী। ইত্যাদি থেকে বেরুচ্ছে ‘শীতলক্ষ্যা’।

শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের ‘ছড়া আমার ছড়া, ছড়ায় ভুবন ভরা’, ‘চাঁদ উঠবে ফুল ফুটবে ছড়া নাচবে’, ‘লিচু চোর ও অনন্যা ছড়া’ বেরিয়েছে অনন্যা থেকে। ‘জোছনা ও রোদের ছড়া’ বের করছে অনিন্দ্য প্রকাশ। ঝিঙেফুল থেকে বেরুচ্ছে ‘ছোটদের জাদু বাস্তবতার গল্প’। অšে¦ষা থেকে ‘রেড ইন্ডিয়ান রূপকথা’। তাম্রলিপি থেকে ‘আমি সাতটা’। ইতি প্রকাশন থেকে ‘সাতরকম গল্প’। মিজান পাবলিশার্স থেকে ‘বঙ্গবন্ধুর ছাড়া বেরুচ্ছে।
ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের ৪টি বই বেরুচ্ছে। অনন্যা থেকে ‘ছড়া সব করে রব’, পাঞ্জেরি থেকে ‘আমার একটা বেড়াল ছিল’, ইতি প্রকাশন থেকে ‘ওরে আমার ছড়ারে’, অবসর থেকে ‘ছড়া সমস্ত-২য় খ-’ বেরুচ্ছে।
গবেষক আহমাদ মাযহারের ‘আমার উপেক্ষিত কবিতাগুলো’ বেরুচ্ছে সংবেদ থেকে। পাঞ্জেরি থেকে বেরুচ্ছে ‘রূপের ঝিলিক’।

মোহিত কামালের ‘চেনা বন্ধু অচেনা পথ’ এবং গল্প ‘আগুন কয়লায় পোড়া জীবন’ বেরুচ্ছে বিদ্যা প্রকাশ থেকে। তাম্রলিপি থেকে বেরুচ্ছে ‘টিনেজ মন’।

কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারের ‘গল্পসমগ্র’ বের করছে কথা প্রকাশ। রোদেলা থেকে ‘মুসলমানমঙ্গল’-এর দ্বিতীয় মুদ্রণ বেরুচ্ছে।

শাকুর মজিদের ভ্রমণ কাহিনী ‘নদীর নাম তে’ বেরুচ্ছে উৎস থেকে। এছাড়া ‘অবশেষে দ্বীপের দেশে’ বেরুচ্ছে পার্ল থেকে।

প্রচ্ছদকার ও লেখক ধ্রুব এষের বই ‘দূরে সবুজ বনভূমি’ বেরিয়েছে ইত্যাদি থেকে, সময় থেকে বেরিয়েছে ‘ট্রিগার’।
রম্যকার আহসান হাবিবের বই ‘আজি এই বিস্ময়ের রাতে’ বেরুচ্ছে জিনিয়াস পাবলিকেশন্স থেকে।

কথাসাহিত্যক আহমাদ মোস্তফা কামালের প্রবন্ধের বই ‘শিল্পের শক্তি, শিল্পীর দায়’ বেরুচ্ছে এ্যাডর্ন থেকে। অনন্যা থেকে দ্বিতীয় সংস্করণ বেরুচ্ছে ‘আমরা একটি গল্পের জন্য অপেক্ষা করছি’।

নাট্যকার গোলাম শফিকের চারটি বই বেরুচ্ছে। পাঠসূত্র থেকে ‘সুলুক সন্ধান’, উৎস থেকে ‘অন্য ভ্রমণ’, সাহিত্য বিলাস থেকে ‘কালের চন্দ’ ও ‘নয় শুধু গল্প’।

কবি চঞ্চল আশরাফ এবার ঝুঁকেছেন গদ্যে। প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর লেখা স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘আমার হুমায়ুন আজাদ’ শীর্ষক বইটি বের করেছে রোদেলা প্রকাশনী। এটি মেলা পাঠকপ্রিয়তা পবে বলে প্রকাশকের আশাবাদ।

জনপ্রিয় লেখক সুমন্ত আসলামের প্রায় ৮টি বই বেরুচ্ছে এবার। সময় থেকে ‘তবুও তোমায় আমি’, অনন্যা থেকে ‘বেকুব নম্বর ওয়ান’, কাকলী থেকে ‘সেই রাতে রাত ছিল পূর্ণিমা’, অন্য প্রকাশ থেকে ‘সাতাশ এপ্রিল রাত বারোটা’, পার্ল থেকে ‘প্রিয় তুমি প্রিয়তি’, বাউণ্ডুলে-৯’, ‘চার বাউণ্ডুলে-৫-৬-৭-৮’। অনুপম থেকে ‘তো তো তোতলা তোতন’।

কবি আলফ্রেড খোকনের শিশুতোষ কাব্য ‘মনে আসছে যা যা’-এর দ্বিতীয় মুদ্রণ বেরুচ্ছে সুবর্ণ দিন প্রকাশনী থেকে।
ব্যতিক্রমী ভাষার সম্ভাবনাময়ী কবি সাখাওয়াত টিপুর কবিতার বই ‘এলা-হি বরষা’ বের করছে অনক প্রকাশনী।

‘আগামীতে আলোচনা সভার মঞ্চের ওখানে স্টল বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে’
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক

বইমেলার জায়গাটা খুবই ছোট। এটাকে বড় করতে হবে। কীভাবে করবে সেটা বলতে পারছি না। এত ছোট পরিসরে মেলা ভালোভাবে জমতে পারে না। পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের আড্ডা জমে না। মেলা মানে তো শুধুই বই কেনা নয়। প্রতিবছর যে জায়গাটাতে আলোচনা সভার মঞ্চ বানানো ওখানে স্টল বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। কারণ, আলোচনা সভাগুলোতে লোকজন তেমন একটা থাকে না। এটাকে বরং অডিটরিয়ামের ভেতরে নেয়া যেতে পারে। আগামীতে বইমেলা সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে গেলে সবচেয়ে ভালো হয়। এবার আমার বই বেরুচ্ছে বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ‘প্রবন্ধসমগ্র পঞ্চম খ-’। ‘দুই যাত্রায় এক যাত্রী’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ বেরিয়েছে পার্ল পাবলিকেশন্স থেকে।

‘বইমেলা আগের চেয়ে অনেক বেশি আলোকিত হচ্ছে’
রাবেয়া খাতুন, কথাসাহিত্যিক

একজন লেখকের কাছে বইমেলা অনেক প্রতীক্ষার। পাঠকের সঙ্গে লেখকের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমই কিন্তু তার বই। সে কারণে লেখক এবং পাঠক অপেক্ষায় থাকে এ যোগসূত্রটির জন্য। আমাদের বইমেলা আগের চেয়ে অনেক বেশি আলোকিত হচ্ছে। তরুণ লেখকদের অনেক ধরনের বই প্রকাশিত হচ্ছে। বইয়ের বিষয়ের বৈচিত্র্যও থাকছে। তবে পাঠক তার আগ্রহ অনুযায়ী লেখাটি খুঁজে নেবে। এই যে সাহিত্যের প্রতি পাঠকের অনুরাগ এটি একজন লেখক হিসেবে ভালো লাগার বিষয় আমার কাছে। এবারের মেলায় আমার প্রায় ৭টি বই বেরুচ্ছে। উপন্যাস ‘হিরন্ময় দুঃখ ও প্রতিদিন একটি পপি’ বের করছে সময় প্রকাশন। অনন্যা থেকে বেরুচ্ছে শুভেচ্ছা-৭। ভ্রমণ কাহিনী ‘প্রবাসের দিনলিপি ও মরুরাজ্য মাসকাট’, রোমের উপরও একটি বই, কিশোর উপন্যাস ‘স্বপ্নের মতো দিন’ ও ‘রোবটের চোখ নীল’ বের করছে রূপ প্রকাশন। এ ছাড়া ‘মধুমতী’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ বের করছে অনন্যা।

‘জেলা শহরগুলোতেও বইমেলার ব্যবস্থা করতে হবে’
যতীন সরকার, শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক

বইমেলার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে মেলায় ঢোকাটাই কাষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। প্রতিবছরই একই অবস্থা। পাঠক যে বইটি কিনতে মেলায় আসে, সে জানে না কোন প্রকাশনী সেই বইটি বের করেছে। এ জন্য বাংলা একাডেমীকে উদ্যোগী হতে হবে। কোন স্টল মেলার কোন প্রান্তে অবস্থিত এ জন্য একটি মানচিত্র এঁকে গেটের সামনে টানিয়ে দিলে ভালো হয়। অনেকে বইমেলাকে বাংলা একাডেমী থেকে স্থানান্তরের কথা বলেন। না, বইমেলা এখান থেকে সরানো ঠিক হবে না। শুধু একাডেমী চত্বরে নয়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যেন দেশের জেলাশহরগুলোতে বইমেলার ব্যবস্থা করা হয় সেই প্রচেষ্টাও গ্রহণ করতে হবে। এবার আমার একাধিক বই বের হচ্ছে। দেশ বিদেশের রাজনীতি নিয়ে রোদেলা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে ‘সত্য যে কঠিন’। জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ থেকে ‘আমার রবীন্দ্র অবলোকন’ এবং শোভা থেকে ‘প্রাকৃতজনের জীবন দর্শন’ বেরুচ্ছে।

‘মেলা স্থানান্তর
করা যেতে পারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে’
নির্মলেন্দু গুণ, কবি

বাংলা একাডেমীর ছোট্ট পরিসরে লেখক-প্রকাশকরা যে বসবে, সেই জায়গাটুকুও পাওয়া যায় না। ভিড় আর ভিড়। ভবিষ্যতে এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। মেলা স্থানান্তর করা যেতে পারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অর্থাৎ এবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা যেখানে হয়েছে মেলাটা ওখানে স্থানান্তর করা যেতে পারে। অথবা বিভিন্ন বেসরকারি এনজিওগুলোকে একাডেমী চত্বরে রেখে সৃজনশীল প্রকাশকদের ওখানে স্থানান্তর করা যেতে পারে। তবেই একটি সুন্দর ও সুষ্ঠ মেলা আয়োজন করা সম্ভব। এবার আমার প্রবন্ধের বই ‘আবন্ধ প্রবন্ধ যতো’ প্রকাশিত হচ্ছে প্রথমা থেকে। আমার ১৩টি সাক্ষাৎকার নিয়ে ‘সাক্ষাৎকারসমগ্র’ বের করেছে নানন্দিক প্রকাশনী। কাব্যসমগ্রের চতুর্থ খ- প্রকাশিত হচ্ছে কাকলী প্রকাশনী থেকে। এ ছাড়া আমার আঁকা চিত্র নিয়ে ‘আমার চিত্রকলা’ বের করেছে বাংলা প্রকাশ।

‘এ রকম ভিড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা
সম্ভব হয় না’
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক

বইমেলায় ক্রমাগতই ভিড় বাড়ছে। একাডেমী চত্বরের এত ছোট্ট পরিসরে এভাবে মেলা হবে না। মেলা অবশ্যই বাংলা একাডেমীতে থাকবে। তবে এর পরিসর বাড়াতে হবে। আনবিক শক্তি কমিশনের মাঠটাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা মেলা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এবার তো প্রচুর ভিড় হবে। এরকম ভিড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। আলোচনার সভার মঞ্চে যে সেমিনারগুলো হয়, সেগুলো অডিটরিয়ামের ভিতরে নিয়ে গেলে ভালো। এত কোলাহলের মধ্যে কেউ সেমিনার শুনতে চায় না। এভাবে সেমিনার করার কোনো অর্থ নেই। মেলা সার্বিকভাবে সফল হোক এই আশা করি। এবার আমার উপন্যাস ‘আজগবী রাত’ বের করেছে অন্য প্রকাশ এবং শিল্পবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথের জ্যামিতি ও অন্যান্য শিল্প প্রসঙ্গ’ প্রকাশ করছে নান্দনিক।

‘মেলার প্রতিনিয়ত শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে’
বেলাল চৌধুরী, কবি

আশা করছি এবারের মেলা ভালোভাবে সম্পন্ন হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মেলা অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে। মেলার প্রতিনিয়ত শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে, জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, বিচিত্র ধরনের বিষয়ের বই বেরুচ্ছে, পাঠকদের আগ্রহ বাড়ছে। এসবই সুখের খবর। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই আসছে প্রচুর। মেলাটাকে আন্তর্জাতিক করা উচিত। এ জন্য পরিসর বাড়াতে হবে। পরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে এটি হবে বলে আমি আশাবাদী। এবারের মেলায় আমার প্রায় চারটি বই বেরুচ্ছে। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে বেরুচ্ছে আত্মজীবনী ‘নিরুদ্দেশ হাওয়ায়, হাওয়ায়’। অšে¦ষা থেকে কবিতার বই ‘বিদায় চুম্বন’, মিজান পাবলিশার্স থেকে ‘বল্লাল সেনের বকলমে বেলাল চৌধুরীর রোজনামা’, বলাকা থেকে ‘মুহূর্ত ভাস্বর’ বেরুচ্ছে।

‘অটোগ্রাফ দিয়ে কার কী লাভ?’
ড. ফজলুল আলম, প্রাবন্ধিক

গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করছি বইমেলার বিভিন্ন দিক আলোচনা-পর্যালোচনা হচ্ছে। এটি খুবই ইতিবাচক এবং সম্ভাবনার দিক। এই মেলাকে ঘিরে আমরা কী চাই, কী পাইÑ এসব প্রশ্ন উঠে আসছে। এটি কি কেবল চিত্তবিনোদনের জায়গা, ওখানে বই কেনার জন্য, পড়ার জন্য যাই নাকি বাংলা একাডেমীর মোটামোটা ডিকশনারিগুলো কিনতে যাই? কোনটি? এগুলো বিবেচনা করতে হবে। আরেকটা বিষয়, এই যে লেখকরা অটোগ্রাফ দেন, তাতে কার কী লাভ? এই সময়টাতে পাঠক যদি বিভিন্ন স্টল ঘুরে বই দেখেন তাহলে তো একটা কাজের কাজ হতো। এটাতে কারো কোনো প্রাপ্তি আছে কি? জনপ্রিয় লেখকরা সমানে অটোগ্রাফ দিয়ে যান। এতে কী চর্চা হচ্ছে? অটোগ্রাফ দিতে পারবে না কেউ এটা আমি বলছি না। কেউ ভালোবেসে অটোগ্রাফ দিলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু লাইন ধরে অটোগ্রাফ নেয়া এটি উচিত কি? এসব বিষয়ে ভাবতে হবে। এবারের মেলায় অনন্যা থেকে বেরুচ্ছে ‘ফজলুল আলমের সংস্কৃতি সমগ্র’ এবং ‘উড়ষফ নু ধহফ রফরড়ঃ’। সংবেদ থেকে বেরুচ্ছে ‘আমাকে চিনতে হলে এবং শেষ জীবনের কয়েকটি রচনা’, ফ্রিডরিখ নিৎসের সংকলন সম্পাদনা। শিশুতোষ রচনা ‘যুরাগ্রহ বনাম ইরু’ বের করছে ঝিঙেফুল। অšে¦ষা বের করছে ‘ফুরফুরে মেজাজের গল্প’।

‘বইমেলা মানে তাড়াহুড়ো করে বইকেনা নয়’
আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতিবিদ, প্রাবন্ধিক

বইমেলায় নতুন বই আসবে, ভালো বই আসবে এবং যারা মেলায় আসবে তারা আগ্রহভরে বই কিনবেÑ এটাই তো চাওয়া। মেলার পরিবেশ যেন সুন্দর হয় সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বইমেলা মানে তাড়াহুড়ো করে বইকেনা নয়। এটা একটা আড্ডা। পাঠক, লেখক, প্রকাশকদের একটি বৃহত্তর আড্ডা। তাই পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ভালোভাবে বজায় রাখতে হবে। এবারের মেলায় নতুন-পুরনো মিলিয়ে আমার প্রায় ৬টি বই বেরুচ্ছে। রোদেলা প্রকাশনী বের করেছে ‘আনু মুহাম্মদের সাক্ষাৎকার’ শীর্ষক একটি বই। এ ছাড়া সংহতি থেকে ‘অর্থশাস্ত্র পরিচয়’, পুঁজির অন্তর্গত প্রকাশ’ এবং ওরিয়ানা ফাল্লাচির ‘হাত বাড়িয়ে দাও’-এর সংস্করণ বেরুচ্ছে। শ্রাবণ থেকে ‘বিশ্বায়নের বৈপরীত্য’, বিপ্লবের স্বপ্নভূমি কিউবা’ বেরুচ্ছে।

‘বইমেলা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে’
ইমদাদুল হক মিলন, কথাসাহিত্যিক

যতই দিন যাচ্ছে ততই বড় হয়ে উঠছে বইমেলা। ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। সারাদেশ মেতে থাকে এই মেলা নিয়ে। আমি আশাবাদী এবারের বইমেলা আগের বছরগুলোর চাইতে অনেক বেশি ভালো হবে। কারণ, বর্তমান সরকার বইপ্রেমী সরকার। বইয়ের প্রতি তাদের নজর অনেক বেশি। বইমেলা সন্দুর, সুষ্ঠু হোক এবং পাঠকরা বই কিনুক এই প্রত্যাশা করি। এই মেলায় আমার প্রায় দশটি বই বেরুচ্ছে। অনন্যা থেকে ‘বন্ধু বান্ধব’, ‘লিলিয়ান উপাখ্যান’, ‘আয়না কাহিনী’, ‘চাই’, এবং বাচ্চাদের বই ‘ক্লাসের সবচাইতে দুষ্ট ছেলেটি’ ‘পাহাড়কাঞ্চনপুর’। অন্য প্রকাশ থকে বেরুচ্ছে ‘শ্রাবণ সন্ধ্যাটুক’ু, ‘আয়না কেমন আছে’। প্রথমা থেকে ‘সেই বিদেশি মেয়ে’ এবং নান্দনিক থেকে বেরুচ্ছে ‘সেই প্রিয় মুখ’।

মুক্তধারার ব্যতিক্রমী আয়োজন
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালে মুক্তধারা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় মুক্তধারা ৩২টি বই প্রকাশের মধ্যদিয়ে অগ্রযাত্রা শুরু করে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ সম্পাদিত ‘রক্তাক্ত বাংলা’ এবং সত্যেন সেনের ‘রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ’। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমীর বটতলায় মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত চিত্তরঞ্জন সাহার সবুজ ঘাসের উপরে চট বিছিয়ে বইমেলা শুরু করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে খান ব্রাদার্স, নওরোজ কিতাবিস্তানসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বইমেলায় অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে শুরু হলো একুশে বইমেলা। আজ সেটি এত সমৃদ্ধি লাভ করেছে। উল্লেখ্য, মানসম্মত বই প্রকাশ ও জাতির অর্জন ও মনন বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদকে ভূষিত হয়েছে মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহা। এ ছাড়া জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র হতে তিনি প্রকাশনা শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।

বর্তমানে মুক্তধারায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ২৫০০। গত চার বছর ধরে মুক্তধারা আবার নতুন উদ্যমে তার প্রকাশনা কার্যক্রম ও ঘরে ঘরে বই পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবারের বইমেলাকে নিয়ে মুক্তধারার রয়েছে এক যুগান্তকারী আয়োজন। বাংলা একাডেমী প্রথমবারের মতো মুক্তধারার প্রতি বইমেলা শুরু করার জন্য সম্মান প্রদর্শন করে মুক্তধারা স্টলটিকে লটারির বাইরে রেখেছে। প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীর প্রশ্ন থাকে যে, মেলার মাঠে শতাধিক স্টলের মাঝখানে মুক্তধারাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বছর ঘটবে তার ব্যতিক্রম। বাংলা একাডেমীর ১ নং গেট দিয়ে প্রবেশ করলে যেখানে মেলা শুরু হয়েছে অর্থাৎ নজরুল মঞ্চের সামনে ১ ও ২ নম্বর স্টলটি হলো মুক্তধারা। এ বছর তারা ব্যাপক জাগরণ আনার জন্য বিশাল বাজেট দিয়ে তাদের স্টলটিকে সুসজ্জিত করেছে। শুধুমাত্র স্টলের অঙ্গসজ্জ্বাই নয়, বরং স্টলে যে বিক্রেতাগণ উপস্থিত থাকবেন, তাদের পোশাকেও থাকবে নতুন ধরনের চমক। এ বছর মুক্তধারা ২৫টি বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তন্মধ্যে মৈত্রয়ী দেবীর ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’, রামেন্দু মজুমদারের ইংরেজি বই ‘বাংলাদেশ মাই বাংলাদেশ’, ডা. বরেণ চক্রবর্তীর ‘মানসিক অবসাদ ও মুক্তির উপায়’, ডা. সুভাগত চৌধুরীর ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিষ্কারের কাহিনী’ উল্লেখযোগ্য। ছোটদের জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন। তন্মধ্যে রওশন আরা রোশনীর ‘পঞ্চভূতের কা-’ উল্লেখযোগ্য।

মুক্তধারা এবারই তার প্রকাশনায় গতানুগতিকতার বাইরে নতুন ধরনের বই আনছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জবস এন্ড ক্যারিয়ার বিষয়ক সজীব সাহার বই ‘চাকরি পাওয়ার কৌশল- সাফল্যের ১০১ টিপস। দেশি-বিদেশি অসংখ্য রান্না নিয়ে চমৎকার মোড়কে বাজারে আসছে ‘আমার রান্নাঘর’। বর্তমানে মুক্তধারার এই সামগ্রিক কর্মপ্রচেষ্টার মূলে যে মানুষটির অক্লান্ত শ্রম ও চিন্তা-চেতনা জড়িয়ে রয়েছে তিনি মুক্তধারার পরিচালক জওহর লাল সাহা।

[ad#co-1]