অসতর্ক বাসচালক কেড়ে নিল স্কুলছাত্র হামিমের জীবন

প্রতিদিনের মতোই স্কুল শেষে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল হামিম। কিন্তু তাকে ফিরতে হলো লাশ হয়ে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে কাকরাইল উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের বিপরীত পাশে রাস্তায় ঘাতক বাস এই নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ কেড়ে নেয়।

স্কুল ছুটির পর বাসের জন্য মা সোনিয়া শেখের সঙ্গে রাস্তায় অপেক্ষা করছিল হামিম শেখ। এ সময় মধুমতি পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর উঠে যায়। এতে হামিম ও তার মা গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পর উদ্ধার করে তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক হামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত হামিমের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের বি সেকশনের প্রভাতী শাখায় (বাংলা মাধ্যম) কেজিতে পড়তো হামিম শেখ।

ঘটনার পর পরই স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তাদের সঙ্গে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে অভিভাবকরাও। তারা রাস্তা অবরোধ করে। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। এ সময় ঘাতক বাসের ড্রাইভার শামসুর রহমানসহ বাসটিকে আটক করে পুলিশ।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের প্রিন্সিপাল লে. কর্নেল (অব.) মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ আজকের সব ক্লাস বাতিল ও কাল বৃহস্পতিবার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, হামিম ও তার মা মধুমতি পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-১৩৪৭) উঠার সময় হঠাৎ গতি বাড়িয়ে দেয় চালক। এতে পা পিছলে প্রথমে হামিম ও পরে তা মা নিচে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তারা দুজন বাসের চাকায় চাপা পড়েন। আহত দু’জনকে কাকরাইল মোড়ের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা হামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হামিমদের বাসা পুরানো ঢাকার ১১৮ নম্বর লুৎফুর রহমান লেনে।

[ad#co-1]