মইন, ফখরুদ্দীন ও ইয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ নাজমুল হুদার

সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ, সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমএ মতিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। অভিযোগ নগদ ২৫ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার।

হুদার অভিযোগ, জরুরি অবস্থা চলাকালে ২০০৭ সালের ফেব্র“য়ারির প্রথমদিকে গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা তার ধানমি র বাসায় কোনো তল্লাশি পরোয়ানা ছাড়াই নগদ ২৫ লাখ টাকা, ডিভিডি, সিডি, ভিডিও ক্যামেরাসহ বিভিন্ন দামি ইলেক্ট্রনিক্স এবং সহায়-সম্পত্তির দলিল, অনেক মক্কেলের মেমো, ব্যাংকের চেকবই ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এটা রীতিমতো ডাকাতি। এই অভিযোগে তিনি ওই চারজনসহ জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনার নেতৃত্ব দেয়া মেজর ইকবাল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ডাকাতির মামলা করবেন বলে জানান। গতকাল রাজধানীর পল্টনে নিজ চেম্বারে ‘আমাদের সময়’ এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সেসময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারীকেও এই মামলায় আসামি করা যায় কি-না, তা আমি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, পরোয়ানা ছাড়া তাকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা থাকলেও বাড়িঘর লুটের অধিকার তাদের ছিলো না। তিনি বলেন, ঘটনাটি তার চোখের সামনে হয়েছে বলে এটি চুরি নয় ডাকাতি।

জনাব হুদা বলেন, ২২ জানুয়ারির নির্বাচনকে (বাতিল হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন) সামনে রেখে নিজ নির্বাচনি খরচ হিসেবে তার বাসায় কমপক্ষে নগদ ২৫ লাখ টাকা রাখা ছিল। পরে এই টাকার মধ্যে ১৮ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়।

নাজমুল হুদা বলেন, ‘কই এখন তো দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) সম্পদের হিসাব চেয়ে আর কাউকে নোটিশ দেয় না! শুনেছি আমেরিকায় ড. ফখরুদ্দীনের প্রচুর সহায়-সম্পত্তি রয়েছে। দুদক তার কাছে কেন সম্পদের হিসাব চায় না? তখন তো এক বোতল মদের জন্যও অনেক সম্মানী লোকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। একই অভিযোগে মইনুলের (সাবেক আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন) বিরুদ্ধে মামলা হয় না কেন? তার বাসায় তো রীতিমতো মদের বার আছে। অনেক বড় বড় লোক সেখানে গিয়ে ডুবে থাকে। তাহলে মইনুলের বিরুদ্ধে অ্যাকশন হয়না কেন? হাসান মশহূদ কি তা দেখেননি? এইক্ষেত্রে কি তার চোখে কালো চশমা ছিল?’

ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ আমি নিজেই প্রত্যক্ষদর্শী। এক-এগারোর আগে আমিও একবার তার বাসায় একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলাম। তখন তো মদের বার দেখেছি। এক-এগারোর পরে নিশ্চয়ই সেই বারের পরিধি আরো বেড়েছে’।

[ad#co-1]