২৭ কিলোমিটার রাস্তা যেতে লাগে চার ঘণ্টা!

মুন্সীগঞ্জবাসীর কষ্টের নাম ‘সংযোগ সড়ক’
সোনিয়া হাবিব লাবনী, মুন্সীগঞ্জ: একটি সংযোগ সড়কের অভাবে মুন্সীগঞ্জ-ঢাকা যোগাযোগে ভোগান্তি হচ্ছে। ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের ২৭ কিলোমিটার দূরত্ব সড়কপথে পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা লাগার কথা। সেখানে চার ঘণ্টা লেগে যায়। আর পথে যানবাহন বিকল হলে রাস্তায়ই অবস্থান করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অথচ মুক্তারপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি নির্মিত হলে মুন্সীগঞ্জবাসী কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে পারে। বর্তমানে মুক্তারপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি পর্যন্ত অপ্রশস্ত আঁকাবাঁকা সড়কে যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে।

আধুনিক সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়তে সরকার ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রায় ২০৪ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে এক হাজার ৫২২ মিটার দীর্ঘ মুক্তারপুর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ এ সেতুর বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। সেতুর মূল প্রকল্পের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। শুধু তাই নয়, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের রেলপথ স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। রেলপথ দূরের কথা, সংযোগ সড়ক নির্মাণ ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের সাত মাস আগেই ২০০৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ সেতুটি উদ্বোধন করেন। সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পর সড়কটির ওপর অত্যধিক যানবাহনের চাপ বাড়ে। প্রতিদিন এ সড়কের ওপর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রায় তিন হাজার যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মুক্তারপুরের ছোট-বড় দুই শতাধিক শিল্পকারখানার ভারী ট্রাক চলে এ সড়কে। অধিকাংশ যানবাহন আটকা পড়ে এবং সৃষ্ট যানজটের কারণে জনসাধারণের ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ি উপজেলার উৎপাদিত শাকসবজিসহ প্রসিদ্ধ গোল আলু সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৮ সালের সেপ্টেন্বরে এক সভায় সংযোগ সড়কের জন্য মুক্তারপুর সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বর্তমান মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়ক ছাড়াও আরো সম্ভাব্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হচ্ছে মুক্তারপুর-নিতাইগঞ্জ-বঙ্গবন্ধু সড়ক পর্যন্ত চার কিলোমিটার, মুক্তারপুর-চাষাঢ়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার এবং মুক্তারপুর-পুলিশ লাইন-চাষাঢ়া-পঞ্চবটি পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তা। কর্তৃপক্ষ তিনটি রাস্তা পরীক্ষা করে মুক্তারপুর-পুলিশ লাইন-চাষাঢ়া-পঞ্চবটি সড়কটির পক্ষে মত দেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন এডিপির আওতায় সড়কটি নির্মাণের কথা রয়েছে। এ জন্য জমি অধিগ্রহণসহ সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ২২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বর্তমানে ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ উন্নয়ন ফোরাম, পৌর নাগরিক কমিটি, রেগুলার প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সেতু ও সংযোগ সড়ক মুন্সীগঞ্জবাসীর স্বপ্ন ছিল। সেতু হয়েছে, কিন্তু সংযোগ সড়ক হয়নি, তাই দুর্ভোগ না কমে বরং আরো বেড়েছে। রেগুলার প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুম জানান, ‘সেতু হওয়ায় তেমন কোনো সুফল পাইনি, আগে ধলেশ্বরী নদী পার হতে ফেরির জন্য ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হতো। এখন সেতু পার হতে সময় না লাগলেও রাস্তায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।

জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সাংসদকে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংসদ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সংযোগ সড়কটি অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু কেন হয়নি তা আমি জানি না, তবে আমি শোনার পর সওজের প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছি।’

[ad#co-1]