এবার আত্মহননের পথ বেছে নিলেন মুন্সীগঞ্জের রুমা

কাজী দীপু, মুন্সীগঞ্জ থেকে: রাজধানীতে স্কুলছাত্রী পিংকী আত্মহনন ঘটনার এক সপ্তাহের ব্যবধানে এবার মুন্সীগঞ্জে টঙ্গীবাড়ির চাঠাটিপাড়া গ্রামের কলেজছাত্রী রুমা আক্তার আত্মহননের পথ নিয়েছেন। বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ি কলেজের প্রথমবর্ষের এ ছাত্রী গত সোমবার নিজ বাড়িতে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় টঙ্গীবাড়ি উপজেলা সদরসহ চাঠাটিপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমেছে। আর কলেজে তার সহপাঠীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। তারা রুমাকে উত্ত্যক্তকারী রাজিবকে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেয়। তবে পুলিশ রাজিবকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকে এবং দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে আন্দোলনের হুমকি দেয়।

এদিকে সোমবার রাতেই রুমার ভাই যায়যায়দিন পত্রিকার টঙ্গীবাড়ি প্রতিনিধি শামীম বেপারী টঙ্গীবাড়ি থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে বখাটে যুবক রাজিব ও গ্রাম্য মোড়ল মোস্তফাকে। পরে পুলিশ গভীর রাতে মোস্তফাকে গ্রেফতার করে। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে রাজিবকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি আব্দুল্লাহ বলেন, মামলার প্রধান আসামি রাজিবকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

স্থানীয় সাংসদ ও হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব, মুন্সীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি ও টঙ্গীবাড়ি প্রেসক্লাব রুমার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে চাঠাটিপাড়া গ্রামের বখাটে যুবক মৃত হুমায়ুন শেখের ছেলে রাজিব রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করে আসছিল রুমাকে। রুমা পারিবারিকভাবে বিষয়টি জানালে রাজিব প্রতিশোধ নিতে গ্রামের মোড়ল মোস্তফা বেপারী, আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজনের সহায়তায় একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে এবং রাজিবের সঙ্গে রুমার বিয়ে হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার চালায়। এ ঘটনা গ্রামসহ আশাপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ও অপমানে রুমা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

রুমার ভাই শামীম বেপারী বলেন, গ্রাম্য কতিপয় মোড়লের কারণেই মূলত তার বোন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। রাজিব অন্য মেয়েদেরও রাস্তাঘাটে বিরক্ত করে করে থাকে বলে তিনি জানান।

আমাদের সময়

——————————————————————————————————–
মুন্সীগঞ্জে কলেজছাত্রী রুমার আত্মহনন

মাতবর-বখাটের অপপ্রচার
আর কখনও কলেজে যাওয়ার আগে ভাইয়ের কাছে রিকশা ভাড়া চাইবে না রুমা। কখনোই সেই আদরের বোনের কলেজ থেকে ফেরার পথে চেয়ে থাকতে হবে না ভাই শামীমকে। সেই সঙ্গে মা-বাবার চোখেও থাকবে না উৎকণ্ঠা। সব উৎকণ্ঠা দূর করে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চাঠাদিপাড়া গ্রামের কলেজছাত্রী রুমা আক্তার (১৯) আত্মাহুতি দিয়ে প্রমাণ করল এই সমাজে এখনও নারী বড় অসহায়। গ্রাম্য মাতবরের কুৎসা রটানো ও বখাটে যুবকের উৎপাত সইতে না পেরে বিক্রমপুর-টঙ্গীবাড়ি কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষের ছাত্রী রুমা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সোমবার বিকেলে নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ওই কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করে।

সোমবার রাতে কলেজছাত্রীর বড় ভাই দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার টঙ্গীবাড়ি উপজেলা প্রতিনিধি শামীম বেপারী বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ি থানায় মামলা করেছেন। রাতেই পুলিশ এক গ্রাম্য মাতবরকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত মাতবর মোস্তফা মিয়াকে গতকাল মঙ্গলবার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিক শামীম বেপারী জানান, একই গ্রামের বখাটে যুবক রাজিব (২৫) তার বোন রুমাকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করত। ঘটনার মাত্র ৩ দিন আগে ওই বখাটে যুবক রুমার সঙ্গে তার গোপনে বিয়ে হয়েছে বলে গ্রামে প্রচার করে। আর বিয়ের সত্যতা প্রমাণ করতে ওই যুবক স্থানীয় মাতবর মোস্তফা বেপারী, আমিনুল ইসলামকে নিয়ে বিয়ের কাবিননামা সবাইকে দেখাতে থাকে। গ্রাম্য মাতবর ও বখাটে যুবকের অপপ্রচারের যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়ে অবশেষে তার বোন আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব, মুন্সীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি, টঙ্গীবাড়ি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা গ্রাম্য মাতবর ও বখাটে যুবকের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সমকাল

[ad#co-1]