মুন্সীগঞ্জে গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে আলু আবাদ

আমদানি শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন চাষিরা
মুন্সীগঞ্জ : চরকেওয়ার ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে আলুক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষক
মুন্সীগঞ্জে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আলুর চাষ হয়েছে। আলু উৎপাদনে দেশের শীর্ষ অবস্খানে থাকা এই অঞ্চলের কৃষকরা গত বছর আলুর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর আলুর আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা এবারো ভালো ফলন ও দাম পাওয়ার আশা করেছেন। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া আর ভারত থেকে আলু আমদানির কারণে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

দেশের বেশির ভাগ আলু উৎপাদন হয় মুন্সীগঞ্জ জেলায়। আলুর আদি নিবাস এ জেলার মানুষ দেশের উত্তর-দক্ষিণ সর্বত্র আলুর উৎপাদন ছড়িয়ে দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর এই জেলায় আলু আবাদ হয়েছিল ৩৫ হাজার ৫৮৭ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। চলতি বছরে ২৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল­ রোপণ হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে।

সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের আলু চাষি বরকত আলী ও সাহেব আলী জানান, আবহাওয়ার কারণে তারা চিন্তিত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে আলুর ফলন এবারো ভালো হবে। তারা আরো জানান, সরকার ভারত থেকে আলু আমদানি করছে। সরকার যদি ভারত থেকে আলু আমদানি অব্যাহত রাখে তাহলে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হবে। আলুর সঠিক মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এমনকি উৎপাদন খরচ উঠবে কি না বলে মনে করছেন কৃষকরা ।

এ দিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ সৈয়দ খোরশেদ জাফরী নয়া দিগন্তকে জানান, এবার আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। গত বছর আলুর দাম পাওয়ায় এবার কৃষকরা আলু চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। এ ছাড়াও সরকারের কৃষিনীতি এবং সারের মূল্য কম হওয়ার কারণে আলু আবাদের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে বেড়েছে।

[ad#co-1]