মুন্সীগঞ্জের যক্ষ্মা ক্লিনিকটি নিজেই যেন রোগে ভুগছে

যন্ত্রপাতি ও লোকবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
সুজন হায়দার জনি, মুন্সীগঞ্জ থেকে : মুন্সীগঞ্জের সরকারি একমাত্র যক্ষ্মা ক্লিনিকটি নিজেই যেন রোগে ভুগছে। নাম মাত্র ব্যবস্থাপত্র দিয়েই দায়িত্ব এড়াচ্ছেন ডাক্তাররা। জরাজীর্ণ ভবনটিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। এতো কিছুর পরও কর্তৃপক্ষের কোনো সুনজর পড়েনি এ ক্লিনিকটির দিকে।

মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালীতে অবস্থিত এই ক্লিনিকটিতে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। কফ ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষা হয় না এখানে। একটি উন্নতমানের এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেটি নষ্ট থাকে সব সময়। ফলে যক্ষ্মা রোগ শনাক্ত করতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শরণাপন্ন হতে হয় রোগীদের।

এ ক্লিনিকে ২ জন ডাক্তার এবং ১ জন সহকারী, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন প্যাথলজি টেকনিসিয়ান রয়েছেন। কিন্তু তারা প্রতিষ্ঠানে থাকেন গরহাজির। অফিস সহকারী মোজাম্মেল হক সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে শহরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দেন বেশি। এখানে ডায়াগনস্টিক সুবিধা নেই। দীর্ঘ দিন ধরে এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে আছে। এক্স-রে অপারেটর আবু বকর ডেপুটেশনে সদর হাসপাতালে রয়েছেন। থুথু-কফ পরীক্ষার জন্য প্যাথলজির টেকনিশিয়ান আবুল কালাম ক্লিনিকে আসেন না বল্লেই চলে। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় টেস্ট এমটি এবং এএফএনএসি এখানে করা হয় না। গরিব রোগীদের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এসব পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না। এতে গরিব রোগীরা যক্ষ্মা রোগ থেকে মুক্তি না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালন্টেট ডা. ফখরুল আহসানের কাছে রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে এক্স-রে মেশিন ছাড়া আর কোনো মেশিন নেই। এক্সে-রে মেশিন যাও আছে তা আবার নষ্ট। এমটি এবং এএফএনএসি টেস্টগুলো করার মেশিন বা যন্ত্রপাতি এ ক্লিনিকে নেই। তাই এ টেস্টগুলো আমরা রোগীদের বাইরে থেকে করে আনতে বলি। এখানে শুধুমাত্র কফের পরীক্ষা করা হয়। ক্লিনিক থেকে রোগীদের ২-৩ দিনের ওষুধ দেয়া হয়। রোগীদের ভর্তি করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো যন্ত্রপাতি ঠিক নেই। পরীক্ষা করার সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে লেখালেখি করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

পুরোনো এ ভবনটি স্যাঁৎসেঁতে, কোনো যন্ত্রপাতি ঠিক থাকে না বেশি দিন। এর কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। এ ক্লিনিকের ভেতরে অসামাজিক কার্যকলাপসহ বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ চলে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। ক্লিনিকটির রয়েছে বিশাল জায়গা যা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে অনেক মহাপরিকল্পনা হাতে নিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ এ জায়গাটির সঠিক ব্যবহার করে এ অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারে বলে মনে করে সকলে।

[ad#co-1]