সেলিম আল দীনের প্রয়াণ দিবসে : ধাবমান মঞ্চস্থ

১৪ জানুয়ারি ঢাকা থিয়েটার সেলিম আল দীনের ২য় প্রয়াণ দিবসে প্রদর্শন করেছে সেলিম আল দীন রচিত ও শিমুল ইউসুফ নির্দেশিত নাটক ধাবমান। বাংলার শিকড় সংশ্লিষ্ট ঐতিহ্যের নবায়নের মাধ্যমে ঢাকা থিয়েটার জাতীয় নাট্যাঙ্গিক নির্মাণের অভিপ্রায়ী বলেই বাংলা সাহিত্যের শিল্পাকাশে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বিশিষ্ট নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের অমর সৃষ্টি সম্ভার থেকে ধাবমান নাটকটি মঞ্চে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা থিয়েটার। ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে প্রদর্শিত ধাবমান নাটক প্রসঙ্গে মঞ্চকুসুম শিমূল ইউসুফ বলেন, আমাদের এই দেশ তমসাচ্ছন্ন হয়েছে বারংবার। কিন্তু সেই তমসাচ্ছন্নতা থেকেই শক্তি সঞ্চয় করে সর্বদা আলোর লক্ষ্যে ধাবিত হয়েছে আশায় বুক বেঁধে এদেশের মানুষ। বর্তমান সময়ও তার ব্যতিক্রম নয়। তবুও জীবন থেমে থাকে না। জীবন সতত ধাবমান। সময়ের অনন্ত প্রবাহে মুক্ত থেকে আমরাও অসাম্প্রদায়িক মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশী। ধাবমান নাটকটিতে সেই সত্যটাকেই পুনর্বার স্মরণ করিয়ে দিতে চায়। ধাবমান নাট্যে দর্শক এক বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন, মানবিকতার এক নতুন দর্শনের দ্বারা তাড়িত হবেন বলেই আমরা বিবেচনা করি। এক গয়াল মহিষ সোহরাব বেড়ে ওঠে মান্দি অঞ্চলের নগদি (মান্দি অঞ্চলে বাঙালি মুসলমানদের নগদি বলে থাকে) পরিবারে। নগদি পরিবারে সোহরাব মহিষ হিসেবে নয়, যেন পরিবারের আরেক সদস্য হয়েই বড় হয়। অমিত বলশালী ষণ্ডমহিষ সোহরাব বয়ারের লড়াইয়ে চারবার সোনার মেডেল জেতা অন্য এক বয়ারকে হারিয়ে দেয়। কিন্তু তারপরও তাকে ধর্মীয় আচারের যূপকাষ্ঠে প্রাণ দিতে হয়। প্রচলিত কোনো ধর্মেই মৃত্যু পরবর্তী লোকে পশুর জন্য স্বর্গ-নরকের ব্যবস্থা রাখেনি। কেননা প্রায় প্রতিটি ধর্মেই মানুষের তরে সবকিছু সৃজিত হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করা আছে। ফলে প্রাণী হিসেবে আমাদের চারপাশে বেড়ে ওঠা পশুর প্রতি এক ধরনের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। ধাবমান নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিমুল ইউসূফ, শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সেলিম প্রমুখ।

[ad#co-1]