ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক মাদক ও অস্ত্র পাচারের নিরাপদ রুট

জান্নাতুল ফেরদোসৗ ,মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশের দক্ষিনাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশ পথ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক এখন মাদক পাচারের প্রধান ও নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ রুট দিয়ে মাদকের পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালানিরও অভিযোগ রয়েছে। আরিচা-দৌলতদিয়া রুট অনিরাপদ ও মাদক পাচারের জন্য ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় ঢাকা-মাওয়া রুট হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে খুব সহজেই পৌছে যাচ্ছে মাদক ও অস্ত্র। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দু’একটি চালান আটক করলেও বড় চালানগুলো থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

জানা গেছে, ভারতের সীমান্তবর্তী যশোরের বেনাপোল, চৌগাছা, শর্শা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে আসা প্রচুর মাদক ঢাকা-মাওয়া রুট হয়ে রাজধানীতে আসে। বড় বড় চালান পাচারের জন্য ব্যবহার করা হয় মালামাল বোঝাই ট্রাক, দুর পাল্লার বাসসহ কালো গ্লাসের বিলাসবহুল গাড়ী। মাওয়া ফেরীঘাটের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে নদীর ঐ পাড়ে অপেক্ষমান মাদক ব্যবসায়ীদেরকে সংকেত প্রদান করলেই এপাড়ে চলে আসে মাদক।

সূত্র জানায়, ঢাকা-মাওয়া সড়ক পথে আসা মাদক চালানের কিছু অংশ বিক্রির জন্য থেকে যায় মাওয়া ঘাট ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন স্পটে। কোন কারণে মাওয়া ঘাট ঝুকিপূর্ণ মনে হলে দোহার থানার বাহ্রা, নারিশা, মেঘুলা ও লৌহজং উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় খালাস হয়। র‌্যাব-১১ এর বিশেষ টিম গত বছর জানুয়ারী থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন স্পট থেকে ৩১১০ বোতল ফেন্সিডিল, সাড়ে সাত কেজি গাজা, ৩৫ লিটার খোলা মদ, ৯৯ বোতল বিদেশি মদ, মাদাক পাচারে ব্যবহৃত ৪টি প্রাইভেট কার, ৩টি মোটর সাইকেল, ২টি পিস্তল ও ১টি পাইপ গান উদ্ধার করেছিল।

র‌্যাব-১১ সূত্র জানায়, অভিনব কায়দা অবলম্বন করেও মাদক পাচার হয়। এ পর্যন্ত সাপের বাক্স, কাঠের ফ্রেম, ডাবের ভিতর, পুতুল এবং বইয়ের বান্ডিল থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

[ad#co-1]