মুন্সীগঞ্জে অর্ধশত শিল্প-কারখানা বন্ধের উপক্রম, গৃহিণীরা বিপাকে

তীব্র গ্যাস সংকট
মুন্সীগঞ্জে সর্বত্র গ্যাস সংকট তীব্র আকারে ধারণ করেছে। অর্ধশতাধিক গ্যাস চালিত শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়িতে সারাদিন গ্যাসের দেখা পাওয়া যায় না। ফলে রান্নাসহ নানা সমস্যায় পড়তে হয় গৃহিণীদের। অন্যদিকে শিল্প-কারখানার মালিকরা পড়েছেন মহাবিপাকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার শিল্পাঞ্চল মুক্তারপুরে গ্যাসচালিত অধিকাংশ শিল্প-কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩৭টি শিল্প-কারখানা রয়েছে গ্যাস চালিত। এখানে ১ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০/২৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুতের ওপর নির্ভর এখানকার সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিগুলো টিকে আছে।

সূত্র জানায়, প্রায় ৮ হাজার অভ্যন্তরীণ সংযোগ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায়। এদিকে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বাসাবাড়িগুলোতে গ্যাসের অভাবে চুলা জ্বলাতে পারছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে গৃহিণীদের। ভবনগুলোতে লাকড়ির চুলা ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি পরিবারের আর্থিক খরচ বেড়েছে। হিমশিম খাচ্ছেন সামান্য বেতনের চাকুরিজীবীরা। জানা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়া ও নারায়ণগঞ্জে অনেক বেশি চাহিদা থাকায় ৮ ইঞ্চি ব্যসের পাইপ দিয়ে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস আসে না বললেই চলে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক জানান, মুন্সীগঞ্জে সংযোগ পাইপ ৮ ইঞ্চি সরু হওযার এবং প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ চাপ কম হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার ১২ ইঞ্চি প্যারালাল গ্যাস নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সার্বক্ষণিক গ্যাস পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

[ad#co-1]