ফখরুদ্দীন সরকার লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছিল

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রচিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাতাশ মাস’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা বলেছেন, ফখরুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের আন্দোলনের ফসল হলেও তারা জনগণের কথা মনে রাখেনি। তারা দেশের রাজনীতিবিদদের হেয় করার জন্যই কাজ করেছে। একই সঙ্গে দু’ধরনের প্রশাসন চালিয়ে তারা দেশে লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

রোববার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের লেখা গ্রন্থের ওপর আলোচনায় অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন মুস্তফা নূর উল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইটির প্রকাশক এবং অন্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম। আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নূহ আলম লেনিন।

উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখিত ২৯টি কলামের সংকলন করে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাতাশ মাস’ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি অর্থমন্ত্রীর বিশতম বই। দাম রাখা হয়েছে আড়াইশ’ টাকা। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমি কোনদিন সামরিক সরকারকে সমর্থন জানাইনি। কিন্তু ওয়ান ইলিভেন-পরবর্তী সময়ে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে এ আশায় সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মনে মনে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে তাদের উদ্দেশ্য সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। তারা নির্বাচন কমিশনসহ সব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে অরাজক অবস্থা কায়েম করেছিলেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনীতি বন্ধ করে দিয়ে প্রথম ভুলটি করেছিল। এর ফলে দেশে অরাজনৈতিক এবং অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চেপে বসে। সামরিক কর্তাদের উচ্চাভিলাষের কারণে সে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের ভেতর দুটি কেন্দ করে ক্ষমতা চালানোর বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছে। এ দুটির একটি হচ্ছে বেসামরিক প্রশাসন, অপরটি টাস্কফোর্স।

তাদের কথা এবং কাজে ভিন্নতা থাকায় অনেক অনিয়ম হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক সময়ে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়। প্রথমদিক থেকেই তারা রাজনীতিবিদদের হেয় করার জন্য কাজ করেছে। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগের ৫ বছরের বিএনপি সরাকরের একটি বর্ধিত অংশ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে নির্যাতন হয়েছে, তা বিএনপি সরাকারের আমলের নির্যাতনের চেয়ে কম নয়। তিনি বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল একটি সামরিক সরকার। আর সামরিক সরকারের কোন ইতিবাচক দিক থাকতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সামরিক সরকারের লুণ্ঠনের বিষয়ে কিছু বলেনি। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বই রচনার পটভূমি ব্যাখ্যা করেন এবং তার বইয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য বক্তাদের ধন্যবাদ জানান।

[ad#co-1]