মুক্তিযুদ্ধের জানা-অজানা কাহিনী

69785_munshigonj-copyমুন্সীগঞ্জে শিশুদের কাছে
১১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ মুক্ত দিবসে জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম মুন্সীগঞ্জের বন্ধুরা এ প্রজন্মের শিশুদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের জানা-অজানা কাহিনী তুলে ধরার আয়োজন করে। মুন্সীগঞ্জ চারুকলা সংস্থায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ অনুষ্ঠান ওইদিন সকালে অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা আফছার উদ্দিন মোল্লা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২৭ বছরের টগবগে যুবক। বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের জিয়সতলা গ্রামে। তিনি মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে একাত্তরে দেশ স্বাধীন করতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন সাহসিকতার সঙ্গে।

২৫ জন মুক্তিসেনার একটি দলের সঙ্গে একাত্তরের নভেম্বরে পঞ্চসারের সর্দারপাড়া এলাকায় পাকসেনাদের সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। পাকসেনারা রতনপুর আসার সময় সর্দারপাড়ার শেষপ্রান্তের ব্রিজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়। তখন পাকসেনারা ঘুরপথে ব্রিজের নিচ দিয়ে আসার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দলটি তাদের আক্রমণ করে। ওই লড়াইয়ে এক রাজাকারসহ ছয় পাকসেনা নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের কমান্ডার ছিলেন শহীদুল আলম সাঈদ।

69785_munshigonj-copy

যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে বনে-জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্ম উপেক্ষা করে যুদ্ধের মাঠে থাকতে হয়েছে। পরিবারের কে কেমন আছে, তা জানার সুযোগ বা সময়ও তারা পাননি। এ রকম যুদ্ধকালীন জানা-অজানা নানা বিষয় এ প্রজন্মের শিশুদের কাছে বলতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আফছার উদ্দিন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু আফছার উদ্দিন মোল্লার মতো অনেক মুক্তিযোদ্ধার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি; স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি।

দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক আফছার উদ্দিন মোল্লার মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে নিজ সংসার নিয়ে আলাদা থাকে আর ছোট ছেলে টেম্পোচালক। মুক্তিযোদ্ধা আফছার উদ্দিন মোল্লা কারো ওপর নির্ভরশীল হতে চান না বলেই রাস্তায় রাস্তায় সবজি আর ফলমূল বিক্রি করেন। এসব বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে স্ত্রী মমতাজকে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। সরকারের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা তিনি কখনো পাননি, আশাও করেন না। হারিয়ে ফেলেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সার্টিফিকেটটিও। জেলা প্রশাসকের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটের অনুলিপি পাওয়ার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি।

আয়োজনের শুরুতে জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরামের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা আফছার উদ্দিন মোল্লার গায়ে শাল জড়িয়ে সম্মাননা দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যায়যায়দিন মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি শহীদ-ই-হাসান তুহিন, আহ্বায়ক চিত্রকর আবদুস সাত্তার মানিক, আমাদের সময়ের কাজী দীপু, সাপ্তাহিক মুন্সীগঞ্জ সংবাদের নির্তেশ সি দত্ত ও বাফার প্রশিক্ষক পলাশ সরকার।

শেখ মোহাম্মদ রতন

[ad#co-1]