বিজয় দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান

69752_Sirajul-Islam-1সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় যা দেয়ার তা-ই দিয়েছে। দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান এবং সেই সঙ্গে নতুন সুযোগ। পূর্ববঙ্গের মানুষের জন্য তিনটিই খুব জরুরি।

পূর্ববঙ্গ হচ্ছে প্রান্তিক এলাকা। পা-ববর্জিত, ঝোপঝাড়ে ভরা, অধিকাংশ এলাকাই জলাভূমি। ১৯৪৭ সালে যখন দেশ ভাগের বিপর্যয়কর ঘটনাটি ঘটে এবং পূর্ববঙ্গ একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বতন্ত্র প্রদেশে পরিণত হয়, তখন ওই বিভাজনের জন্য দায়ী ছিল যে তিন পক্ষ তাদের প্রত্যেকেই পূর্ববঙ্গ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করতো, নাসিকাকুঞ্চন যে ঘটেনি এমনো বলা সম্ভব নয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সব সময়েই উপমহাদেশের বিভাজনের বিপক্ষে ছিল। গান্ধীজি তো বলতেনই, আগে তাকে টুকরো টুকরো করতে হবে, তারপর ভারত ভাগ হবে। ১৯৪৬ সালে তিনি নোয়াখালীর গ্রামাঞ্চলে বেশকিছু দিন ছিলেন হিন্দু-মুসলমানদের দাঙ্গা প্রতিরোধের লক্ষ্যে। সে সময়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজন নোয়াখালীতে আসেন গান্ধীর সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য। তাদের মধ্যে জওহরলাল নেহরুও ছিলেন। জল ও জঙ্গলে আকীর্ণ পূর্ববঙ্গীয় গ্রামে চলাফেরা করতে গিয়ে তাদের যে বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল তেমনটি অন্য কোথাও হয়নি। ওই সময়ে বাংলাকে ভাগ করার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উত্তপ্ত কথা কাটাকাটি চলছিল। দুর্দশাপীড়িত পূর্ববঙ্গ দর্শনের অভিজ্ঞতা লাভের সময় নেহরু নাকি মন্তব্য করেছিলেন, এ রকম একটা এলাকা ছেড়ে দিলে এমন কী ক্ষতি। তাছাড়া কংগ্রেসের নেতাদের অধিকাংশই মনে করতেন, ভাগ হয়ে সত্যি সত্যি যদি আলাদা হয়ে যায়, তাহলে পূর্ববঙ্গ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, শিগগির ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার জন্য অস্থির হবে।

দেশ ভাগের আসল নায়ক ছিল ইংরেজ শাসকরা। সেই নায়কদের (আসলে দুর্বৃত্ত) প্রধান ছিলেন যে বড়লাট, লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন তিনিও অনুরূপ ধারণা পোষণ করতেন। সে সময়ে বাংলার যিনি গভর্নর ফ্রেডরিক বারোজ তিনি তো মনে করতেন, কলকাতাকে বাদ দিয়ে পূর্ববঙ্গ যদি স্বতন্ত্র প্রদেশ হয়, তাহলে এটি হবে এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম্য ও দরিদ্র বস্তি। কেননা পূর্ববঙ্গে শিল্পকারখানা নেই, পাট হয়; কিন্তু পাটের সব কল কলকাতায় এখানে চাষবাস হয়। লোকসংখ্যা এতো যে, খাদ্যের জোগান দিতে এর সব শক্তি শেষ হয়ে যাবে। বাংলার শেষ গভর্নরদের অন্য এক অস্ট্রেলীয় আর কে কেসি আক্ষেপ করে বলে গেছেন, দেড়শ’ বছরের বৃটিশ শাসনে বাংলার কোনো উন্নতি হয়নি, বাংলার সম্পদ ও সম্ভাবনার কোনো বিকাশই ঘটেনি। অন্যদিকে বড়লাট লর্ড ওয়াভেল বলেছেন, বাংলাকে যতোই দেখেন ততোই তার মন বিষিয়ে ওঠে; তার আগে লর্ড কার্জনও একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মেকওলের বাঙালি বিদ্বেষের তো কোনো সীমা-পরিসীমাই ছিল না।

ওদিকে যিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিদার ‘জাতির পিতা’ সেই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও মনে করতেন, কলকাতাকে বাদ দিলে বাংলার কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তিনি অবশ্য বাংলার প্রদেশের সবটাই পাকিস্তানের ভাগে পড়বে বলে আশা করছিলেন। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও মনে করতেন, বিচ্ছিন্ন হলে পূর্ববঙ্গের পক্ষে গ্রাম্য বস্তিতে পরিণত হওয়াটা হবে অবধারিত বিধিলিপি। আবুল হাশিম তো বঙ্গ বিভাজনের কথা শুনে দুঃস্বপ্ন তাড়িত হয়ে অস্থির হয়েই পড়েছিলেন। পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর রাষ্ট্রের শাসকরা বাঙালিদের কী দৃষ্টিতে দেখতেন তার বড় প্রমাণ হচ্ছে জিন্নাহর এই কথা বলা যে, প্রয়োজন হলে বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষা ভুলে যাবে, তবে তাদের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে হবে। ওদিকে জন্মগোলাম পাঞ্জাবি সেনাবাহিনীর বড় কর্তা আইয়ুব খান তার বইতে ঘোষণা দিয়ে বসলেন, বাঙালিরা কোনো দিনই স্বাধীন ছিল না, তাই স্বাধীনতার মর্ম যে কী সেটা তারা বোঝে না। পাঞ্জাবি আজম খান অবশ্য বাঙালিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন না, তবে তিনি বাংলাকে চাষী ভাই ও জেলে ভাইদের দেশ হিসেবেই দেখতে পেয়েছেন, তার বেশি কিছু নয়।

এসব ব্যাপার-স্যাপার পূর্ববঙ্গের মানুষের পক্ষে মোটেই সম্মানজনক ছিল না। অথচ বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলাই ছিল সর্বাগ্রগণ্য। একটা হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ওই আমলে আন্দামানে ভয়ঙ্কর বলে বিবেচিত যেসব বন্দিকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের ভেতর বাঙালিদের সংখ্যা কেবল যে অধিক ছিল তাই নয়, যতো বাঙালি সেখানে বন্দি ছিলেন, তাদের সংখ্যা ভারতের সব প্রদেশের বন্দিদের সংখ্যার তুলনায় ছিল প্রায় তিনগুণ। তবে এ বাঙালিদের প্রায় সবাই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে মুসলিম লীগের অংশগ্রহণ ছিল একেবারেই সামান্য, আর সেই মুসলিম লীগের নেতৃত্বেই তো পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা। পূর্ববঙ্গবাসী মুসলমানদের মনে তাই আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল।

ছেচল্লিশে তারা পাকিস্তানের পক্ষে এই আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিল যে, পাকিস্তান তাদের জন্য মুক্তি এনে দেবে। কিন্তু মুক্তি তো আনলোই না, উল্টো নিয়ে এলো নতুন পরাধীনতা। পূর্ববঙ্গ তাই বিদ্রোহ করেছে। আটচল্লিশেই বিদ্রোহের সূচনা। বিদ্রোহ ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। এ যুদ্ধের সূচনাতে পূর্ববঙ্গের পক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক সমর্থন তো ছিলই না বরঞ্চ গোটা পুঁজিবাদী ও মুসলিম বিশ্ব ছিল এর বিরুদ্ধে। বাঙালিকে যুদ্ধে যেতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। কিন্তু সে যুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্রে আপাদমস্তক সুসজ্জিত এবং পুঁজিবাদী বিশ্বকর্তৃক সমর্থিত প্রায় এক লাখ সেনার একটি বাহিনীকে জন্মভূমিতে আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে এ সাফল্যের জন্য অসামান্য আত্মবিশ্বাসের কারণ হওয়ার কথা এবং সেটিই ঘটেছিল। পূর্ববঙ্গের মানুষ বুঝলো এই প্রথমবার যে, তারা পারে। তাদেরও শক্তি আছে। আছে সামর্থ্য। একাত্তরের বিজয় তাই আত্মবিশ্বাসের প্রতীক বটে, প্রমাণও বটে। প্রকৃত অর্থে বাঙালি এই প্রথমবার একটি আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলো, যার ভিত্তি ছিল ভাষাভিত্তিক এবং সে কারণে সম্পূর্ণরূপে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এ অর্জনটা সামান্য নয়।

এর সঙ্গে ছিল আত্মমর্যাদার প্রতিষ্ঠা। যে বাঙালি বারবার অপমানিত হয়েছে, যাদের সম্পদ শোষিত ও লুণ্ঠিত হয়ে অন্যত্র চলে গেছে, সেই বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্বে নিজেদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। একদা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার জন্য দাবি তুলতে গিয়ে যে বাঙালিকে প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিতে হয়েছে, সেই একই বাঙালি যুদ্ধ করে এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলো, যার রাষ্ট্রভাষা হচ্ছে বাংলা। বিশ্বের মানচিত্রে এই প্রথম বাংলাদেশ বলে একটি রাষ্ট্রের নাম পাওয়া গেল যে রাষ্ট্র পাকিস্তানের অংশ নয়, অংশ নয় ভারতেরও। পাকিস্তান টিকবে না বলে যে মন্তব্য করা হয়েছিল, সেটা সত্য প্রমাণিত হলো; কিন্তু তাই বলে পূর্ববঙ্গ ভারতীয় ইউনিয়নের অংশ হয়ে যাবে বলে যে ধারণা ছিল, সেটাও মিথ্যা হয়ে গেল। পূর্ববঙ্গ স্বাধীন হলো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে। ভারত সাহায্য করেছে, কিন্তু যুদ্ধটা ভারত পাকিস্তানের আরো তিনটি যুদ্ধের পরবর্তীটা ছিল না, এটি ছিল বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ, যাতে ভারত মিত্রশক্তি হিসেবে সাহায্য করেছে। আত্মসম্মান অবশ্য আরো অনেক উঁচু পর্যায়ে উঠে যেতো পাকিস্তানিদের যদি যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে মুক্তি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যেতো। তার জন্য অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রয়োজন হতো এবং ওই যুদ্ধের ফলে যুদ্ধের চরিত্র বদলে যেতো, হয়তো নতুন নেতৃত্বের অভ্যুদয় ঘটতো, তেমন একটা যুদ্ধের জন্যই কিন্তু মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। শত্রুপক্ষ তো নয়ই মিত্রপক্ষও চায়নি যে যুদ্ধ প্রলম্বিত হোক।

কী ঘটতে পারতো তা নিয়ে বাক্য ব্যয় অনর্থক; যা ঘটেছে তাও সামান্য নয়। বাঙালি যে যুদ্ধে গেছে তার কারণ যে কেবল প্রাণ বাঁচানোর দায় ছিল তা নয়। শুধুই প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা হলে পলায়ন ও আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটতো, যুদ্ধটা অনিবার্য হয়ে পড়তো না। পাঞ্জাবি নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী বাঙালির আত্মমর্যাদায় আঘাত করেছিল। বাঙালিরা এবার ভোট দিয়েছিল স্বাধীনতার পক্ষে, হানাদাররা বলছিল পাকিস্তান জিন্দাবাদের আওয়াজ তুলতে হবে জয় বাংলা ধ্বনি ত্যাগ করে। আত্মসম্মানের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটা এলো তখন, যখন ধর্ষণের খবর আসতে থাকলো। মুষ্টিমেয় কিছু পাকিস্তানপন্থী বাদ দিয়ে যেখানে যতো বাঙালি ছিল শুরু থেকেই তারা বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কেউ কেউ দূতাবাসে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন, পৃথিবীর বড় বড় শহরে বাঙালিরা যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছে, সমর্থন জানিয়েছে। এদের কাজের পেছনে প্রধান অনুপ্রেরণাটা ছিল আত্মসম্মান বোধ। বিদেশে পাকিস্তানি ঘাতকদের হাতে তাদের জীবন বিপন্ন ছিল না, কিন্তু নিজেদের দেশে হানাদাররা গণ্যহত্যা চালাবে এ অপমান সহ্য করা সহজ হয়নি। অপমানের বোধ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায় যখন ধর্ষণের খবরগুলো তারা পেতে থাকে। মা-বোনরা লাঞ্ছিত হচ্ছে এ সংবাদ তাদের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব ছিল। যুদ্ধে জয়ী না হলে যে মানসম্মান সব যাবে, কেবল অন্যের দৃষ্টিতে নয়, নিজের চোখেও নিজেকে অপমানিত বলে মনে হবে এবং সেই অপমান বংশপরম্পরায় বহন করতে হবে এ বোধ তাদের স্থির থাকতে দেয়নি, যারা দোদুল্যমান ছিল তারাও যুদ্ধে জয়ের জন্য যে যেভাবে পারে সাহায্য করতে চেয়েছে এবং সরাসরি অংশ নিতে পারছে না দেখে অনেকেই লজ্জা বোধ করেছে। বিদেশে পড়াশোনা সমাপ্তি রেখে চলে এসেছে এমন ঘটনা ঘটেছে। জীবন বিপন্ন করে পাকিস্তানে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে যারা যুদ্ধে যোগদান করেছেন, তাদের পক্ষে ওই রকমের দুঃসাহসিক কাজ করা যে সম্ভব হয়েছে তা মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষার অনুপ্রেরণাটা ভেতরে ছিল বলেই, নইলে সম্ভব হতো না।

শিক্ষিত মধ্যবিত্ত যুবকরা যে যেমনভাবে পেরেছে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিদ্রোহ করে অস্ত্র হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। যোগ দিয়েছে ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এসেছে শ্রমিক, কৃষক এসেছে অসংখ্য, এসেছে মেয়েরাও। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করা চাই, নইলে প্রাণে যদি বা বাঁচি তবু মানসম্মান কিছু থাকবে না, আমরা চিরকালের জন্য গোলাম হয়ে যাবো, আমাদের মেয়েরা ধর্ষিত হতে থাকবে, এ চেতনা মানুষকে স্থির থাকতে দেয়নি, বাধ্য করেছে শত্রু বিতাড়নের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণে।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির জন্য যে সম্মান এনে দিয়েছিল, তেমন ঘটনা তার জাতীয় ইতিহাসে এর আগে কখনো ঘটেনি। কেবল পূর্ববঙ্গের নয়, সব অঞ্চলের বাঙালিই সেদিন অসাধারণ গৌরব অনুভব করেছে। বিশ্ববাসী এ নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়কে অভিনন্দন জানিয়েছে। কিন্তু কেবল যে সম্মান তো নয়, একাত্তরের বিজয় সুযোগও এনে দিয়েছিল বইকি। সেই সুযোগকে বলা হয়েছে দেশ গড়ার। তবে দেশ গড়ার নয়, আসল সুযোগটা ছিল দেশের ভেতরকার সমাজকে পরিবর্তিত করার। এক কথায় সমাজ রূপান্তরের, বলা চলে সমাজ বিপ্লবের। পুরনো সমাজের জায়গায় নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে সে সমাজ হবে গণতান্ত্রিক, তার অগ্রযাত্রা হবে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অভিমুখে এটাই ছিল স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। ফলে রাষ্ট্রও বদলে যাবে, কেবল নতুন হবে না, হবে প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক এটা ছিল আশা।

সেই সুযোগকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। বস্তুত স্বাধীনতা পরিণত হয়েছে সুযোগপ্রাপ্তদের পক্ষে ধন বৃদ্ধির নতুন সুযোগে। স্বাধীনতা অর্থ দাঁড়ালো যারা পারে তাদের জন্য আরো ধনী হওয়ার স্বাধীনতা। ফলে সমষ্টিগত ঐক্যটা আর রইলো না। দেখা দিল বিচ্ছিন্নতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা। এলো আত্মবিশ্বাসের জায়গায় হতাশা, আত্মসম্মানের স্থলে মর্যাদাহানি।

১৬ ডিসেম্বরে যদি কোনো প্রতিজ্ঞা থাকে তবে সেটা আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর। ঘুরে দাঁড়াতে হবে মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন ছিল, নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের দিকে। এর বাইরে যা কিছু করি তাতে আসল কাজ করা হবে না।

[ad#co-1]