উচ্চ মূল্যে আলুবীজ ক্রয় করে মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা দিশেহারা

ডিলাররা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা, অজুহাত মুক্তবাজার অর্থনীতির
কাজী দীপ হ মুন্সীগঞ্জ থেকে: চলতি আলু মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা কম মূল্যে সার পেলেও উচ্চমূল্য দিয়ে আলু বীজ ক্রয় করতে গিয়ে দিশেহারা। অসাধু ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে চড়া মূল্যে বীজ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে নিরব রয়েছে। চড়া মূল্যে আলু বীজ বিক্রয় করার কথা স্বীকার করে বীজ ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণেই সব কিছুই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছরে মুন্সীগঞ্জ জেলায় আলু বীজের চাহিদা ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিএডিসি বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ১৪শ’ ৪০ মেট্রিক টন। এ কারণে ডিলাররা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা আলু বীজ বিক্রি করে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করছে। সরেজমিন দেখা গেছে, হল্যান্ডের ডায়মন্ড আলু বীজ, বেলজিয়ামের ডায়মন্ড, বিএডিসি’র ডায়মন্ড, ফেন্সিলা, অ্যাসটরিক্স ও কার্ডিনাল, ব্র্যাকের আলু বীজ, হিমাগারের ক্যাসিও ও অন্যান্য বীজ ছাড়া বাজারে রয়েছে কৃষকদের নিজস্ব বীজ। তবে হল্যান্ড থেকে আমদানি করা ডায়মন্ড এবং বিএডিসি ডায়মন্ড আলু বীজের চাহিদা বেশি। কৃষক আলম শেখসহ কয়েক জন জানান, কৃষকরা এবার কম মূল্যে সার পেলেও বীজ নিয়ে চলছে বাড়াবাড়ি। সরকার বিএডিসির আলু বীজ এ গ্রেড কেজি প্রতি ৩৮ টাকা, বি গ্রেড ৩৫ টাকা নির্ধারণ করলেও কৃষকদের কেজিপ্রতি ৭০/৭৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া হল্যান্ড থেকে আমদানি করা ডায়মন্ড বীজ কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০/১৭৬ টাকায়। কিন্তু এগুলো দেখার কেউ নেই।

বিএডিসির বীজ সরবরাহ ও অসহনীয় মূল্য প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ বিএডিসি বীজ ডিলার সমিতির সভাপতি মোবারক দেওয়ান জানান, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ মনিটরিং করছে। তবে বেশি মূল্যে বীজ বিক্রয়কারীদের ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক একেএম আমিনুর রহমান জানান, বিএডিসির বীজ উচ্চমূল্যে বিক্রয় করার বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে ডিলাররা দেশের বাইরে থেকে আলু বীজ আনলে সেগুলো মনিটরিং করা দুঃসাধ্য।

[ad#co-1]