মুন্সীগঞ্জে আলুবীজের উচ্চমূল্য : বিপাকে কৃষক

আলুচাষের জন্য বিখ্যাত মুন্সীগঞ্জে বিস্তীর্ণ জমিতে আলু রোপণের কাজ পুরোদমে চলছে। এ অঞ্চলের চাষিরা কমমূল্যে সার পেলেও বীজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। চড়া মূল্যে আলুবীজ বিক্রয় করার কথা বীজ ডিলারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তবে তারা জানান, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণেই সব কিছুই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ দিকে বিএডিসি’র বীজ বিক্রয়েও অনিয়ম লক্ষ করা যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর চার লাখ ৯৪ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। আলু রোপণ হয়েছিল ৩৫ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমিতে। চলতি অর্থবছরে ২৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জেলায় আলুবীজের চাহিদা ৭০ হাজার টন। বিএডিসি বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ১৪ শ’ ৪০ টন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, হল্যান্ডের ডায়মন্ড আলুবীজ, বেলজিয়ামের ডায়মন্ড, বিএডিসি’র ডায়মন্ড, ফেলসিলা, অ্যাসটরিক্স ও কার্ডিনাল, ব্র্যাকের আলু বীজ, হিমাগারের ক্যাসিও ছাড়াও অন্যান্য বীজ সরবরাহ হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে কৃষকদের নিজস্ব বীজ। তবে, হল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত ডায়মন্ড এবং বিএডিসি’র ডায়মন্ড আলুবীজের চাহিদা বেশি। সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম ও অলিউল্ল্যাহ জানান, কৃষকরা এবার কম মূল্যে সার পেলেও বীজ নিয়ে চলছে বাড়াবাড়্।ি তারা জানান, সরকার বিএডিসি’র আলুবীজ এ গ্রেড কেজিপ্রতি ৩৮ টাকা, বি গ্রেড ৩৫ টাকা নির্ধারণ করলেও তাদের কেজিপ্রতি ৭০-৭৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া হল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত ডায়মন্ড আলুবীজ কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০-১৭০ টাকায়। এগুলো দেখার কেউ নেই।

বিএডিসি’র বীজ সরবরাহ এবং অসহনীয় মূল্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএডিসি বীজ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোবারক দেওয়ান জানান, আমরাও বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্খা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ মনিটরিং করছে। যারা বেশি মূল্যে বীজ বিক্রি করছেন তাদের ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা প্রয়োজন।

সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম আমিনুর রহমান জানান, বিএডিসি’র বীজ যথাযথভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং তা বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিএডিসি’র বীজ উচ্চমূলে বিক্রি করা হলে বিষয়টি মনিটরিং করা হবে। তবে মুক্তবাজার অর্থনীতি কারণে ডিলাররা দেশের বাইরে থেকে আলুবীজ আনলে সেগুলো মনিটরিং করা দু:সাধ্য।

[ad#co-1]