বিএনপির কাউন্সিলে অতিথির তালিকা থেকে বদরুদ্দোজা অলি কোরেশী ইবরাহিম বাদ

* সামনের দিনগুলো খালেদার জন্য কঠিন: অলি
* তারেককে চেয়ারম্যান করতেই যেন সবকিছু: কোরেশী
* দাওয়াত দিলেও বদরুদ্দোজা চৌধুরী যেতেন বলে মনে হয় না: মাহী
বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.) ও পিডিপি চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশীকে বিএনপির কাউন্সিলে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার নির্দেশেই বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তিন নেতার নাম আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাদ দেয়া হয়েছে ওয়ান ইলেভেনের পর আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নাম।

জানা গেছে, বিএনপির দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ গত বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে অতিথিদের তালিকা দেখালে খালেদা জিয়া এই নির্দেশ দেন। তালিকা কে করেছে তিনি জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ চুপ থাকেন। এ বিষয়ে জানার জন্য চেষ্টা করেও রিজভী আহমেদকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দলের সহপ্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন মোহন গতকাল আমাদের সময়কে বলেন ‘এটা ওপরের বিষয়। তবে কী কারণে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না’।

আমন্ত্রণ না পাওয়ার কথা স্বীকার করে অলি আহমদ গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, আরো আগেই বিএনপির কাউন্সিল করা উচিত ছিল। বর্তমানে যে কাউন্সিল হতে যাচ্ছে তা করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের চাপের মুখে। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলো বেগম জিয়ার জন্য খুবই কঠিন। তাকে অনেকগুলো অনভিপ্রেত সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তিনি যদি সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর হাতে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে পারেন, তাহলে হয়তো বিএনপি আবার সুসংগঠিত হবে। অন্যথায় দলটি দিনদিন আরো দুর্বল হয়ে যাবে।

ড. অলি বলেন, আমি বিএনপির কাউন্সিলের সার্বিক সফলতা কামনা করি। বিএনপিতে বেগম জিয়ার কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, এখনো নেই। তবে সবকিছু নির্ভর করে তার দূরদর্শিতা এবং সঠিক ও কঠোর সিদ্ধান্তের ওপর। জনগণ আশা করে এই কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতন্ত্র আরো সুসংহত হবে। বিএনপিতে সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন হবে।

পিডিপি চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌস কোরেশী আমাদের সময়কে জানান, তিনি বিএনপির কাউন্সিলের আমন্ত্রণপত্র পাননি। বিএনপির কেউ তার বা পিডিপির সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। তিনি বলেন, একটি দল কতটুকু গণতান্ত্রিক হবে তা নির্ভর করে নেতৃত্বের মাইন্ডসেটের ওপর। বিএনপিতে এখন যে কালচার তাতে মনে হচ্ছে তারেক রহমানকে কীভাবে দলের চেয়ারম্যান বানানো যায়, সবকিছু যেন সেই চিন্তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। তার মতে, দল গণতান্ত্রিক না-কি মালিকানার ভিত্তিতে চলবে সেজন্য সর্বাগ্রে দরকার নেতৃত্বের মাইন্ডসেট। নইলে এই কাউন্সিল হবে স্রেফ আইওয়াশ।

কোরেশী বলেন, বিএনপিকে গণতান্ত্রিক করতে ’৮৫ সালেই আমরা দলের গঠনতন্ত্রে সাতটি ধারার সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিই। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তও হয়েছিল। বেগম জিয়াও সেদিন এতে স্বাক্ষর করেছিলেন। কথা ছিল সর্বস্তরে নির্বাচিত কমিটি হবে। তবে ’৮৫ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে আমাকে সেই সংশোধনীর প্রস্তাব উত্থাপন করতে দেয়া হয়নি। প্রতিবাদে সেই কাউন্সিলের মঞ্চে বসেই খালেদা জিয়াকে চিঠি লিখি। তাতে বলেছিলাম যদি এসব সংশোধনী আনা না হয় তাহলে আমাকে যেন কোনো অনির্বাচিত কমিটিতে রাখা না হয়। খামে ভরে বেগম জিয়ার হাতে সেই চিঠি দিয়ে আমি সেদিন অনুষ্ঠান থেকে চলে আসি। সেই ঘটনা থেকেই বিএনপির সঙ্গে আমার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আজ এত বছর পর কাউন্সিলে তারা কী পরিবর্তন আনবেন জানি না।

বিকল্পধারার মুখপাত্র ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহী বি. চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, কাকে দাওয়াত দেয়া হবে, কেন কাকে দেয়া হবে না তা বিএনপির ঘরের বিষয়। পত্রপত্রিকায় দেখছি বিকল্পধারাকেও দাওয়াত দেয়া হবে। তবে আমরা কোনো আমন্ত্রণপত্র এখন পর্যন্ত পাইনি। আর দাওয়াত দিলেও বি. চৌধুরী বিএনপির কাউন্সিলে যেতেন বলে আমার মনে হয় না, হয়তো শুভেচ্ছা বাণী পাঠাতেন।

মাহী চৌধুরী বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক দলেরÑই কাউন্সিল হওয়া ভালো। সে অর্থে বিএনপিরও কাউন্সিল হচ্ছে, এটা ভালো কথা। জনগণের যে প্রত্যাশা তা যদি বিএনপির কাউন্সিলে পূরণ হয় তাহলে তা তাদের জন্যও ভালো।

বি. চৌধুরী, অলি আহমদ, ফেরদৌস কোরেশী ও জেনারেল ইব্রাহিমের নাম বাদ দেয়া হলেও বিএনপির কাউন্সিলে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ঘরানার অন্য দলগুলোকে। তাদের নামে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যেই আমন্ত্রণপত্র ইসু করা হয়েছে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ এসব দলের প্রধানরা বেশিরভাগই ইতোমধ্যে বিএনপির কাউন্সিলে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
[ad#co-1]