প্রতারণার নতুন ফাঁদ

কাবিননামা জাল জালিয়াত করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এক প্রবাসী যুবককে বিয়ে করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এক নারী। পারভীন আক্তার (৩০) নামে ওই ছলনাময়ীর প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশেষে প্রবাসী যুবক মহসিন প্রধান মুন্সীগঞ্জ সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। ঢাকার একটি কাজী অফিসের নামে নিকাহনামা জাল করে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলা বাজার গ্রামের কালা মিয়া প্রধানের ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. মহসিন প্রধানকে স্বামী দাবি করে ব্লাক মেইলিং করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মহসনিকে শায়েস্তা করতে চতুর পারভীন ভাড়া করেছে মুন্সীগঞ্জ শহরের কোর্টগাঁও গ্রামের কিছু বখাটে যুবককে। নিকাহনামা জাল করার ঘটনা ফাঁস ও আইনের শরণাপন্ন হলে পারভীন প্রবাসী মহসিনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। নিরুপায় হয়ে মহসিন সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন পারভীন আক্তারকে আসামি করে। মামলা সূত্র জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার সুরমা সদর গ্রামের মরহুম লাল মিয়া শেখের স্বামী পরিত্যক্তা কন্যা পারভীন আক্তারের সঙ্গে সৌদি আরবে মহসিন প্রধানের পরিচয় হয়। গত ২৬শে এপ্রিল মহসিন দেশে ফিরে এসে বিয়ে করে। এরপর ঢাকার কোতোয়ালি ২৮, জনসন রোডের মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী অফিসের কাবিননামা জাল জালিয়াত করে মহসিনকে স্বামী দাবি করে পারভীন। মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে কিছু বখাটে যুবককে ভাড়া করে মহসিনের বাড়িতে হাজির হয় সে। ভুয়া কাবিননামা দেখিয়ে মহসিনকে স্বামী দাবি করলে মহসিনের পরিবার পরিজন অস্বস্তিতে পড়ে। পরে জনসন রোডের কাজী অফিসে মহসিনের আত্মীয়-স্বজনরা ওই কাবিননামা নিয়ে সত্যতা যাচাই করতে গেলে তা ভুয়া ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনকারী কাজী মাওলানা মো. সাদেক উল্লাহ ভূঁইয়া মহসিন প্রধানকে ১৯শে অক্টোবর তার অফিসে এ ধরনের রেজিস্টারি ও অফিসের সিল দস্তখত সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে এক প্রত্যয়নপত্র দেয়। ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরও মহসিন প্রধানকে প্রাণনাশের হুমকি ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পারভীন ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়। পরে বাধ্য হয়ে পারভীন আক্তারকে মূল আসামি ও মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক কাজী মাওলানা মো. সাদেক উল্লাহ ভূঁইয়াকে মোকাবিলা বিবাদী করে আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন মহসিন প্রধান।

[ad#co-1]