কালজয়ী সেই কথাশিল্পী – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

manikজীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায় যদি হয় লেখালেখি, তাহলে একটু অবাক হতেই হয়। কেননা পঞ্চাশ বছর আগে তো বটেই বর্তমান সময়েও ভারতীয় উপমহাদেশে লেখালেখি পেশা হিসেবে গ্রহণ করা এক কথায় প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সেই কাজটিই করে গেছেন বাংলা সাহিত্যের অসম্ভব জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। অসংখ্য জনপ্রিয় গল্প ও উপন্যাসের স্রষ্টা এই কালজয়ী লেখকের আজ ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০৮ সালের ১৯ মে ভারতের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে। তার প্রকৃত নাম প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় আর ডাকনাম ছিল মানিক। তীক্ষষ্টধীসম্পন্ন এই মেধাবী লেখকের শিক্ষাজীবন ছিল বর্ণাঢ্য। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অঙ্কে অনার্স নিয়ে বিএসসি শ্রেণীতে ভর্তি হন। কিন্তু লেখালেখিতে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় আর পড়াশোনা এগোতে পারেনি। লেখাই হয়ে ওঠে তার মূল পেশা। তিনি কিছুদিন ‘নবারুণ’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এবং ‘বনশ্রী’ নামে আরেকটি পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। কয়েক মাস সরকারি চাকরিও করেছেন। সত্যি কথা বলতে কী, কোথাও তার মন টেকেনি, ধরে রাখতে পারেনি নিশ্চিত জীবিকার মোহ। তার অস্থি-মজ্জাজুড়ে ছিল শব্দের ভাঁজে ভাঁজে নতুন শব্দ ফেলে মানবজীবনের অন্তরঙ্গ আর বাহ্যিক সত্যকে প্রকাশ করা। তিনি তার আটচলি্লশ বছরের জীবনে করেছেনও তাই। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার এই সংক্ষিপ্ত জীবনে মোট ৪২টি উপন্যাস এবং দুই শতাধিক গল্প রচনা করেছেন। তবে তার সাহিত্যিক জীবনের শুরুটা ছিল খুবই অভিনব। একবার তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কলেজ ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ এক বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে বললেন, তার লেখা গল্প ‘বিচিত্রা’ ছাপবে। সে সময় বিচিত্রা ছিল বিখ্যাত পত্রিকা। এতে নামকরা লেখকদের লেখাই কেবল ছাপা হতো। বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে মানিক লিখলেন তার প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ এবং তা বিচিত্রায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। তার নাম ছড়িয়ে পড়ে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে। এরপর থেকে তিনি প্রায় নিয়মিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা শুরু করেন। তার রচনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো_ উপন্যাস : পদ্মা নদীর মাঝি, জননী, চতুষ্কোণ, স্বাধীনতার স্বাদ, আরোগ্য, প্রতিবিম্ব, চালচলন, দর্পণ, তেইশ বছর আগে পরে, চিন্তামণি, পুতুল নাচের ইতিকথা, ইতিকথার পরের কথা, হরফ, শুভাশুভ, হলুদ নদী সবুজ বন, ফেরিওয়ালা, অহিংসা, ধরাবাঁধা জীবন, অমৃতস্য পুত্রাঃ ইতাদি। বাংলা সাহিত্যের উপন্যাসের ক্ষেত্রে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছিলেন সমাজ আর মনোজটিল দ্বন্দ্বকে। তার প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা উপন্যাসগুলোতে মানবমনের জটিলতার অসাধারণ ব্যাখ্যা মেলে। পুতুল নাচের ইতিকথা ও পদ্মা নদীর মাঝি তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যা বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। এই কালজয়ী লেখক ১৯৫৬ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন।

Manik100

[ad#co-1]