লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ীতে খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে গত পাঁচ মাস ধরে

সাইফুল ইসলাম তালুকদার হ মুন্সীগঞ্জ থেকে ফিরে: মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী এলাকায় তালতলা-ডহুরি খালে গত পাঁচ মাস ধরে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে খিদিরপাড়া ইউনিয়নের কাজিরগাঁও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের হুমকির মুখে পড়লেও দেখার নেই কেউ। জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করলেও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কাজিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক নেতা এম শাহজাহান মিয়া গত শুক্রবার অবৈধ বালু উত্তোলনের মূলনায়ক কাইয়ুম মাঝির নামে লৌহজং থানায় সাধারণ ডাইরি করেছেন। ডাইরির সূত্র ধরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। কাইয়ুম মাঝিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে ‘আর খাল থেকে বালু উত্তোলন করা হবে না’ মর্মে কাইয়ুমের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করে পুলিশ।

জানা গেছে, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পরিষদের সুপারিশে বৃহত্তর ঢাকা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জ থানাপাড়া এলাকার মেসার্স আহছানুর রহমানকে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার উত্তর রায়পুর থেকে নূরপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত খালের ৫০ হাজার ৫শ ঘনমিটার বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ দেন চলতি বছরের ৯ জুন। কার্যাদেশের মেয়াদ ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু ঐ কার্যাদেশ দেখিয়ে মেসার্স আহছানুর রহমানের নিয়োগকৃত কাইয়ুম গং গত পাঁচ মাস ধরে অবৈধভাবে ঐ খালের টঙ্গিবাড়ী এবং কার্যাদেশের আওতাবহির্ভূত লৌহজং উপজেলা এলাকা থেকে দিনরাত বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে কার্যাদেশের বাইরে গত পাঁচ মাসে কাইয়ুম গং অন্তত দশ লাখ ঘনমিটার বালু উত্তোলন করেছে। এর কারণ জানতে চাইলে তাদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মেসার্স আহছানুর রহমানকে দেয়া কার্যাদেশের মেয়াদ ছিল ৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত। কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ মাস পরও এখন পর্যন্ত বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে তারা এখনো এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কারো কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাননি।

[ad#co-1]