গজারিয়ায় আ.লীগ সমর্থকদের হামলা, ভাঙচুর, আহত ৪৫

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি ইউনিয়নের চরবলাকী গ্রামে হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে শতাধিক বাড়ি। নির্যাতনের শিকার লোকজনের অভিযোগ, হোসেন্দি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল হকের নেতৃত্বে লোকজন এ হামলা চালায়।

গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারদিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত চরবলাকী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় হোসেন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল হক ও একই গ্রামের বিএনপির সমর্থক গিয়াস উদ্দিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমিরুল হক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মেঘনা নদীর তীরবর্তী কৃষকের ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেন। জমির মালিকেরা এতে বাধা দেন। এর জের ধরে গত রোববার দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। গতকাল সোমবার সকালে আমিরুলের লোকজন একত্র হয়ে লাঠিসোটা, বল্লম নিয়ে গ্রামে গিয়ে হামলা চালায়। এতে নারী ও শিশুসহ ৪৫ আহত হয়। শতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

আহত লোকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন গৃহবধূ রাশেদা (৩৫) বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দল করি না। তার পরও আমিরুল হক তাঁর লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে মালামাল লুট করেছেন। আমরা এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে আমিরুল হক বলেন, ‘গত রোববার গ্রামের লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। এ কারণে হয়তো আমার লোকজন গ্রামে গিয়ে কিছু ভাঙচুর করেছে। তবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’

গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান দেওয়ান জানান, ‘বিরোধীরাই আমিরুল হকের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে গতকালের ঘটনায় আমিরুল দায়ী হলে দলীয় বৈঠকে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’
ঘটনার পর গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ভাঙচুর হওয়া বাড়িঘর পরিদর্শন করেছে। ইউএনও জানান, ‘যেভাবে মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে তা অমানবিক।’

এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই পক্ষই থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ করেছে।

[ad#co-1]