জয়ীতা সে সৃষ্টি স্বরূপীনি

নূহ-উল-আলম লেনিন
জয়ীতা কে? তার সঙ্গে কী সম্পর্ক আমার-এসব নিয়ে প্রশ্ন
নানা জনে নানা সন্দেহ, ভীষণ সংশয়। কেউ বলে
পরস্ত্রী, তার সঙ্গে পরকীয়া ভীষণ বাড়াবাড়ি। লোকটিকে
ধরেছে ভীমরতি, এ বয়সে এসব কাব্যকৃতী, ছি! জাত গেল,
পৃথিবীটা গেলো রসাতলে। কেউ বলে, ঘোর কলি, জয়ীতা
যে মেয়ের বয়সী, তার সঙ্গে রতি বা আরতি,
এইসব অনাচার সইবে না বিধি।

রাজনীতিবিদ বলেন, ছিলেন তো ভালোলোক, নির্বিরোধী ভদ্র গোবেচারা
হঠাৎ কী হলো তার, কী জানি! হয় তো বা পান নাই ক্ষমতার বাটোয়ারা,
মন্ত্রী বা ষড়যন্ত্রী কিছুই না হতে পেরে হাতশ লক্ষ্মীছাড়া-
হয় তো বা মাথা নাই ঠিক।

হুজুর কেবলা বলেন নাউজুবিল্লাহ! ধর্মে মতি নেই, সেজদা
দিতে দেখি নাই জীবনে তাহাকে। রাখেন না রোজা। পরকালের
ভয় ডর নাই। হয়েছে বরবাদ
এক্কেবারে নাখাস্তা নাস্তিক মুরতাদ।

বলেন কবিরা এ আবার কে হে! কবিদের বাড়াভাতে
দিতে এলো ছাই! না বোঝে ছন্দ সুর রূপ রস অলঙ্কার
নন্দনতত্ত্ব কবিতার। কোথাকার জয়ীতাকে নিয়ে হৈ চৈ
কাব্যলক্ষ্মীর অপমান সইবো না আর। ঝেঁটিয়ে বিদায়
করো তাকে, কাব্যভুবনে কভু ঠাঁই নাই তাঁর।

জয়ীতা অভয় নিয়ে দাঁড়ায় সম্মুখে। বলে কানে কানে
ভালোবাসায় অন্ধ তুমি আমার কারণে।
হাতে হাত রাখো আর উর্ধ্বে তোল শির
জয়ডঙ্কা বাজিয়ে অধীর, চলো যাই মানুষের মর্ম মূলে
রৌদ্রনীল সভ্যতার ঠিকুজি সন্ধানে।

জয়ীতা কে? জয়ীতা আমার প্রিয়তমা প্রথম মানবী, আদিমাতা
তারপর কালস্রোতে কন্যা-জায়া-জননী সে বিশ্বরূপেন সংস্থিতা।
প্রেমিকা সে ভুবন মোহিনী, অকল্যাণ অসুন্দর ও অশুভের কাছে সে
মহিষমর্দিনী। কখনো স্বপ্নিলা সে, কখনো চিন্ময়ী, কখনো বা চন্দ্রিলা-
কখনো মনীষা-সৃষ্টি স্বরূপীনি। জয়ীতাকে তাই আমি বাসিয়াছি ভালো
জয়ীতা আমার কাছে অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো।’

[ad#co-1]

One Response

Write a Comment»
  1. pore khub valo laglo,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, lenin vy er r o new kobita dekhte chy prottikar patai…………………………….