অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকিদাতা রেজাউলের সঙ্গে জঙ্গি কানেকশন!

রাজশাহী মহানগর পুলিশ অফিসে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
বঙ্গবন্ধু হতা মামলার রায়ের দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ‘জামায়াতে আহলে হাদীসে’ নামে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিমকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত বুধবার রাতে ও গতকাল রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে দেশের কয়েকজন ব্যক্তির বেশি যোগাযোগ রাখার যে তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে তাদের মধ্যে রেজাউল করিম অন্যতম। জিজ্ঞাসাবাদে অ্যাটর্নি জেনারেলকে হত্যার হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠি যে রেজাউল করিমের হাতের তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও হটকানেকশন থাকার বিষয়টিও পুলিশ ক্ষতিয়ে দেখছে। গত বুধবার রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজাউল করিম ৯০ দশকের পুর্বে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯০ সালের দিকে তিনি আহলে হাদীস আন্দোলনে যোগ দেন। পরে তিনি আহলে হাদীস আন্দোলন ও তার সমাজ কল্যাণমুলক প্রতিষ্ঠান তাওহীদ ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হন। দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়নে এবং তওহীদ ট্রাস্টের আওতায় উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে নির্মিত আহলে হাদীস জামে মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কার কাজে দাতা সংস্থাগুলো রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০১ সালে আহলে হাদীস আন্দোলন ও তাওহীদ ট্রাস্ট থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ওই বছরই দাতা সংস্থাগুলোও তাওহীদ ট্রাস্টের সকল অনুদান বন্ধ করে দেয়। কুয়েতের ধর্মভিত্তিক দাতা সংস্থা চার্জ দি এফেয়ার্স ও রিভাইবেল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটিসহ সৌদি আরবের দাতা সংস্থাগুলোর অনুদানে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে আহলে হাদীসের সাতটি মাদ্রাসা, প্রায় সাড়ে ৮শ নতুন মসজিদ নির্মাণ, প্রায় ১ হাজার মসজিদ সংস্কার ও একটি হাদীস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বহিষ্কারের পর রেজাউল করিম তাওহীদ ট্রাস্টের কোটি টাকার সম্পদ দখলের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালায় এবং আহলে হাদীস আন্দোলনের কিছু সদস্যকে নিয়ে কয়েকবার নতুন সংগঠন সৃষ্টির চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে তার নেতৃত্বে গঠন করা হয় নতুন সংগঠন জামায়াতে আহলে হাদীস বাংলাদেশ। এ সংগঠনেরও তিনি সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হন। তার বিরুদ্ধে শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমানের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠকসহ জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অভিযোগ পুলিশ পেয়েছে।

রেজাউল করিম বগুড়ার আযিযুল হক সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার নারুলী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়।

[ad#co-1]