সরকারি জমি এখন ওসমান গণির!

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের ঘাসিপুকুরপাড় গ্রামের সরকারি জায়গায় জোরপূর্বক ঘর তুলে ও টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী ওসমান গণি। রোববার থানা পুলিশের যোগসাজশে হালটের মাঝখানে ঘর তোলে ও বেড়া দিয়ে রাস্তা আটকিয়ে দেয় ওসমান গণির লোকজন। এতে জনসাধারণের এ হালট দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওসমান গণি এই জায়গাটি দখল করার নানা পাঁয়তারা চালায়।

জনস্বার্থে সরকারি জায়গাটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখতে প্রতিবেশী কাশেম চোকদার মুন্সীগঞ্জ আদালতে ওসমান গণির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার রায় ওসমান গণির বিরুদ্ধে গেলেও জায়গাটি অবৈধভাবে দখলে নেয়ার ব্যাপারে সক্রিয় থাকেন। ওসমান গণির লোকজন কাশেম চোকদারের পরিবারকে নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম এ ব্যাপারে শুরু করেছে লুকোচুরি-টালবাহানা। কাশেম চোকদারের জিডির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি জায়গায় ঘর না তোলার জন্য ওসমান গণিকে নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু ওসমান গণির লোকজন জোরপূর্বক ঘর তুললেও পুলিশ থাকে নিষ্ক্রিয়।

পুলিশের দ্বিমুখী আচরণে কাশেম চোকদারসহ এলাকাবাসী অসহায় হয়ে পড়েছেন। জানা যায়, ঘাসিপুকুরপাড় গ্রামের কাশেম চোকদারের বসতবাড়ির পাশের সরকারি হালট নিয়ে প্রতিবেশী ওসমান গণির সঙ্গে মামলা চলে। গ্রামবাসীর পক্ষে ১৫৮ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট চওড়া সরকারি এ হালটটি রক্ষার্থে কাশেম চোকদার সহকারী জজ আদালতে ২০০৬ সালে মামলা করেন। আদালত ৩০ জুলাই কাশেম চোকদারের পক্ষে রায় দেন। এই রায়ের পরও ওসমান গণি ক্ষ্যান্ত হননি। অবৈধ দখলের চেষ্টা চালাতে থাকে।

কাশেম চোকদার সদর থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডাইরি করলে ওই জায়গায় কোনো কর্মকা- না করে শান্তি বজায় রাখতে উভয়পক্ষকে ১৪ নভেম্বর নোটশ প্রদান করা হয়। উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসী থানায় এলে কোরবানির ঈদের পর দু’পক্ষ বসে মীমাংসা করার জন্য ওসি শহীদুল্লাহ জানিয়ে দেন। কিন্তু ওসমান গণি রাতের আঁধারে রোববার লোকজন নিয়ে সরকারি ওই হালটে ঘর তুলে ফেলে। থানায় এ ব্যাপারে খবর জানানো হলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, আমি চেষ্টা করেছি। আমার আর কী করার আছে। তাদের কোর্টে যেতে বলেছি।

[ad#co-1]