যানজট কমাতে প্রশাসনিক কাজের বিকেন্দ্রীকরণ দরকার

মহিবুর রহমান
রাজধানীতে যানজট এখন চরমে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে ট্রাফিক সিগন্যালে ব্যবহৃত দামি দামি যন্ত্রপাতি আপন গতিতে সিগন্যাল দিয়ে যাচ্ছে কখন লাল বাতিতে গাড়ি চলছে, কখন সবুজ বাতিতে থেমে আছে, যা দেখলে যে কোনো পর্যটক নিজেই নিজেকে চিমটি কাটবেন, তিনি ঘুমিয়ে আছেন নাকি জেগে আছেন তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। প্রকৃত কারণ হলো সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ট্রফিক পুলিশের হাত দ্বারা, ইলেকট্রিক সিগন্যালে নয়। সুতরাং লাল বাতি বা সবুজ বাতিতে কি আসে-যায়! অন্যদিকে ওইসব দামি দামি যন্ত্রপাতির ক্ষয় আর বিদ্যুতের অপচয়ের এক অপূর্ব সমন্বয় চলছে দিনের পর দিন।

যদিও সরকার যানজট নিরসনে আন্তরিক, কিন্তু সমাধান আদৌ অদৃশ্য। যানজটের কারণ খুঁজতে গেলে নানাজনের নানামত লক্ষ্য করা যায়, যেমন রিকশা, প্রাইভেটকার, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, ফ্লাইওভারের সংখ্যা কম, পুরনো গাড়ি, সচেতনতার অভাব, আয়তনের তুলনার অধিবাসী সংখ্যা ইত্যাদি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন, নতুন নতুন ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস নির্মাণ, ট্রাফিক বা ট্রাফিক আইনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি তথা অত্যাধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল কোনো কিছুই রাজধানীবাসীর যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারবে না, কেননা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে ঢাকার লোকসংখ্যা। তাই নতুন ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস নির্মাণ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল হবে শূন্য।

কিছুদিন আগেও নির্দিষ্ট সময়বিশেষে যানজট লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে মোটামুটিভাবে সার্বক্ষণিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই এ সমস্যা নিরসনে প্রশাসনিক কাজের বিকেন্দ্রীকরণই হতে পারে গ্রহণযোগ্য সমাধান। কেননা নতুন নতুন ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, রাস্তা নির্মাণ সাময়িক স্বস্তি দিলেও চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসার প্রয়োজনে জনচাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবার যানজট বৃদ্ধি পাবে এবং একটা সময়ে এসে নতুন নতুন ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস নির্মাণের জায়গাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
mahibbd@gmail.com

[ad#co-1]