ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে মাদকের চালান ঢুকছে রাজধানীতে

র‌্যাব-পুলিশ অসহায়
গোলাম মঞ্জুরে মওলা অপু লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)
ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে অভিনব কৌশলে রাজধানীতে আসছে মাদকের চালান। ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাস-ট্রাক-প্রাইভেটকারে করে এমন কৌশলে আনা হয় যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কিছু করার থাকে না। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান করিডোর এই মহাসড়কটি এখন মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট। সম্প্রতি এই রুটের মাদক চোরাচালানিরা হয়ে উঠেছে আরো বেপরোয়া। তাদের নিত্যনতুন কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্খার সদস্যরা।

সীমান্ত এলাকা থেকে অবাধে রাজধানীতে প্রবেশ করছে মরণ নেশা ফেনসিডিল ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য। দূরপাল্লার পরিবহন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর পদ্মার নৌপথে অভিনব কৌশলে পাচার হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ মাদক। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম করিডোর ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক এখন মাদক চোরাচালানের অন্যতম নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এই মহাসড়কের মাওয়া, কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটসহ পদ্মার উভয় পাড়ে র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে আটক করা হয় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল। এরপর থেকেই এ পয়েন্ট দিয়ে অবাধে রাজধানীতে মাদক প্রবেশের বিষয়টি স্খানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে।
পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মাদক পাচারের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। এমনভাবে মাদকদ্রব্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্খার সদস্যরাও অনুমান করতে পারেন না। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো মাদকের চালানই আটক করা সম্ভব নয় বলে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে।
চোরাচালান চক্র নারকেল বা পেঁপের বস্তায় ভরে, সাপুড়েদের সাপের ডালিতে, গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারে, মহিলাদের শরীরে বেঁধে মাদকদ্রব্য ঢাকায় পাঠাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-পুলিশ কয়েকটি চালান আটক করলে বেশির ভাগই তা স্বাচ্ছন্দ্যে পার হয়ে যাচ্ছে।

গত ১ এপ্রিল ভোর রাতে কাঁচা পেঁপের বস্তায় ভরে ৩২৭ বোতল ফেনসিডিল পাচারকালে মাওয়া ফেরিঘাটের পূর্বপাশ থেকে আটক করে ফাঁড়ি পুলিশ। গত ২৩ অক্টোবর র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা ঢাকাগামী সুন্দরবন পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি করে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ এক মহিলাকে আটক করে। সম্প্রতি র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা মাদারীপুরের চারজানাজাত ৩ নম্বর ঘাটে একটি পিকআপ গাড়ি থেকে এক হাজার ৬৫০ বোতল ফেনসিডিলের চালান আটক করে। র‌্যাব-১১ খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বনফুল পরিবহনের একটি বাসে নারকেলের ভেতরে সুকৌশলে পাচারকালে ৮৮ বোতল ফেনসিডিলের চালান আটক করে। এর কিছু দিন পর পদ্মা নদীর শাখাবেষ্টিত শ্রীনগর-গোয়ালীমান্দ্রা খালে ট্রলারযোগে পাচারকালে সাপের বাক্সভর্তি ৬৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার সর্বত্র মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। বর্তমানে এই উপজেলা তিনটির অসংখ্য স্পটে চলছে মাদকদ্রব্যের অবাধ বেচাকেনা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে মাদকদ্রব্যের চালান এই অঞ্চল দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করলেও মাদক সিন্ডিকেট চক্র নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করায় আইন প্রয়োগকারী সংস্খার অজানাই থেকে যায় অনেক কিছু।

[ad#co-1]