মুন্সীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্ক পন্ড করে দিয়েছে ডাক্তার-কর্মচারীরা

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে বসা সচেতন নাগরিক কমিটির ভ্রাম্যমাণ তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক (এআই ডেস্ক)-এর কার্যক্রম বুধবার সকালে ডাক্তার-কর্মচারীরা প- করে দিয়েছে। তারা জোরপূর্বক তুলে দিয়ে এআই ডেস্কের স্বেচ্ছাসেবকদের জোরপূর্বক অপধস্ত করে বের করে দেয়। এ নিয়ে হাসপাতালে বাকবিত-া ও হট্টগোল হয়। হাড় বিশেষজ্ঞ ডা. আয়ুব আলী ও ডেন্টাল সার্জন ডা. আবুল কাশেমের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। ডাক্তাররা রোগী দেখা বন্ধ করে যার যার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভ্র্যামান এআই ডেস্ক স্থাপন করা অধিকাংশ ডাক্তার ও কর্মচারীরা সুনজরে দেখছে না। আগত রোগীরা এআই ডেস্কে তাদের অভিযোগ জানায়। সে সকল অভিযোগ সিভিল সার্জনের সামনে তুলে ধরা হয়। তাই ডাক্তার ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্কের স্বেচ্ছাসেবক নুসরাত জাহান মলি জানান, বরাবরের মতোই হাসপাতালের করিডরে বুধবার সকাল পোনে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্ক বসানোর পর হাসপাতালের এক কর্মচারী এসে আমাদের চলে যেতে বলে। আমারা চলে যাচ্ছি না দেখে ডাক্তাররা রোগী দেখা বন্ধ করে যার যার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার-কর্মচারীরা এসে আমাদের অপমানজনকভাবে জোরপূর্বক বের করে দেয়। ডাক্তারদের এ ধরনের আচরণে আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত ।

মুন্সীগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সহকারী প্রোগাম অফিসার সৈয়দা শবনম মোস্তারি জানান, জনসাধারণকে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি তথ্য ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে ১৫দিন অন্তর অন্তর এ হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্ক বসানো হয়। সিভিল সার্জন ও আরএমও-এর অনুমতিক্রমে এ হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্ক পরিচালিত হয়ে আসছে। সিভিল সার্জন ডা. কে এম আশরাফ উজ্জামান এক মতবিনিময় সভায় হাসপাতালে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্ক স্থাপনের আহবান জানিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক খালেদা খানম বলেন, আমরা জনগণের সেবার জন্য কাজ করছি। আমাদের জনসেবামূলক কাজে হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীদের বাধা প্রদান করা আমাদের মর্মাহত করেছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এহসানুল করিম জানান, এআই ডেস্ক এখানে থাকুক ডাক্তাররা যেহেতু চাচ্ছেন না তাই আজকে তাদের চলে যেতে বলেছি।
হাড় বিশেষজ্ঞ ডা. আয়ুব আলী জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এখানে ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্ক স্থাপন করায় তাদের চলে যেতে বলেছি। প্রতিদিন এখানে ভ্রাম্যমাণ এআই ডেস্ক বসার কোনো দরকার নেই। সিভিল সার্জন ডা. কে এম আশরাফ উজ্জামান জানান, আমি ঢাকায় একটি মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।

[ad#co-1]