তারেক-মাহী নীরব, এগিয়ে আসছেন জয়

3-youngআকিদুল ইসলাম, সিডনি থেকে:
ঐতিহাসিক ওয়ান ইলেভেনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনজন যুবক একইসঙ্গে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াপুত্র তারেক রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীপুত্র মাহী বি চৌধুরী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশের আগামীদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে তাদেরই হাতে অর্পিত হবে তা ছিল নিশ্চিত। সেভাবেই তারা তৈরি হচ্ছিলেন। সেভাবেই তাদের দলকে পুনর্গঠিত করা হচ্ছিল। তাদের কথা বিবেচনা করেই মূলত দেশের প্রধান দুটি দলে তারুণ্যের সমাবেশ ঘটছিল।

তারা তিনজনই বিপুল প্রত্যাশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন দেশের মানুষের মনে ও স্বপ্নে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত জনতাও বুঝেছিল, ষাট আর সত্তর দশকের রাজনৈতিক ভাবনা দিয়ে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। চাই নতুন চিন্তা। নতুন চেতনা। এজন্যই দেশের মানুষ স্বাগত জানিয়েছিল তারুণ্যের অগ্রযাত্রাকে। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিতে অভ্যস্ত আমাদের জনগোষ্ঠী ধরেই নিয়েছিল আগামীদিনের রাজনীতি হবে তারেক, মাহী আর জয়ের।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জয়ের চেয়ে তারেক-মাহী কিছুটা এগিয়ে ছিলেন। জয় যখন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনায় মগ্ন তারেক-মাহী তখন বাংলাদেশের মঞ্চে ও রাজপথে সক্রিয়। ’৯৬-এর নির্বাচনের সময়ও জয় নির্বাচনি প্রচারণায় সার্বক্ষণিক ছিলেন না। আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মাকে নিজের মেধা আর অভিজ্ঞতার আলোকে আধুনিক প্রযুক্তিবিষয়ক কিছু পরামর্শ দিয়ে দেশকে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন মাত্র। ২০০১-এর নির্বাচনের পর বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমান আর জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মাহী বি চৌধুরী যখন মূলধারার রাজনীতির মঞ্চে নিজেদের জন্য পাকা আসন তৈরি করে নিলেন সজীব ওয়াজেদ জয় তখনো প্রবাস থেকে অবলোকন করছিলেন বঙ্গোপসাগর পাড়ের রাজনীতির স্রোতধারা। কর্মীদের কাছে প্রিয়মুখ হয়েও তিনি দলীয় খাতায় কখনো নিজের নাম লেখাননি।

ওয়ান ইলেভেনের সময় দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে যখন নানা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তখন শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে বাংলাদেশের দিকে মনোযোগী হতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মীদের মনোবল ফেরাতেও তিনি প্রবাসের দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেন। জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে তার কণ্ঠও ছিল তেজোদ্দীপ্ত। মূলত ওয়ান ইলেভেনকেন্দ্রিক পটভূমিতেই তারেক-মাহীকে বেশ কিছুটা পথ পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র। ওয়ান ইলেভেন তারেক জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি এখন লন্ডনে চিকিৎসাধীন। মাহী বি চৌধুরীও দীর্ঘদিন নীরব। মঞ্চে নেই। মিডিয়াতেও নেই।

সজীব ওয়াজেদ জয় এখন সক্রিয়। দলীয় কর্মকাণ্ড ছাড়াও সরকারি কর্মকাণ্ডেও তাকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। তিনি সরকারের কেউ নন। দলেরও নন। তারপরও তিনিই ধীরে ধীরে অপরিহার্য হয়ে উঠছেন নিজের মেধা দিয়ে, বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা দিয়ে। জয়ের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবচে বড় সুবিধা হচ্ছে তিনি তারেক রহমানের ‘কিছু কিছু ভুল’ আর মেধাবী মাহী চৌধুরীর সিদ্ধান্তহীনতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেন।

ই-মেইল: mail@basbhumi.com

[ad#co-1]