‘অবাঞ্ছিত’ সিনহা ‘অনমনীয়’

মুন্সিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষে বিরোধ
মুন্সিগঞ্জে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলের দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। চলছে পাল্টাপাল্টি মিছিল, সমাবেশ, বিবৃতি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা। সর্বশেষ ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষিত হওয়ার পর যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান শিকদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে মিজানুর রহমান সিনহার নেতৃত্বে গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। এরপর থেকে দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল করে মহাসচিবের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়াও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রমতে, জেলায় বিএনপির একপক্ষে আছেন আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই। অন্যপক্ষে আছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলামের ছেলে যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, শাহজাহান শিকদার ও শমসের আলম ভূঁইয়া।

৮ অক্টোবর আহ্বায়ক কমিটি থেকে সিরাজুল হক ফকু ব্যাপারী, শমসের আলম ভূঁইয়া, আ. সালাম সরকার, মীর মোশারফ হোসেন ও মোশাররফকে বাদ দেওয়া হয়। তাঁদের পক্ষ নেওয়ায় শোকজ করা হয় যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান শিকদারকে। প্রদিবাদে গত শুক্রবার মিজানুর রহমান সিনহাকে মুন্সিগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শাহজাহান শিকদারের পক্ষ। ওই দিনের সমাবেশে শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করেন, সিনহা টাকার জোরে আহ্বায়ক হয়েছেন। ত্যাগী ও পরীক্ষিত পাঁচ নেতাকে আহ্বায়ক কমিটি থেকে বাদ দিলে দলে বিভেদ দেখা দেবে।

‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার পরদিন মিজানুর রহমান সিনহা ও আবদুল হাই দলীয় কার্যালয়ে সভা আহ্বান করেন। সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শিকদারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া ওই সভায় জেলার সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে এসব কমিটি গঠন করে জেলা সম্মেলন করারও সিদ্ধান্ত হয় সভায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই, শফি বিক্রমপুরী, মহিউদ্দিন খান, সরফত আলী, মমিন আলী, আবদুল কুদ্দুস ধীরেন, আলী আজগর, রিপন মল্লিক প্রমুখ।

মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে এমন কোনো কাজ করিনি, আমাকে মুন্সিগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হতে পারে। যাঁরা দলের ভেতরে থেকে দলীয় শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছেন, তাঁদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু যাঁরা সীমা লঙ্ঘন করছেন, তাঁদের প্রতি নমনীয়তা দেখালে তাঁরা ভাববেন আসলে আমরা দুর্বল।’

[ad#co-1]