অনুষ্ঠান বর্জনের পটভূমি স্পষ্ট নয়

দারিদ্র্য বিমোচন সম্মেলন : খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি
মিজানুর রহমান শেলী
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দারিদ্র্য বিমোচন সংক্রান্ত সম্মেলন কেন বর্জন করলেন, তার পটভূমি স্পষ্ট নয়। ধারণা করা যায়, তার সঙ্গে সরাসরি এবং তার সিনিয়র সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর এ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের জন্য পোস্টার ও কার্ড ছাপা হয়। সংসদের স্পিকার জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিরোধীদলীয় হুইপকে পাশে রেখে এ ঐতিহাসিক আয়োজনের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করেন। শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা শুধু দুঃখজনকই নয়, দেশবাসীকেও হতাশ করবে। যদি তেমন পূর্ব-আলোচনা ছাড়াই বিরোধীদলীয় নেত্রীর শনিবারের গুরুত্ব্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতির কথা প্রচার করা হয়ে থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা। বিরোধীদলীয় নেত্রীর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর সরকারি দমননীতি ও হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পথে এটি গুরুতর প্রতিবন্ধক বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের দাবি রাখে এবং সরকার নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচনায় নেবে। এসব অভিযোগ অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই; বরং তাতে বাস্তবতা যথেষ্টই রয়েছে বলে মনে হবে। দেশে সংসদীয় শাসন পদ্ধতি চালু হওয়ার পরও বিরোধী দলের প্রতি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত সুবিধা কোনো দলীয় সরকারের আমলেই দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের অভাব বরাবরই ছিল এবং এখনও রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিলে খালেদা জিয়ার প্রতিবাদী অবস্থানের যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় এবং অন্যান্য বিরোধী দলও একই ভাষায় তাদের মনোভাব ব্যক্ত করতে পারে। অতীতে আওয়ামী লীগও একই অবস্থান গ্রহণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে এসব বিষয় বিবেচনায় রাখতেই হবে।

দেশে সাংবিধানিক শাসন চালু রয়েছে। সুশাসনের প্রত্যাশা রয়েছে দেশবাসীর এবং তার প্রতি প্রধান দলগুলোর অঙ্গীকারেরও অভাব নেই। এজন্য বিরোধীদের বিভিন্ন দাবি ও সুপারিশ সরকারকে আমলে নিতেই হবে। খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, দারিদ্র্য বিমোচনের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমঞ্চে উপস্থিত হলে তেমন সমস্যা হতো কী? তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখলে দরিদ্র জনগণের ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টায় নতুন গতি সঞ্চার হতে পারত, এমনকি বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রেও তা সহায়ক হতো। তারা জনগণের কাছে তাদের প্রতি সরকারের আচরণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতেন। আমরা জানি, দারিদ্র্য এমন এক ব্যাধি, যা সব গুণ হরণ করে নেয়। এর চেয়ে বড় দূষণকারী আর কিছু হতে পারে না। আমরা এটিও জানি, বাংলাদেশে দারিদ্র্যচিত্র উদ্বেগজনক এবং এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হতে হলে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য। রাজনীতি যারা করেন, তাদের দিক থেকে এ অঙ্গীকারের কোনো বিকল্প আদৌ নেই।

হ চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ বাংলাদেশ এবং সাবেক মন্ত্রী

[ad#co-1]