শামসুল ইসলাম গ্রুপের ৫ নেতাকে বহিষ্কার ৯ জন অন্তর্ভুক্ত

মুন্সীগঞ্জ বিএনপির কমিটি
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার সঙ্গে আহ্বায়ক কমিটির জন্মলগ্ন থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দুই নেতার নীরব যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সীগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে শামসুল ইসলাম গ্রুপের ৫ নেতাকে গত শনিবার বহিষ্কার করা হয়েছে এবং সিনহা গ্রুপের ৯ নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত শনিবার ঢাকায় একটি হোটেলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদার মুন্সীগঞ্জ জেলার ৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে এক মিটিংয়ে মিজান সিনহাকে আহ্বায়ক কমিটি থেকে বাদ দিয়ে নিজে আহ্বায়ক কমিটি পরিচালনা করবেন বলে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দিন যতই যাচ্ছে মিজান সিনহা ও শামসুল ইসলাম গ্রুপের গৃহবিবাদ ততই বাড়ছে। দিন দিন একা হয়ে পড়ছেন মিজান সিনহা ও আবদুল হাই।

অন্যদিকে শামসুল ইসলাম গ্রুপের দিকে নেতাকর্মীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম ও তার অনুসারীদের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা কমিটির নেতাদের সিংহভাগই শামসুল ইসলাম গ্রুপে রয়েছে। অন্যদিকে আবদুল হাই সংস্কারপন্থী হওয়ায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ সদরের তিন আসনে বিএনপির পরাজয়ের পর আবদুল হাইকে মাঠপর্যায়ে বা দলীয় কার্যালয়ে তেমন একটা দেখা যায়নি অভিযোগ শামসুল ইসলামপন্থী নেতাকর্মীদের। জেলা কমিটির আহ্বায়ক মিজান সিনহা ২৫ জুন ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের জন্য পার্টির মহাসচিবের কাছে জমা দেন। কিন্তু পরদিন শামসুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সরাফত আলী শপু, শহর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিকদার, রহিমা সিকদার ১০ যুগ্ম আহ্বায়কের নাম অপরিবর্তিত রেখে পাল্টা আহ্বায়ক কমিটি জমা দেন।

এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। ঈদের কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দুই কমিটিকে খুশি রেখে ৮০ সদস্যবিশিষ্ট একটি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে তা অনুমোদন করে দেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন দুই গ্রুপের শীর্ষ নেতারা। আর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন শামসুল ইসলাম গ্রুপের ৫ নেতাকে ১০ জুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন থেকে বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃত ৫ নেতা হচ্ছেন শমসের আলম ভূঁইয়া, সিরাজুল হক ফক্কু বেপারি, আ. সালাম সরকার, মীর মোশারফ হোসেন, মোশারফ। মিজান সিনহা গ্রুপের যে ৯ নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা হচ্ছেন খলিলুর রহমান, গোলাম গাউস সিদ্দিকী, আহসান, মহিউদ্দিন আহমেদ, মাহাবুবুর রহমান, আতাউর রহমান মল্লিক, বকুল, রেনু ও অ্যাডভোকেট তোতা মিয়া।

ডেসটিনি
—————————————————————

মাইনাস ৫ প্লাস ৯ মুন্সীগঞ্জ বিএনপি কমিটি
যায় যায় দিন

মুন্সীগঞ্জ বিএনপির গৃহবিবাদ চরম আকার ধারণ করেছে। এরই ধরাবাহিকতায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে পাঁচজনকে বহিষ্কার ও নয়জনকে অর্ন্তভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সাবেক মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলামপন্থী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা পন্থীর মধ্যে জেলা কমিটি নিয়ে শুরু থেকে বিরোধ চলে আসছে। যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা শামসুল ইসলামপন্থী। অন্যদিকে অন্তর্ভুক্ত নয় নেতা হলেন মিজান সিনহা-আ. হাইপন্থী।

এর আগে বিবদমান দু’গ্রুপ দুটি পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেয়। পরে কেন্দ্র থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ৮০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে তালিকা পাঠানো হয়। এতে বিরোধ মেটেনি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও জেলা কমিটির একটি মিটিং ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জেলা বিএনপি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। শনিবার বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মুন্সীগঞ্জ বিএনপির কমিটি থেকে সংগঠনবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত থাকার কারণ দেখিয়ে পাঁচজনকে অব্যাহতি দেন। অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতারা হলেন শমসের আলম ভূঁইয়া, সিরাজুল হক ফক্কু বেপারী, আ. সালাম সরকার, মীর মোশারফ হোসেন এবং মো. মোশারফ। একইদিন মহাসচিব আবার নয়জন নেতাকে চেয়ারপারসনের নির্দেশ উল্লেখ করে জেলা বিএনপির কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। নতুন অন্তর্ভুক্ত নেতারা হলেন খলিলুর রহমান, গোলাম গাউস সিদ্দিকী, আহসান চেয়ারম্যান, মহিউদ্দিন আহমেদ, মাহাবুবুর রহমান, আতাউর রহমান মল্লিক, মো. বকুল, রেণু চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট তোতা মিয়া। বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪তে।

এদিকে ঢাকার একটি হোটেলে এম শামসুল ইসলামপন্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদারের নেতৃত্বে কমিটির ৪২ জনকে নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহাকে অব্যাহতি দিয়ে শাহজাহান সিকদারকে আহ্বায়ক করে জেলা কমিটিকে গতিশীল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শনিবার তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে জানানো হয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদার বলেন, যাদের জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তারা বিএনপির পরীক্ষিত নেতা। আর যে নয়জনকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা বির্তকিত। ওয়ান ইলেভেনের পর তারা সংস্কারপন্থী হিসেবে সক্রিয় ছিল, কেউ আবার জাতীয় পার্টিতে ছিল। এমনকি তারা আওয়ামী লীগের মঞ্চে গিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। জেলা কমিটি গঠনের আড়াই মাসের মধ্যে মিজানুর রহমান সিনহা জেলা কমিটির একটি মিটিং পর্যন্ত ডাকেননি। তার করণে জেলায় পার্টি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাকে পরিবর্তন করে নতুন আহ্বায়ক দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে দলকে গতিশীল করতে।

[ad#co-1]