ষ্টকহোমে হাবিব ও সাকোর প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান

1255102547_habibলিয়াকত হোসেন
৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টায় ষ্টকহোম ‘অসাজিমনাসিয়ম’ হলে অনুষ্ঠিত হলো সাউথ এশিয়ান অর্গানাইজেশন (সাকো) এর প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান। সাকো এর আগেও ষ্টকহোম দর্শকদের অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে তবে এবারের অনুষ্ঠানটি ছিল আরো পরিকল্পিত ও পরিণত। সাকো মূলত সাউথ এশিয়ান সংস্কৃতিও প্রবাসীদের সমন্নয় সাধন নিয়ে কাজ করছে। তবে এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ থেকে আগত বর্তমান সময়ের স্বনামধন্য গায়ক হাবিব ওয়াহিদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সংগঠনের সভাপতি আবুল মাকসুদ, সুইডিশ সংসদ সদস্য মেহমেট কাপলান, বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ ও সাকোর সভাপতি মমতাজ নাসরিন মহুয়া। বক্তারা সাকোর কার্যক্রমে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সুইডেনে বহুজাতিক সমাজ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বক্তৃতা গুলো প্রাণঞ্জল ও সংক্ষিপ্ত হওয়ায় দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেছেন।
এই পর্বের পর নৃত্যর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড এই পাঁচটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। নৃত্যে পরিবেশন করেন বৃন্দা, সুর্বণা, উৎপলা, এঞ্জেলী, শালিকা ও মারিয়া বার্যেজর নেতৃত্বে ‘নৃত্যদর্পন’ গোষ্ঠী। শুধু নৃত্য পরিবেশনই নয়, সে সঙ্গে নৃত্যর উপর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ননা অনুষ্ঠানটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
প্রথম পর্বের বিরতির পর অফুরন্ত হাততালির মধ্যে মঞ্চে আসেন সুকণ্ঠ গায়ক হাবিব ওয়াহিদ।
হাবিব ওয়াহিদ সুললিত কন্ঠে একের পর এক গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন পুরো অনুষ্ঠানটি। মঞ্চে কীবোর্ড ও ট্রেকের সঙ্গে একাই গান গেয়েছেন হাবিব, মনে হয় দু’একটি হ্যান্ডস থাকলে তিনি আরো ফ্রি হতে পারতেন ও মঞ্চ মাতিয়ে দিতে পারতেন আরো ভালো করে।
পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন বাংলায় ফারিয়া ও ইংরেজীতে ইবতেশাম হোসেন পিয়া। উপস্থাপনায় দু’জনই ছিলেন সাবলীল তবে পিয়া ছিলেন প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠানের আলোক সম্পাদনা ছিল ভালো। সর্বোপরি পুরো অনুষ্ঠানটি দর্শক-শ্রোতারা আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেছেন এবং সাবলীল একটি অনুষ্ঠান উপহার দেবার জন্য সাকো ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। অনুষ্ঠানের ষ্টীল ফটোগ্রাফার ছিলেন লিও আহমেদ।

অনুষ্ঠানের একটি ব্যাতিক্রমধর্মী দিক :
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবেশ মুখে দর্শকদের টিকেট থাকা সত্ত্বেও রাবার ষ্ট্যাম্প দিয়ে হাতে সীল লাগিয়ে দেয়া হচ্ছিলো। এদিকে অনেকে হলের ভেতরে এসে সীলটি ঘসে তুলেও ফেলেছেন। এই কার্যক্রমটির সুষ্ঠ কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য ও মাননীয় রাষ্ট্রদূতকেও এই সীলের আওতায় আনা হয়েছিল কিনা জানা যায়নি তবে দর্শক-শ্রোতারা এতে নিতান্ত বিরক্তিবোধ করেছেন।

ষ্টকহোম : ৯ই অক্টোবর