লালন শাহ বটতলা মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গ

lalon1চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘লালন শাহ বটতলা মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গ ১৪১৬’। গত ৫ ও ৬ অক্টোবর দু’দিনব্যাপী এ সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয় মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে মাতুব্বরবাড়ি দোসর পাড়া-টেকেরহাটে। সাধুসঙ্গে লালন জীবনী ও সাধনাবিষয়ক বয়ান ও লালনগীতি পরিবেশন করেন_ কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকাসহ দেশের নানা অঞ্চলের লালন সাধক ও ভক্ত-অনুসারীরা। এ বছরের লালন শাহ বটতলা মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ সাধক দরবেশ সাধন ফকির ও গুরুজীর দল আসন গ্রহণ ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

লালন শাহ বটতলা মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গ ও ধামের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘লালন সঙ্গীত স্কুল’। ৫ অক্টোবর এ স্কুলটি উদ্বোধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী, কানিজ আলমাস খান, উলফাত কাদের ও দরবেশ নজির শাহ। গত সোমবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় সাধু গুরুদের আগমন। বিকেল সাড়ে ৪টায় সাধু গুরুদের আসন গ্রহণ ও অধিবাস। এরপর পর্যায়ক্রমে মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গের নামকরণ কার্যাবলী ও বিধিবিধান জ্ঞাপন, জ্ঞানবৃক্ষ ফকির লালন সাঁইজির জীবলীলা স্মরণ, গুরুকর্ম ,সমবেত কণ্ঠে গুরুদৈন্য, দীন ডাকা ও চা-মুড়ি সেবা, হালকা নাশতা, দৈন্যগানের পর রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয় শিল্পীদের পরিবেশনায় লালন গীতির মূল আসর। চলে ভোর রাত পর্যন্ত। গত মঙ্গলবার গোষ্ঠগান, রুকর্ম, বাল্যসেবা, লালনগীতি, পূর্ণসেবার পর সন্ধ্যায় শুরু হয় দ্বিতীয় রাতের লালন গীতির মূল আসর। আর এ আসরের মাধ্যমেই শেষ হয় চতুর্থ লালন শাহ বটতলা মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গ।

এবারের লালন শাহ বটতলা মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গে লালন গীতি পরিবেশন করেন_ দরবেশ নহির শাহ, রাজ্জাক বাউল, টুনটুন বাউল, তকবির হোসেন শাহ, ছোট রব ফকির, সমির বাউল, রমজান ফকির, মোক্তার বাউল, আরিফ বাউল, বুড়ি ফকিরানী, আকলিমা ফকিরানী, শামসুল ফকির, পাগলা বাবুল, রিংকু, পলাশ, গোলাপী, ভারত থেকে আগত দরবেশ সাধন ফকির, তপন অধিকারী, সুমন্ত বাউল, ভজন দাস বৈরাগি। এছাড়া ছিলেন দরবেশ সাধন ফকিরের তিন জাপানীজ সঙ্গিনী।

মুন্সীগঞ্জ, সিরাজদিখান, মাতুব্বরবাড়ি, দোসরপাড়া, টেকেরহাট, ঢাকা এবং দেশের নানা জায়গার হাজারো লালন ভক্ত ও অনুসারীদের পদাচারণায় মুখরিত ছিল ইছামতি নদীর পাড়ের লালন শাহ বটতলা মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গ ১৪১৬।