হুমায়ুন আজাদ হত্যাচেষ্টা মামলা পুনঃতদন্তের আবেদন

humayunazad-225x300ঢাকা, অক্টোবর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যাচেষ্টা মামলা পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়েছে।

তার ভাই মঞ্জুর কবির মঙ্গলবার ঢাকার ১ নম্বর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ আবেদন করেন। বিচারক মো. এহ্সানুল হক আবেদনের আংশিক শুনানির পর আরও শুনানির জন্য আগামী ১৮ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্র”য়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে বাংলা একাডেমির উল্টো দিকের ফুটপাতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন বহুমাত্রিক লেখক আজাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এ অধ্যাপক কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট জার্মানিতে মারা যান।

মামলার পুনঃতদন্তের আবেদনে বলা হয়েছে, এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ বইটি লেখার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অথচ অধ্যাপক হুমায়ুনকে ‘হত্যা’র যারা মূল পরিকল্পনাকারী এবং যারা তাকে হুমকি দিয়েছিলো তারা আড়ালে থেকে গেছে।

আবেদনে বলা হয়, অপরাধী চক্র সুকৌশলে অধ্যাপক হুমায়ুনকে একটি বৃত্তি দিয়ে জার্মানিতে নিয়ে যায়। সেখানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

অধ্যাপক আজাদের ওপর হামলার পরদিন মঞ্জুর রমনা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি’র পরিদর্শক কাজি আব্দুল মালেক।

এতে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, তার ভাই আতাউর রহমান সানী, নূর মোহাম্মদ সাবু ওরফে শামীম, মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন ওরফে হামিম ও আনোয়ার আলম ওরফে খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদকে অভিযুক্ত করা হয়।

তবে অন্য মামলায় শায়খ রহমান ও সানীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তাদের এ মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি তিনজনের মধ্যে একমাত্র মিনহাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০০৪ সালের ১৩ মার্চ পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে ড. আজাদ বলেছিলেন, ২০০৩ সালের ২৩ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সংসদে দাঁড়িয়ে ‘পাকসার জমিন সাদ বাদ’ বইটির সমালোচনা করেছিলেন।

তিনি তখন তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, যারা আমার বই নিয়ে কটাক্ষ করেছে তাদের দিকে তদন্তে অগ্রসর হন।

বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ঢাকার একটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মঞ্জুর কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।