দেখে আসুন অতীশ দীপঙ্করের স্মৃতিস্তম্ভ

বোরহানউদ্দিন রাজু
অতীশ দীপঙ্করের কথা শুনলেই মনটা কেমন যেন গর্বে ভরে যায়। আর যখন ভাবি তিনি আমাদের এ বঙ্গেই জন্মেছিলেন তাহলে তো বলার আর কিছুই থাকে না। মুন্সীগঞ্জ জেলার তথা বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর যেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেখানে একটি মাত্র ভিটা রয়েছে যা ‘প-িতের ভিটা’ নামে সবার কাছে সুপরিচিত। ঢাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে গেলে শ্রীজ্ঞান অতিশ দীপঙ্করের স্মৃতিস্তম্ভটি চোখে পড়বে। এ স্তম্ভের দিকে তাকালে গর্বে বুক ভরে যায়। ২০০৪ সালে চীনের আর্থিক সহযোগিতায় তিব্বতীয় মডেল অনুকরণে এ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার তথা বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্মৃতিকে চিরঞ্জীব করে রাখার জন্য বজ্রযোগিনী গ্রামে স্থাপিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। দীপঙ্করের বাবা ছিলেন তৎকালীন রাজা কল্যাণশ্রী ও তার মায়ের নাম ছিল প্রভাবতী। বাল্যকালে বাবা-মা তার নাম রাখেন চন্দ্রগর্ভ। পরে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর নামে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। দীপঙ্কর প্রায় ১২ বছর তিব্বতে বাস করে তিব্বতের বিভিন্ন প্রদেশ পরিদর্শন করে বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্রতা ও প্রকৃতি ধর্মতত্ত্ব জনগণের মধ্যে প্রচার করেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে দীপঙ্কর সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন প-িত হন। বিদ্যা শিক্ষার জন্য দীপঙ্কর সুবর্ণদ্বীপ পর্যন্ত যান। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি বিক্রমশীলা বিহারের অধ্যক্ষ হন। দীপঙ্কর বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন এবং তিনি ১০০টি ধর্ম সম্পর্কিত উপদেশ দিয়েছেন। তার লিখিত কয়েকটি পুস্তকের নাম হচ্ছে বোধিপথ-প্রদীপ, চর্যা সংগ্রহণ প্রদীপ, মধ্যমোপদেশ, সংগ্রহ গর্ভ, বর্ণ বিভঙ্গ, পুরুক্রিয়ক্রম ইত্যাদি। দীপঙ্কর উপদেশপূর্ণ যে পত্র লেখেন তা বিমল রতœ নামে পরিচিত।
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ছিলেন উপমহাদেশের সবচেয়ে জ্ঞানী বৌদ্ধ প-িত। তিনি বাংলাদেশের মানুষের গর্ব। তার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প-িতরা বাংলাদেশকে বিশেষ শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।ভক্তদের মুখে উচ্চারিত হয় শ্রীজ্ঞান অতীশ গিরিপর্বত চরে ছড়াল জ্ঞান মানবের তরে।

One Response

Write a Comment»
  1. very nice!!