মুন্সীগঞ্জ বিএনপি’র দুই গ্রুপ মুখোমুখি

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র বিরোধ বিভেদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ এখন মুখোমুখি। সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম ও সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, সাবেক এলজিআরডি উপমন্ত্রী আবদুল হাই গ্রুপ আলাদা হয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। শামসুল ইসলামের স্নেহভাজন জেলা বিএনপি’র প্রবীণ নেতা ও যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদার তরুণ উদীয়মান নেতা জেলা ছাত্রদলের সাবেক দুই সভাপতি ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান, কাজী আবু সুফিয়ান কাজী বিপ্লবকে সঙ্গে নিয়ে জেলা শহরে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই। আবদুল হাইয়ের পক্ষে রয়েছেন গত বিএনপি সরকারের আমলে দলের ডজনখানেক নেতাকর্মী। দলীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা এখন শাহজাহান সিকদারের নেতৃত্বে কাজ করছেন। আর শাহজাহান সিকদারকে শেল্টার ও কেন্দ্রীয়ভাবে কলকাঠি নাড়ছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম। ২৯শে ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই শহরের থানারপুল চত্বরের জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান সিকদার গ্রুপের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। ঈদের আগে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ৮০ সদস্য বিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। গত ২৬শে জুন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি জমা দেন তা অনুমোদনের জন্য। পরে উভয় কমিটি থেকে নাম বাছাই করে এবং জমা দেয়া কমিটির বাইরে থেকে নতুন কয়েকজন নেতার নাম সংযোজন করে বিএনপি’র মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ৮০ সদস্য বিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। অনুমোদনকৃত স্বাক্ষরের জায়গায় তারিখ নেই। জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর গত শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ শাহজাহান সিকদারের নেতৃত্বে তার গ্রুপের নেতাকর্মী-সমর্থকরা পার্টি অফিসে ঢুকে হল বুঝে নেয়। আয়োজন করেন তাৎক্ষণিক এক আলোচনা সভার। এ সময় মিজানুর রহমান সিনহা ও আবদুল হাই গ্রুপের নেতাকর্মীরা ছিলেন অনুপস্থিত। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদার, সদস্য সাইদুর রহমান, আবু সুফিয়ান কাজী বিপ্লব, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোতালেব সরদার, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন প্রমুখ। এ সময়ে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহর বিএনপি’র সভাপতি শাহজাহান সিকদার বলেন, দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা নিরপেক্ষ নন। আহ্বায়ক নিজেই দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। দলীয় মিটিং দলীয় অফিসে হওয়া উচিত। অথচ তার বাড়িতে তার অনুসারীদের নিয়ে মিটিং করেছেন। বলেন, আবদুল হাই সুস্থ রাজনীতি না করলে তাকে আর এ অফিসে ঢুকতে দেয়া হবে না। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা জীবনভর পরিশ্রম করবে। আর উনি মুন্সীগঞ্জে নমিনেশন না পেয়ে তার অনুসারীদের আওয়ামী লীগে ভোট দিতে বলছেন, নানা অপকর্ম করবেন তা হবে না। বিএনপি করে আওয়ামী লীগকে কারা ভোট দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। তাদের সদস্য ফর্মও দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি দেশ। বিএনপি’র দিকে চেয়ে আছে দেশের মানুষ। বিএনপি ক্ষমতায় না গেলে এই দেশে তাঁবেদারি বন্ধ হবে না। সাবেক মন্ত্রী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, তাদের মিটিং সম্পর্কে আমি জানি না। অনুমোদিত আহ্বায়ক কমিটি সম্পর্কে সন্তুষ্ট কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর মতামত ব্যক্ত করবো।