গজারিয়ায় ২০ দিনে ২৬টি নৌডাকাতি ও চাঁদাবাজি

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনার নদীতে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েই চলেছে। উপজেলার টান বলাকী, ভাটি বলাকী, ভবানীপুর, রঘুরচর, ইসমানিরচর গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ২০ দিনে ২৬টি ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর এসব স্থান দিয়ে যাতায়াতের সময় কয়লা, গুড়, পাথর, ডাল, তেল, লবণ, বালুভর্তি কার্গোসহ অন্যান্য মালবাহী কার্গো জাহাজে রাতের আঁধারে ডাকাতি ও দিনের বেলা চাঁদাবাজি চলে আসছে। তবে ঈদের আগ থেকে ডাকাতির ভয়াবহতা বেড়েছে। গত রোববার উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক ও হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আ. মতিন ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে বালুবাহী কার্গো শান্তা সাগর-২-এ হামলা চালিয়ে ডাকাতেরা কার্গোর মাস্টারকে কুপিয়ে জখম করে সাত হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোনসেট লুট করে। ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভাটি বলাকীর মোড়ে রামচন্দ্রপুরগামী দুটি ময়দাভর্তি নৌযানে হামলা চালিয়ে পাঁচ হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোনসেট লুট করে ডাকাতেরা। এ সময় হামলায় চারজন আহত হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কয়লা ও লবণভর্তি দুটি কার্গোতে হামলা চালিয়ে ডাকাতেরা তিনজনকে আহত করে লুটে নেয় ১৬ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোনসেট। ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ভবানীপুর এলাকায় পাথরভর্তি দুটি কার্গোয় হামলা করে ডাকাত দল দুজনকে আহত করে লুটে নেয় তিন হাজার টাকা। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত তিনটায় কার্গো জাহাজ মোহাম্মদীয়া, মিরাজ ও ওসমান গনি থেকে নগদ ১৭ হাজার টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোনসেট লুটের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ভবানীপুর, ইসমানিরচর ও ভাটি বলাকীর মোড়ে ডাকাতির ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ডাকাত দল নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক নৌডাকাতি ও চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সফিকুল ইসলাম জানান, যথাযথ পদক্ষেপ নিতে গজারিয়ার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হবে।