হাবিবের দিক বদল

ধানমণ্ডি সাত নম্বর রোডের ওয়াহিদ একাডেমি অব মিউজিক এখন অনেকেরই চেনা। এর কর্ণধার গায়ক ফেরদৌস ওয়াহিদ। করিডোরের ভেতরেই মূল ভবনের দেয়ালের পাশ ঘেঁষে ফেরদৌস তনয় হাবিবের ছিমছাম স্টুডিও। স্টুডিওতেই নিজের আলাদা একটা জগত তৈরি করেছেন হাবিব। কাজের ফাঁকেই তার সঙ্গে কথা হয়। হাবিব বলেন, নিজেকে যত বেশি আলাদা করা যাবে, তত বেশি গান নিয়ে ভাবতে পারব। যদিও যোগাযোগোর সহজলভ্যতার হাতিয়ার মোবাইলের কারণে পিওরভাবে মিউজিকের মাঝে ঢুকে যাওয়াটা ভেরি ডিফিকাল্ট। একদম যদি আলাদা হয়ে যাই, তাহলেও মানুষজন মাইন্ড করে। সেজন্য তাও করতে পারি না। হাবিবের কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরে আসে। তাই বলে তিনি ফ্রাস্ট্রেটেড? অনেকটা তা-ই। তবে ধরনটা ভিন্ন। হাবিব বলেন, আমাকে ক্রিয়েশনের ফ্রাস্ট্রেশনটা মাঝে মাঝে ধরে। দেখা গেছে খুব চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু ফিলটা ঠিকমতো বের করতে পারছি না। এ কারণেই ফ্রাস্ট্রেশনটা হয় এবং তা জিঙ্গেলের ক্ষেত্রেই বেশি। কারণ জিঙ্গেলে অতি শর্ট টাইম থাকে। একটা ডেট লাইনের মধ্যে কাজটা শেষ করে দিতে হয়। যার কারণে সাংঘাতিক একটা চাপের মধ্যে থাকি। আবার এটাও ঠিক, যেই সুরটা দরকার সেটা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বের হয়ে আসে আমার।

তারুণ্যদীপ্ত এই গায়কের ক্যারিয়ারের বয়স ছয় বছর। সুর সড়কে পথচলা শুরু করেছিলেন মূলত রিমেইক গানের ওপর ভর করে। গানের বারোটা বাজালোরেঃ এমন অভিযোগে নিন্দুকেরা তখন তার দিকে অভিযোগের আঙ্গুলও তুলেছিলেন। তবে বিব্রত হলেও হাবিব এতে মচকে যাননি। ভিন্ন সুরের চিন্তা এবং সৃজনীশক্তি প্রয়োগে ছিলেন অবিচল। মনোনিবেশ করলেন মৌলিক গানে। একঘেঁয়ে সুর আর গায়কী ঢঙের বৃত্তে চিড় ধরালেন। শ্রোতাদের দিতে শুরু করলেন ভিন্ন মেজাজের গান। ‘আসলে আমি রিমেইক গান করেছি সেইসব গানের প্রতি ভালবাসার কারণে। আর শ্রোতারাও তা খুশি মনে গ্রহণ করেছেন। মাঝখানে কিছু মানুষ বলে বেড়াচ্ছিল আমি নাকি কমার্শিয়ালি বেনিফিটেড হচ্ছিলাম। হ্যাঁ, এমন অভিযোগ করতে পারত, আমার যদি রিমেইক গান ছাড়া মৌলিক গান করার যোগ্যতা না থাকত। গায়ক হিসেবে আমার প্রসারতা যে মৌলিক গানেই বেশি হয়েছে এদিকটি কেউ একবার কি ভেবে দেখেছে!’ বিস্ময়ী জিজ্ঞাসা আত্মবিশ্বাসী হাবিবের। নিজের ঢোল নিজে পেটাতে ওস্তাদ এমন সঙ্গীতবোদ্ধাদের কাছে এর সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে এই প্রজšে§র গানপ্রিয় শ্রোতাদের ঠিকই হাবিব ভাবনায় ফেলে দিয়েছেন। মৌলিক অ্যালবাম ‘শোনো’ এবং ‘বলছি তোমাকে’তে শ্রোতারা পেয়েছিলেন অন্য এক হাবিবকে। এরপর ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আমার আছে জল’, ‘থার্ডপারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ প্রভৃতি ছবিতে নিজেকে নিজেই ভাঙলেন আবার গড়লেন।

অনেকদিন হয় রিমেইক গান করছেন না। তাহলে কি আর রিমেইক করবেন না? প্রশ্ন ছিল হাবিবের কাছে। রিমেইক গান করতে গেলে ঝামেলায় পড়তে হয়। যে গানগুলো আমি পছন্দ করি দেখা গেছে সেই গানগুলোর স্বত্ব¡াধিকারী দাবি করেন একাধিক ব্যক্তি। আমি বেনিফিটেড করব একজনকে। একাধিক ব্যক্তিকে তো লাভবান করা সম্ভব নয়। যার কারণে এখন আর খুব একটা সাহস পাই না। এরপরেও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার কারণে আগামী কোরবানি ঈদকে টার্গেট করে কায়া এবং হেলালের একটা দ্বৈত অ্যালবাম করার চিন্তা করছি। যদি তারা (প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান) গানের রাইটসের ব্যাপারটা সামলাতে পারে, তাহলেই করব জানালেন হাবিব।

প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে বিয়ের চ্যাপ্টার। মনের ওপর ছেড়ে দিলেন পুরো ব্যাপারটি। তিনি বলেন, বিয়েটা আসলে আমার মনের ওপর নির্ভর করছে। দেখা গেল আজই ঠিক করে ফেললাম বিয়ের তারিখটি। ঠিক দুই দিন পরেই মনে হলো না বিয়েটা যত দেরিতে করা যায়, ততই ভালো। আর মডেলকন্যা মোনালিসার সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারটি নিয়ে সরাসরি এইটুকু বললেন, ও আমার ভালো বন্ধু। ‘দিন গেল’ মিউজিকভিডিও নির্মাণের সূত্র ধরেই তাদের চেনাজানা হয়েছে।

তার সঙ্গে কথা বলার আগ পর্যন্ত তিনি ব্যস্ত ছিলেন ‘এইতো প্রেম’ ছবির মিউজিক নিয়ে। জানালেন ভিন্ন কিছু হতে যাচ্ছে এই ছবির গান। তিনি আশাবাদী এই ছবির গানগুলো নিয়ে। তবে কতটুকু সফল হবেন না হবেন, তা জানতে হলে আসন্ন রোজার ঈদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই ছয় বছরের ক্যারিয়ারে নিন্দুকেরা তার বিরুদ্ধে রিমেইকের অভিযোগ তুলেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, এখন আবার নতুন অভিযোগ সংযুক্ত হয়েছে যে, তিনি চ্যানেলগুলোর লাইভ অনুষ্ঠানে খালি গলায় গান গাইতে চান না। হাবিব বলেন, আমি গিটারে গান গাইতে পারি না। আমি বাজাই কিবোর্ড। এটা জানার পরেও যখন কোনো অনুষ্ঠানে দেখি গিটারই বরাদ্দ, তাহলে গান করব কীভাবে? এখন কোনো চ্যানেল যদি বলে ভাই আমাদেরতো গিটার নাই আপনি আসার সময় কিবোর্ডটা নিয়ে আসবেন, সেটা বললেও পারে। এমন অভিযোগের কোনো মানে হয় না।

কথায় কথায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়। হাবিবেরও মনে ‘এইতো প্রেম’ ছবির অডিও ট্র্যাক সারার তাগিদ। ইস্তফা দিলেই বসে পড়বেন কাজে। এই স্টুডিও ঘরে বসেই তিনি দিনের পর দিন বোনেন নিত্যনতুন সব সুরের জাল। গড়ে তোলা বিশাল শ্রোতাগোষ্ঠীর ভালবাসা ধরে রাখতে তিনি এখন বদ্ধ পরিকরঃ।

[ad#co-1]