সংবাদ সম্মেলনে হামিদুল্লাহ খান সাজেদা চৌধুরীর মন্তব্য অশোভন

hamidullah-150x76বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেননি বলে দেয়া সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান বীরপ্রতিক। বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় কলকাতায় অবস্থানকারী মহিলা নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মুখে জিয়াউর রহমানের যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করাটা বাস্তবিকই অশোভন। গতকাল দুপুরে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। হামিদুল্লাহ খান জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ২৫শে মার্চ রাতে জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করার পর থেকেই যুদ্ধ শুরু করে দেন। প্রথমে তিনি দু’জন পাকিস্তানি নেভাল অফিসার ও ছয়জন নৌ সেনাকে আত্মসমর্পণ করিয়ে সেনাসদস্যদের হাতে তুলে দেন।

নিজে কমান্ডিং অফিসারের জিপ নিয়ে লে. কর্নেল জানজুয়াকে ঘর থেকে বের করে নিষ্ক্রিয় করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কেএম শফিউল্লাহ তার বই ‘বাংলাদেশ অ্যাট ওয়ার’-এর ৪০-৪৬ পৃষ্ঠায় জিয়ার যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনের বিবরণ দিয়েছেন। সে বিবরণে উল্লেখ আছে, কুমিরায় ২৪ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সকে এ্যাম্বুস করলে পাক বাহিনীর লে. কর্নেল শাহপুর সহ ১৫২ জন পাকিস্তানি সৈনিক মারা যায়। দুই ট্রাক গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। শহীদ হন ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। এরপর তিনি বোয়ালখালীর গোমদণ্ডিতে বিএন হেড কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা করে ২৯-৩১শে মার্চ কালুরঘাট যুদ্ধ করেন। এতে প্রচুর শত্রু সেনাসহ দু’জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। পরে ১১ই এপ্রিল তিনি ত্রিপুরার সাবরুমে সেক্টর হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন। হামিদুল্লাহ খান বীরপ্রতিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেয়ায় জিয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র তীব্র হয়ে উঠলে জেনারেল ওসমানী ১ নম্বর সেক্টর মেঘালয়ের তেলঢালায় স্থানান্তর করতে জিয়াকে নির্দেশ দেন। তবে জিয়া আপত্তি করে ১০ই জুন পর্যন্ত সাবরুমেই অবস্থান করেন। ১৫ই জুন জিয়া বিদ্যুৎ গতিতে তৎপর হয়ে সমগ্র ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং রৌমারী-রাজিবপুরের বিরাট মুক্তাঞ্চল নিয়ে ১১ নম্বর সেক্টর গঠন করেন। গড়ে তোলেন আটটি সাব সেক্টর।

এ সময় তিনি ছালিয়া পাড়ায় দু’টি ও কোদালকাটির যুদ্ধ করেন। ১১ নম্বর সেক্টরে কর্নেল তাহের ও হামিদুল্লাহ খান পৌঁছানোর আগে জিয়া অহর্নিশি অপারেশন পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের এ সেক্টর কমান্ডার বলেন, ১৭ই জুলাই জেড ফোর্স গঠনের আগে ও পরে জিয়া ১১ নম্বর সেক্টরে অসংখ্য গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন। ৩১শে জুলাই জেড ফোর্সের নেতৃত্বে কামালপুর ঘাঁটি আক্রমণ করা হলে ৬৭জন মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন। ৩রা আগস্ট জেড ফোর্সের নিয়মিত বাহিনী পাক বাহিনীর ঘাঁটি গজনী, বাহাদুরাবাদ ঘাট আক্রমণ পরিচালনা করেন। ৫ই অক্টোবর জেনারেল ওসমানীর নির্দেশে সিলেটে মেজর শওকত আলী ও মেজর সি আর দত্তকে সহযোগিতা করতে জিয়াউর রহমান সিলেট যান। সেখানে তিনি সিলেট শহর গোয়াইন ঘাট, ধামাই চা বাগান, চারগ্রামের খেল ও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।

১০ই অক্টোবর মেজর তাহেরকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহকে মুক্তাঞ্চলসহ কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধার অধিনায়কত্ব দেন জিয়া। জেড ফোর্স গঠনের পরও দীর্ঘদিন তিনি ১১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। এ ব্যাপারে জেড ফোর্সের ৩ বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের কমান্ডার মেজর শাফায়েত জামিলের বই ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত অসংখ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। হামিদুল্লাহ খান বলেন, জিয়াউর রহমান যখন দুর্গম মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চল ও আসামের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থান করে যুদ্ধ করছেন তখন পুরো মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস বর্তমান সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী কলকাতার ৩ নম্বর সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ’র পার্ক সার্কাসের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই বাসার ফোন নম্বর ছিল ৪৪-৪০৬৭। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় অবস্থানকারী সে মহিলা নেত্রীর মুখে জিয়াউর রহমানের যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করাটা বাস্তবিকই অশোভন।

[ad#co-1]